সবজি ফসলঃ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট

বাংলাদেশে ৯০ টির অধিক বিভিনড়ব ধরনের সবজির চাষ হয়ে থাকে। সুস্থ সবল জীবনের জন্য প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণ বিভিনড়ব ধরনের সবজি খাওয়া অপরিহার্য। কারণ জীবন ধারণের জন্য অত্যাবশ্যক ভিটামিন ও খনিজের অন্যতম উৎস হল সবজি। এছাড়াও সবজিতে পর্যাপ্ত পরিমাণ শর্করা ও পানি বিদ্যমান। পুষ্টিবিদগণ দৈনিক মাথাপিছু ২২০ গ্রাম সবজি খাওয়ার পরামর্শ দেন। বাংলাদেশে বর্তমানে দৈনিক মাথাপিছু সবজি গ্রহণের পরিমাণ প্রায় ৫৫ গ্রাম (বিবিএস, ২০১৩) যা অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে প্রায় চার ভাগের ১ ভাগ। বাংলাদেশে ২০১৫-১৬ বছরে ৫.২৭৮ লক্ষ হেক্টর জমিতে ১০৭.৩০ লাখ মে. টন সবজি উৎপাদিত হয়। সবজি ফসলের উনড়বত জাতের অভাব ও আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তি ব্যবহার না করার ফলে বাংলাদেশে হেক্টর প্রতি সবজির ফলন উনড়বয়নশীল দেশসমূহের চেয়ে অনেক কম। বাংলাদেশে উৎপাদিত সবজির মধ্যে বেগুন, টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, বরবটি, মুলা, লাউ, পটল, কচু, মিষ্টিকুমড়া, চালকুমড়া, করলা, চিচিঙ্গা, ঝিঙ্গা, শসা, ঢেঁড়স, লালশাক, ডাঁটা, পুঁইশাক, ইত্যাদি উলেখযোগ্য।

সবজি ফসল

 

 

সবজি নিয়ে সাধারন কিছু ভিডিও দেখে নিন

আর সবজির সেই চাহিদা পূরণে সবজির উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য উচ্চ ফলনশীল জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উনড়বত জাতের অভাব, রোগ ও পোকার আμমণ, প্রতিকূল আবহাওয়া যেমন, অতিবৃষ্টি, খরা, বন্যা ইত্যাদি সবজি চাষের প্রধান অন্তরায়। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এ পর্যন্ত মোট ৩৩ টি সবজির ১০০টি উনড়বত জাত, প্রধান প্রধান সবজির উনড়বত উৎপাদন প্রযুক্তি, গ্রী®ম মৌসুমে সবজির আবাদ এবং বীজ উৎপাদনের প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক উদ্ভাবিত এসব উনড়বত সবজির জাত ও প্রযুক্তি এ লক্ষ অর্জনে বিরাট সহায়ক ভূমিকা রাখছে এবং ভবিষ্যতেও রাখবে একথা নিশ্চিত করে বলা যায়। বারি এযাবৎ ২৯ টি টমেটো জাত উদ্ভাবন করেছে যার মধ্যে ১০ টি হাইব্রিড জাত রয়েছে। সাম্প্রতিক উদ্ভাবিত জাতের মধ্যে বারি টমেটো ১৪, ১৫, ১৬, ১৭ এবং বারি হাইব্রিড টমেটো ৪, ৮ ও ৯ অন্যতম। বারি হাইব্রিড টমেটো ৪, ৮ ও ১০ গ্রীষ্মকালীন জাত হিসেবে সারা দেশে ব্যাপকভাবে সমাদৃত। বারি হাইব্রিড টমেটো ৮ জাতটি উচ্চতাপ মাত্রা সহনশীল হওয়ায় গ্রীষ্মকালে অধিক লাভজনক প্রযুক্তি হিসেবে সমাদৃত। উচ্চতাপমাত্রা সহনশীল এ জাত দুটি পলিটানেলে চাষ করে কৃষকরা উচ্চমূল্যে টমেটো বিμি করে লাভবান হচ্ছে। গ্রীষ্মকালে ফলন প্রায় ৪০-৪৫ টন/হেক্টর। অতি সম্প্রতি উদ্ভাবিত বারি হাইব্রিড টমেটো ৯ উচ্চ ফলনশীল এবং ১০০-১২০ দিনে গড়ে ৯০-১০০ ট/হেক্টর ফলন দিতে সক্ষম। উচ্চ ফলনশীল এসব জাতের মধ্যে বারি টমেটো ১৫ হলুদ পাতা কোকরানো ভাইরাস প্রতিরোধী এবং বারি টমেটো ১৬ ও ১৭ উচ্চ সংরক্ষনশীল জাত হিসেবে পরিচিত। বারি হাইব্রিড টমেটো-১০ জাতটি হলুদ পাতা মোড়ানো ভাইরাস রোগ সহনশীল।  বারি কর্তৃক এ পর্যন্ত ১৪ টি বেগুনের জাত উদ্ভাবন হয়েছে যার মধ্যে ৪ টি হাইব্রিড জাত রয়েছে। এদের মধ্যে বারি বেগুন ৮ ও ১০ উচ্চ ফলনশীল জাত ও ব্যাকটিরিয়া জনিত ঢলে পড়া রোগ প্রতিরোধী। এ জাত দুইটি তাপ সহিষ্ণু গ্রীষ্মকালীন জাত হওয়ায় কৃষকদের কাছে সমাদৃত। সারা দেশে চাষ উপযোগী বিশেষ করে দক্ষিনাঞ্চলে ও খড়া পীরিত অঞ্চলে। এ জাত গুলির গড় ফলের ওজন ১০০-১১০ গ্রাম এবং ফলন ৪০-৫৫ ট/হেক্টর। বারি হাইব্রিড বেগুন ৩ ও ৪ সারা দেশে শীতকালে চাষ উপযোগী। গাছ প্রতি ৩৩-৩৫ টি ফল ধরে, ফলের গড় ওজন ১০০-১২০ গ্রাম এবং ফলন ৫০-৫৫ টন/হেক্টর। বারি সাফল্যজনক ভাবে বেগুনের ৪টি ট্রান্সজেনিক জাত উদ্ভাবন করেছে যা বিটি বেগুন নামে পরিচিত। ঈৎু ১অঈ জীন প্রতিস্থাপন করে বারি বিটি বেগুন ১,২,৩ ও ৪ উদ্ভাবন করা হয়েছে যা বেগুনের ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকার আμমন প্রতিরোধী। বেগুনের এ জাতে প্রধান শμ ডগা ও ফল ছিদ্র কারী পোকার আμমন হয়না বলে ক্ষতিকারক কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয় না। এতে উৎপাদন খরচ কম লাগে এবং অন্য জাতের তুলনায় অধীক ফলন পাওয়া যায়। সম্প্রতি আগাম জাত হিসেবে বারি ব্রোকলি ১ উদ্ভাবন করা হয়েছে যা রোপনের ৭৫ দিনের মধ্যে সংগ্রহ উপযোগী। আকর্ষণীয় সবুজ রং এর হেড উৎপাদন করে। মুক্ত পরাগায়িত হওয়ায় সহজেই প্রচুর বীজ উৎপাদন করে। সাধারনত রোগ ও পোকামাকড়ের আμমন কম হয় বলে হেক্টর প্রতি ১২ টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। বারি লাউ ৪ সারা বছর ব্যাপি চাষ করা যায়। অধীক লাভজনক হিসাবে কৃষকদের নিকট ব্যপক সমাদৃত বিশেষকরে দেশের দক্ষিন অঞ্চলে। গাঢ় সবুজ রং এর ফলের গায়ে সাদাটে দাগ থাকে। গড় ফলের ওজন ২.৫ কেজি। সারা বৎসর ব্যাপী চাষ করা যায়। হেক্টর প্রতি ফলন রবি ৬০ ও খরিপ ৪০-৫০ টন। বারি মিষ্টি মরিচ ১ মিষ্টি মরিচ বা ক্যাপসিকাম একটি উচ্চ মূল্যের সবজি সম্প্রতি বাংলাদেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। উজ্জ্বল সবুজ বেল আকৃতির ফল পাকলে লাল রং ধারন করে। প্রতি গাছে ৭-৯ টি ফল ধরে এবং গড় ফলের ওজন ৭৫-৮৫ গ্রাম। বারি মিস্টি মরিচ-২ জাতটি ২০১৫ সালে অবমুক্ত হয়। জাতটি চকচকে সবুজ ফল, পাকলে হলুদ বর্ণ ধারন করে। বারি সীম ৭ একটি গ্রীষ্মকালীন জাত যা উচ্চ তাপমাত্রায় (৩০০ সেঃ) ও ফল ধারনে সক্ষম। কম আশযুক্ত চ্যাপ্টা ফল হয় এবং অন্যান্য গ্রীষ্মকালীন জাত অপেক্ষা অধীক ফলনশীল। এ জাতটি ১৩০-১৪০ দিনের মধ্যে ১২-১৩ টন/হেক্টর ফলন দিতে সক্ষম। বারি কামরাঙ্গা সীম ১ জাতটি পুষ্টিকর ও উনড়বতমানের খনিজ সমৃদ্ধ (পাকা বীজে আমিষ ৩০-৩৯ গ্রাম/১০০ গ্রাম) একটি সবজি। ইহা ৭৫-৮০ দিনের মধ্যে প্রম ফল সংগ্রহ উপযোগী। প্রতি গাছে ৩৫-৪০ টি শিম ধরে। পাতাশাক, শিম, সবজি ও বীজ ডাল হিসেবে এবং কন্দমুল আলুর মত খাওয়া যায়। সারা দেশে বিশেষ করে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রামে চাষবাদ উপযোগী। বারি ঝিঙ্গা ২ সারা দেশে গ্রীষ্মকালে চাষ উপযোগী একটি রোগ ও পোকামাকড় সহনশীল জাত। ফল আকর্ষণীয় সবুজ রঙের হয় এবং গাছ প্রতি ৪২-৪৮ টি ফল ধরে যার গড় ওজন ২০০ গ্রাম। এজাতটির ফলন ২২-২৪ টন/হেক্টর বারি চীনাল ১ জাতটির ফলের শাস হালকা কমলা রং এর, ফল গোলাকার যা পাকার পর আকর্ষণীয় সোনালী হলুদ রং এর এবং সুগন্ধ যুক্ত। ফলের টিএসএস প্রায় ৬.৭ এবং আঁশ বিহীন। ৭৫-৮০ দিনের মধ্যে প্রম ফল সংগ্রহের উপযোগী হয় এবং সংরক্ষণ কাল প্রায় ৫০-৬০ দিন। সারা দেশে বিশেষকরে বৃহত্তর চট্টগ্রাম, পার্বত্য এলাকা ও সিলেটের জন্য উপযোগী।

1 Comment
  1. আপনার পোষ্টটি আমার অনেক ভালো লেগেছে । আমি খুবই আনন্দি । পোষ্ট ভাগ করার জন্যে আপনাকে ধন্যবাদ ।

Leave a Reply

Logo
Reset Password
Compare items
  • Total (0)
Compare
0