হাইড্রোপনিক

সহজ ভাষায় হাইড্রোফনিক

অনেকদিন ধরে hydrophonics নিয়ে সহজ ভাষায় লিখবো ভবছিলাম।শুরুটা হয়েছে ??

একদিকে জনসংখ্যার বৃদ্ধি অন্য দিকে আবাদি জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে। এই অধিক জনসংখ্যাকে খাদ্যের যোগান এবং এদেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে হলে বাড়াতে হবে উৎপাদনের পরিমাণ। তাই চাহিদা পূরণের জন্য ভিন্নধর্মী খাদ্য উৎপাদন আজ জরুরি হয়ে পড়েছে। এই চিন্তাকে সামনে রেখেই জমিতে উন্নত প্রযুক্তির হাইড্রোফনিক চাষের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন করা যায় কিনা সেই চেষ্টা করছে সারা দুনিয়া!!

সেখানে আমরা কেন পিছিয়ে থাকবো?????

চলুন মাঠে নামার আগে ব্যাপারটা clearly ও easily বুঝে নেই

অবস্যই নিজের ভাষায় সহজ করেই বলার চেষ্টা করবো।

প্রথমেই আলোচনা করা যাক “হাইড্রোফনিক কী”, তা নিয়ে।

Hydrophonics শব্দটা English হলেও এটার জন্ম দুটো গ্রিক শব্দ থেকে।(সচরাচর যেমন হয় আরকি ?) শব্দ দুটি হলো “Hydro” ও “phonic”। সবাই জানেন হয়তো, “Hydro” মানে “পানি” আর “Phonic” মানে লেবার বা শ্রম।আসলে এক কথায় হাইড্রোফোনিক বলতে মিনারেল/ পুষ্টি উপাদান মিশ্রিত পানিতে চাষাবাদ করার ( বিশেষ করে সবজী ও মেলন টাইপের লতানো ফলগাছ) পদ্ধতিকে বোঝানো হয়,যেখানে মাটির কোন সংস্পর্শ থাকেনা।

এবার একটি ইতিহাস পড়ি চলুন ?

না এ ইতিহাস মোঘল সাম্রাজ্যের সাম্রাজ্য দখলের কোন ইতিতাস না।এটা hydrophonics এর ইতিহাস।??

1933 সালেই মুলত Hoagland সর্বপ্রথম hydrophonic এর nutrient solution তৈরী করেন ও এভাবে মাটিবিহীন চাষের ধারনা নিয়ে আসেন এবং সফল হন।যদিও Dr William Gericke 1940 সালে এর নামকরণ hydrophonics করেন।
এরপর সবচেয়ে সুন্দর উদাহরণ খুজলে চলে আসে ব্যাবিলনের ঝুলন্ত বাগান ও চায়নার ভাসমান বাগান Hydrophonic এর সবচেয়ে সুন্দর উদাহরণ। সেই ১৯৫০সাল থেকেই বিজ্ঞানীরা ব্যাপকহারে মাটিবিহীন চাষের সপ্ন দেখতে থাকেন।এরপর সূচনা হয় নতুন দিগন্তের।হল্যেন্ড,অস্ট্রেলিয়া,জার্মানিরর বিজ্ঞানীরা ব্যাপক সফলতার সাথে hydrophonics ব্যবহার করে সবজী চাষ করে।

এবার চলুন দেখি কেন মাটিবিহীন চাষাবাদে আমাদের এত আগ্রহ।

১)

প্রথমেই অতিরিক্ত জনসংখ্যার কারনে খাদ্য চাহিদা বৃদ্ধির পাশাপাশি কৃষি জমির ঘাটতিজনিত সমস্যার কারনে ক্রমবর্ধমান জনগনের খাদ্য চাহিদা পুরনের জন্য ফসলের জমি না থাকলেও যেন জনবহুল দেশে যেখানে স্বাভাবিক চাষের জমি কম সেখানে ঘরের ছাদ, পলি টানেল, নেট হাউসে হাইড্রোফনিক পদ্ধতিতে সবজি ও ফল উৎপাদন করে ঘাটতি কমানো যায় তার সবচেয়ে সুন্দর সমাধান hydrophonics

2)যেহেতু পানিতে নিয়ন্ত্রিতভাবে পরিমানমত পুষ্টিউপাদান সরবরাহ করা হয় তাই ফলন হয় মাটিতে চাষের কয়েকগুন বেশি।

৩) যেহেতু এ পদ্ধতে কোন মাটির সংস্পর্শ নেই তাই মাটি থেকে যেসব রোগবালাই ছড়ায় তা ছড়াবার সম্ভাবনা কম ফলে সেসব রোগের কিটনাশকও ব্যাবহার করা লাগেনা।যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।

৪) growing media রিসাইকেল করে পুনরায় ব্যাবহার করা যায় যার ফলে খরচের ব্যাপার নিয়েও চিন্তায় পরতে হয় না।

৫) এ উপায়ে সারাবছর চাষাবাদ করা যায় যেহেতু একটা সেড এর নিচে করা হয়।

৬)কম জায়গায় অধিকফলন পাওয়া যায়।

৭)পরিবেশবান্ধব।

৮)ব্যাপক কৃষি জমি থাকলেও অনেক সময় দেখা যায় সেখানকার মাটি খুবই অনুর্বর,রুক্ষ,লবণাক্ত। সে জায়গায় মাটিতে চাষ না করে hydrophonics পদ্ধতিতে চাষ করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়।যেমন সিডর ও আইলার জন্য আমাদের বিশাল একটা এরিয়ার মাটি এখন লবনাক্ত ও রুক্ষ।চাষাবাদ বন্ধ না করে আমরা হাইড্রোফনিক্স পদ্ধতিতে চাষ করলে ব্যাপক ফলন পাবো।

এরকম আরো অনেক কারণ আছে যার জন্য hydrophonics এর প্রতি আমাদের এত আগ্রহ।

চলবে………ঘোড়াশাল এগ্রো ফার্ম এন্ড বার্ড ফেয়ার।

We will be happy to hear your thoughts

Leave a Reply

Logo
Reset Password
Compare items
  • Total (0)
Compare
0