ফলের গুরুত্ব

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উনড়বয়নে কৃষি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। যা বর্তমানে কৃষিকে প্রান্তিক পর্যায় থেকে বাণিজ্যিক পর্যায়ে উনীড়বত করেছে। জাতীয় শ্রম শক্তির প্রায় ৪৮% এই খাত থেকে আসে । ২০১১-১২ অর্থবছরে কৃষি দেশের মোট জাতীয় দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১৯.২৯% অবদান রেখেছে (উৎস: বিবিএস ২০১১)। নিকট অতীতে বাংলাদেশী কৃষিজাত পণ্য বিশেষত ফল রপ্তানি ব্যাপক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলের উৎপাদন, বিপনন ব্যবস্থাপনা এবং প্রμিয়াজাতকরণ অত্যন্ত শ্রমঘন কাজ বিধায় যা কর্ম-সংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে এবং বাংলাদেশের মত একটি জনবহুল দেশের জন্য এটি অত্যন্ত প্রয়োজন। কারণ এ দেশে কর্ম-সংস্থানের অভাব একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। বাংলাদেশে ফলের ব্যাপক বৈচিত্র রয়েছে এবং এখানে প্রায় ৭০ ধরনের ফলের প্রজাতি জন্মে যার ক্ষুদ্র একটি অংশ বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ হয়। বাংলাদেশে জমির পরিমাণ ও উৎপাদন বিবেচনায় যে সমস্ত ফল অধিক পরিমাণে জন্মে সেগুলো হলো কাঁঠাল, আম, লিচু, লেবুজাতীয় ফল, আনারস, কলা, কুল, পেঁপে, পেঁয়ারা এবং নারিকেল। এ সকল ফল প্রধান ফল হিসেবে বিবেচিত। এছাড়া বাংলাদেশে প্রচুর পরিমাণে অপ্রধান ফল জন্মে। পুষ্টিমান, গুণাগুণ এবং প্রাপ্যতার সময়ের বিবেচনায় এ সকল অপ্রধান ফলও যথেষ্ট গুরুত্বের দাবি রাখে। বাংলাদেশে ১.৩৭ লক্ষ হেক্টর জমি থেকে প্রায় ৪৩.৪৭ লক্ষ মেট্রিক টন ফল উৎপাদিত হয় (বিবিএস, ২০১২) যা জাতীয় চাহিদা মিটানোর জন্য অপ্রতুল। বর্তমানে একজন পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তির দৈনিক ফলের ২০০ গ্রাম চাহিদার বিপরীতে প্রাপ্যতা হলো মাত্র ৭৪.৪২ গ্রাম । ফলে ফল গবেষণায় অধিক গুরুত্ব প্রদান জরুরি হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশে দানা শস্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জিত হলেও চাহিদার বিপরীতে ফলের উৎপাদন এখনও অনেক কম। জনসংখ্যার বৃদ্ধির সাথে সাথে এই চাহিদা আরও বৃদ্ধি পাবে । ফল চাষ বাণিজ্যিক ভাবে অত্যন্ত লাভজনক, কারণ অন্যান্য ফসলের তুলনায় ফলের উৎপাদন ও বাজার মূল্য অনেক বেশি থাকায় এর চাষের মাধ্যমে কম জমি থেকে বেশি আয় করা সম্ভব। অপর দিকে অধিকাংশ ফল গাছ বহুবর্ষজীবী হওয়ায় এক বার রোপণ করে দীর্ঘ দিন ফল আহরণ করা সম্ভব। ফলে একজন কৃষক ছোট খামার থেকে ফল চাষের মাধ্যমে অধিক পরিমাণে আয় করতে পারে। বাংলাদেশের মোট উৎপাদিত ফলের ৬১% মধ্য-মে থেকে মধ্য-আগস্ট এই চার মাসে উৎপাদিত হয়, অপরদিকে অবশিষ্ট ৩৯% ফল বাকি ৮ মাসে উৎপাদিত হয়। ফলে দেশের মানুষ মে-থেকে মধ্য-আগস্ট পর্যন্ত সময়ে প্রচুর পরিমাণে ফল পেয়ে থাকলেও বছরের অবশিষ্ট সময়ে ফলের প্রাপ্যতা থাকে অনেক কম। এই সময়ে ফলের চাহিদা মেটানোর জন্য মূল্যবান বৈদেশিক মূদ্রা ব্যয় করে বিদেশি ফল আমদানি করতে হয়। সে কারণে এই সময়ে ফলের চাহিদা মেটানোর জন্য দেশিয় ফলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। বাংলাদেশে অপুষ্টি একটি অন্যতম প্রধান সমস্যা। মানুষের পুষ্টি ও সুষম খাবারের জন্য ফল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সুতরাং একটি সুস্থ্য জাতি বিনির্মাণে ফলের উৎপাদন বৃদ্ধি করা একান্ত প্রয়োজন। ফল আমাদেরকে পর্যাপ্ত পরিামাণে ভিটামিন, খনিজ পদার্থ, আঁশ এবং প্রচুর উপকারী হরমোন ও ফাইটোক্যামিক্যালস প্রদান করে শরীরকে বিভিনড়ব রোগবালাই থেকে সুরক্ষা প্রদান করে যা সুস্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। ফল ওষুধি গুণাগুনে সমৃদ্ধ বিধায় একে ’রোগ প্রতিরোধী খাদ্যও’ বলা হয়। ফলের অধিক উৎপাদন এবং এর প্রμিয়াজাতকৃত দ্রব্য যেমন একদিকে অধিক মুনাফা উপার্জনে সহায়তা করে অপরদিকে দানা জাতীয় খাদ্য শস্যের গ্রহণকেও পর্যাপ্ত পরিমাণে হ্রাস করে। যা বাংলাদেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিকেও শক্তিশালী করবে। এভাবে ফল পুষ্টি উনড়বয়ন, কর্মসংস্থান, খাদ্য এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

Tags:

1 Comment

Leave a Reply

Logo
Reset Password
Compare items
  • Total (0)
Compare
0