সয়াবীন, জাতের নাম: সোহাগ

বৈশিষ্ট্য :
১। গাছের উচ্চতা ৫০-৬০ সে.মি.
২। শুটির সংখ্যা ২৫-৩৫
৩। বীজের রং ক্রিম ও ১০০ বীজের ওজন ১১-১৪ গ্রাম
৪। পাতার হলদে মোজাইক রোগ সহনশীল
৫। জীবনকাল: রবি মৌমুমে ১০০-১১০ দিনএবং খরিফ মৌসুমে ৯০-১০০ দিন
উপযোগী এলাকা  : সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল
বপনের সময়  : পৌষ মাস (রবি). শ্রাবণ – ভাদ্র (খরিফ)
মাড়াইয়ের সময়:  বপনের ৯০-১২০ দিন সময়ের মধ্যে কাটার উপযুক্ত হয়
বীজ/চারার হার: প্রতি হেক্টরে ১০০ কেজি, একর প্রতি ৪০ কেজি খোসা সহ বীজ প্রয়োজন
বপন/ রোপনের দূরত্ব: সয়াবীন সারিতে বপন করা উত্তম। সারিতে বপন করলে সারি থেকে সারির দূরত্ব রবি মৌসুমে ৩০সেমি এবং খরিফ মৌসুমে ৪০ সেমি রাখতে হয়। গাছ থেকে গাছের দূরত্ব ৫-৬ সেমি রাখতে হয়
ফলন: প্রতি হেক্টরে ১.৫০-২.০০ টন

 রোগবালাই ও দমন ব্যবস্থা

 রোগবালাই: 
১। হলুদ মোজাইক রোগ
২। কান্দ পঁচা রোগ
 দমন ব্যবস্থা: 
হলুদ মোজাইক রোগঃ
১। সহনশীল জাতের চাষ
২। সুস্থ, সবল, জীবাণুমুক্ত বীজ বপন করতে হবে।
৩। আক্রান্ত গাছ তুলে ফেলতে হবে।
৪। বাহক পোকা (সাদা মাছি) দমন করতে হবে। আক্রান্ত জমিতে মেলাথিয়ন কীটনাশক (২ মিঃলিঃ /লিটার পানি) মিশিয়ে স্প্রে।
কান্ড পঁচা রোগ:
১। বীজ শোধন
২। জমি পরিষ্কার করণ
৩। গভীর চাষ

 পোকামাকড় ও দমন ব্যবস্থা

 পোকামাকড়: পাতা মোড়ানো পোকা, বিছাপোকা, সাধারণ কাটুই পোকা
 দমন ব্যবস্থা: 
পাতা মোড়ানো :
হাত বাছাই + সেক্স ফেরোমন + ব্রাকন ও ট্রাইকোগ্রামা এর সমন্বিত ব্যবহার করলে সফলভাবে এ পোকাগুলি দমন করা যায়।
বিছা পোকা : 
১। প্রতি বিঘায় ৮-১২টি গাছের ডাল বা কঞ্চি পুঁতে দিলে পোকাভোজী পাখি কীড়া খেয়ে দমন করতে পারে।
২। আক্রমণ খুব বেশি হলে রিপকর্ড ১০ ইসি বা পারফেকথিয়ন ৪০ ইসি ২০ মিলি (৪মুখা) প্রতি ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে আক্রান্ত ক্ষেতে ১০ দিন অন্তর ২ বার স্প্রে করে ও পোকা দমন করা যায়।
সাধারণত কাটুই পোকা :
১। প্রতি বিঘায় ৮-১০ টি ডাল পুঁতে দিলে এ পোকার দমন করা যায়।
২। চারা অবস্থায় ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করতে হবে।
৩। আক্রমণ বেশি হলে SNPV ০.২-০.৪ গ্রাম প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে ২ বার স্প্রে করতে হবে।
৫। ট্রেসার ০.৪ মিলি প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করলে এ পোকার আক্রমণ হতে রেহাই পাওয়া যাবে।

 সার ব্যবস্থাপনা

সারের মাত্রা হেক্টর প্রতি ইউরিয়া ৫০-৬০কেজি, টিএসপি ১৫০-১৭৫কেজি, এমপি ১০০-১২০কেজি, জিপসাম ৮০-১১৫কেজি। এছাড়া সার সমূহের সাথে পঁচা গোবর অথবা কম্পোস্ট হেক্টর প্রতি ২০ টন হারে জমিতে প্রয়োগ করলে ফলন বৃদ্ধি পায়।

প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন।

We will be happy to hear your thoughts

Leave a Reply

শখের কৃষি
Logo
Reset Password
Shopping cart