বারি সূর্যমুখী ২

বারি সূর্যমুখী ২

বৈশিষ্ট্য :
১। গাছের উচ্চতা ১২৫-১৪০ সে.মি.
২। পরিপক্ক পুষ্পমঞ্জুরী বা মাথার ব্যাস ১৫-১৮ সে.মি.
৩। প্রতি মাথায় বীজের সংখ্যা ৩৫০-৪৫০
৪। বীজের তেলের পরিমাণ শতকরা ৪২-৪৪ ভাগ
৫। জীবনকাল: রবি মৌমুমে ৯৫-১০০ দিন এবং খরিফ মৌসুমে ৮৫-৯০ দিন
উপযোগী এলাকা  : বাংলাদেশের সর্বত্র
বপনের সময়  : রবি মৌসুমে : অগ্রহায়ন মাস (মধ্য নভেম্বর – মধ্য ডিসেম্বর পর্যন্ত) খরিফ-২ : ভাদ্র মাস (মধ্য আগষ্ট – মধ্য সেপ্টেম্বর)
মাড়াইয়ের সময়:  শতকরা ৮০-৯০ ভাগ বীজ পরিপক্ক হলে ফসল কাটার উপযুক্ত সময় হয়
বীজ/চারার হার: প্রতি হেক্টরে ১২-১৫ কেজি বীজ প্রয়োজন
বপন/ রোপনের দূরত্ব: সয়াবীন সারিতে বপন করতে হয়। সারিতে বপন করলে সারি থেকে সারির দূরত্ব ৫০ সেমি এবং গাছ থেকে গাছের দূরত্ব ২৫ সেমি রাখতে হয়
ফলন: রবি মৌসুমে প্রতি হেক্টরে ২.০০-২.৩০ টন খরিফ মৌসুমে প্রতি হেক্টরে ১.৫০-১.৮০ টন

 রোগবালাই ও দমন ব্যবস্থা

 রোগবালাই: 
১। পাতা ঝলসানো রোগ
২। ঢলে পড়া বা মূল পঁচা রোগ
 দমন ব্যবস্থা: 
পাতা ঝলসানো রোগ:
১। রোগ প্রতিরোধী জাতঃ রোগ সহনশীল কিরণী জাতের সুর্যসুখীর চাষ করলে এ রোগের আক্রমণ কম হয়।
২। ছত্রাক নাশক প্রয়োগঃ রোগ দেখা দেওয়ার সাথে সাথে রোভরাল -৫০ ডব্লিউপি (প্রতি লিটার পানির সাথে ২ গ্রাম ছত্রাকনাশক) মিশিয়ে ১০ দিন পর পর তিন বার স্প্রে করতে হবে।
৩। জমি পরিষ্কার করণ। <
ঢলে পড়া বা মূল পঁচা রোগ:
১। বীজ শোধনের পূর্বে ভিটাবেক্স-২০০ এর সাহায্যে বীজ শোধনের মাধ্যমে এ রোগের বিস্তার রোধ করা যায়।
২। গভীর চাষঃ জাম তৈরীর সময় গভীর চাষের মাধ্যমে মাটি আলগা করে ৩-৪ দিন রোদে শুাকিয়ে রোগের উৎস নষ্ট করে আক্রমন কমানো যায়।
৩। শস্য পর্যায়ক্রমঃ মাঠে পর্যায়ক্রকিভাবে ফসলের চাষ কররে উপর্যূক্ত পোষক গাছের অভাবে রোগের জীবানু নষ্ট হয়ে যায়।

 পোকামাকড় ও দমন ব্যবস্থা

 পোকামাকড়: বিছা পোকা, কাটুই পোকা ও উই পোকা
 দমন ব্যবস্থা: 
সাধারণত কাটুই পোকা :
১। প্রতি বিঘায় ৮-১০ট ডাল পুঁতে দিলে এ পোকার দমন করা যায়।
২। চারা অবস্থায় ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করতে হবে।
৩। আক্রমণ বেশি হলে SNPV ০.২-০.৪ গ্রাম প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে ২বার স্প্রে করতে হবে।
৪। ট্রেসার ০.৪ মিলি প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করলে এ পোকার আক্রমণ হতে রেহাই পাওয়া যাবে।
বিছাপোকা :
১। প্রতি বিঘায় ৮-১২টি গাছের ডাল বা কঞ্চি পুঁতে দিলে পোকাভোজী পাখি কীড়া খেয়ে দমন করতে পারে।
২। আক্রমণ খুব বেশি হলে রিপকর্ড ১০ ইসি বা পারফেকথিয়ন ৪০ ইসি ২০ মিলি (৪মুখা) প্রতি ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে আক্রান্ত ক্ষেতে ১০ দিন অন্তর ২ বার স্প্রে করে এ পোকা দমন করা যায়।

 সার ব্যবস্থাপনা

প্রতি হেক্টরে ইউরিয়া ১৮০-২০০ কেজি, টিএসপি ১৬০-১৮০কেজি, এমপি ১৫০-১৭০কেজি, জিপসাম ১৫০-১৭০কেজি, জিংক সালফেট ৮-১০ কেজি, বরিক এসিড ১০-১২ কেজি, ম্যাগনেসিয়াম সালফেট ৮০-১০০কেজি এবং গোবর ৮-১০টন। অর্ধেক ইউরিয়া এবং বাকি সকল সারের সবটুকু বীজ বপনের পূর্বে শেষ চাষের সময় জমিতে ছিটিয়ে প্রয়োগ করতে হবে। বাকি অর্ধেক ইউরিয়া গাছে ফুল আসার পূর্বে পাশ্ব প্রয়োগ করতে হবে।

প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন।

We will be happy to hear your thoughts

Leave a Reply

শখের কৃষি
Logo
Reset Password
Shopping cart