বারি স্ট্রবেরি-৩

বারি স্ট্রবেরি-৩

বৈশিষ্ট্য : বাংলাদেশে সর্বত্র চাষোপযোগী একটি উচ্চ ফলনশীল জাত। নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে গাছে ফুল আসতে শুরু করে এবং ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ফল আহরণ করা যায়। গাছ প্রতি গড়ে ৩৯ টি ফল ধরে যার মোট গড় ওজন ৭৭১ গ্রাম। হেক্টর প্রতি ফলন ১৭-১৯ টন। হৃৎপিন্ডাকৃতির মধ্যম আকারের ফল যার গড় ওজন ১৯.৯৭ গ্রাম। পাকা ফল আকর্ষণীয় টকটকে লাল বর্ণের। ফলের ত্বক মধ্যম নরম ও ঈষৎ খসখসে। ফলের শতভাগ ভক্ষণযোগ্য। স্ট্রবেরীর বৈশিষ্ট্যপূর্ণ সুগন্ধযুক্ত ফলের স্বাদ টক-মিষ্টি (টিএসএস-৮.৫%)। জাতটি ফল উৎপাদন মৌসুমে অল্প পরিমানে runner উৎপাদন করে বিধায় runner অপসারণ জনিত খরচ কম।
উপযোগী এলাকা  : সমগ্র বাংলাদেশেই এর চাষ করা যায়।
বপনের সময়  : বাংলাদেশের আবহাওয়ায় আশ্বিন মাস (মধ্য সেপ্টেম্বর থেকে মধ্য অক্টোবর) স্ট্রবেরীর চারা রোপণের উপযুক্ত সময়। তবে নভেম্বর-ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত চারা রোপণ করা চলে।
মাড়াইয়ের সময়:  ভাদ্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে রোপণকৃত বারি স্ট্রবেরী-৩ এর ফল সংগ্রহ পৌষ মাসে শুরু হয়ে চৈত্র মাস পর্যন্ত চলে।


বারি স্ট্রবেরি-৩

 রোগবালাই ও দমন ব্যবস্থা

 রোগবালাই: 
পাতায় দাগপড়া রোগঃ কোন কোন সময় পাতায় বাদামী রং এর দাগ পরিলক্ষত হয়। এ রোগের আক্রমণ হলে ফলন এবং ফলের গুণগত মান হ্রাস পায়।
ফল পঁচা রোগঃ এ রোগের আক্রমণে ফলের গায়ে জলে ভেজা বাদামী বা কালো দাগের সৃষ্টি হয়। দাগ দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং ফল খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে যায়।
ভারটিসিলাম উইল্টঃ এ রোগে আক্রান্ত গাছ হঠাৎ করে দূর্বল ও বিবর্ণ হয়ে পড়ে। আক্রমণ বেশী হলে গাছ বাদামী বর্ণ ধারণ করে এবং মারা যায়। সাধারনতঃ জলাবদ্ধতা সম্পন্ন জমিতে এ রোগের আক্রমণ বেশী হয়।
 দমন ব্যবস্থা: 
পাতায় দাগপড়া রোগ প্রতিকারঃ সিকিউর নামক ছত্রাকনাশক প্রতি লিটার পানির সাথে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে ১০-১৫ দিন পরপর ২-৩ বার স্প্রে করে সুফল পাওয়া যায়।
ফল পঁচা রোগ প্রতিকারঃ ফল পরিপক্ক হওয়ার পূর্বে নোইন ৫০ডব্লিওপি অথবা ব্যাভিস্টিন ডিএফ নামক ছত্রাকনাশক প্রতি লিটার পানির সাথে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে ৮-১০ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।
ভারটিসিলাম উইল্ট প্রতিকারঃ জমি শুষ্ক রাখতে হবে। পলিথিন মালচ ব্যবহার করলে তা তুলে ফেলতে হবে। কপার জাতীয় ছত্রাকনাশক যেমন বর্দ্দোমিক্সার (১ঃ১ঃ১০) ৮-১০ দিন পর পর ২-৩ বার গাছের গোড়া ও মাটি ভালভাবে ভিজিয়ে স্প্রে করতে হবে।

 পোকামাকড় ও দমন ব্যবস্থা

 পোকামাকড়: 
পাখিঃ পাখি বিশেষ করে বুলবুলি স্ট্রবেরীর সবচেয়ে বড় শত্রু। ফল আসার পর সম্পূর্ণ পরিপক্ক হওয়ার পূর্বেই পাখির উপদ্রব শুরু হয়।
ভাইরাসঃ ভাইরাস রোগের আক্রমণে স্ট্রবেরীর ফলন ক্ষমতা এবং গুণগত মান হ্রাস পেতে থাকে। সাদা মাছি পোকা এ ভাইরাস রোগ ছড়ায়।
মাইট : মাইটের আক্রমণে স্ট্রবেরীর ফলন ক্ষমতা ও গুণগতমান মারাত্বকভাবে বিঘ্নিত হয়। এদের আক্রমণে পাতা তামাটে বর্ণ ধারণ করে ও পুরু হয়ে যায় এবং আস্তে আস্তে কুচকে যায়। গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যহত হয়।
 দমন ব্যবস্থা: 
পাখি প্রতিকারঃ ফল আসার পর সম্পূর্ণ বেড জাল দ্বারা ঢেকে দিতে হবে যাতে পাখি ফল খেতে না পারে।
ভাইরাস প্রতিকারঃ এডমায়ার ২০০ এসএল নামক কীটনাশক প্রতি লিটার পানির সাথে ০.২৫ মি.লি. হারে মিশিয়ে স্প্রে করে সাদামাছি পোকা দমন করলে ভাইরাস রোগের বিস্তার রোধ করা যায়।
মাইট প্রতিকারঃ ভারটিমেক ০১৮ ইসি নামক মাকড়নাশক প্রতি লিটার পানির সাথে ১ মি.লি. হারে মিশিয়ে ১০ দিন অন্তর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।

 সার ব্যবস্থাপনা

গুণগত মানসম্পন্ন উচ্চফলন পেতে হলে স্ট্রবেরীর জমিতে নিয়মিত পরিমিত মাত্রায় সার প্রয়োগ করতে হবে। হেক্টর প্রতি ৩০ টনপঁচা গোবর,২৫০ কেজিইউরিয়া, ২০০ কেজিটিএসপি, ২২০ কেজিএমওপি এবং ১৫০ কেজিজিপসাম সার প্রয়োগ করা যেতে পারে। শেষ চাষের সময় সম্পূর্ণ গোবর, টিএসপি, জিপসাম ও অর্ধেক পরিমাণ এমওপি সার জমিতে ছিটিয়ে মাটির সাথে ভালভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। ইউরিয়া ও অবশিষ্ট এমপি সার চারা রোপণের ১৫ দিন পর থেকে ১৫-২০ দিন পরপর ৪-৫ কিসিত্মতে উপরি প্রয়োগ করতে হবে।

প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন।

We will be happy to hear your thoughts

Leave a Reply

Logo
Reset Password
Compare items
  • Total (0)
Compare
0