বারি সরিষা-১৪

বারি সরিষা-১৪

বৈশিষ্ট্য :
১। উচ্চতা ৭৫-৮৫ সেঃমি
২। প্রতি গাছে শুটির সংখ্যা ৮০-১০০টি শুটি যদিও দেখতে চার প্রকোষ্ট মানে হয় কিন্তু আসলে দুই প্রকোষ্ট বিশিষ্ট।
৩। জীবন কাল ৭৫-৮০ দিন
উপযোগী এলাকা  : সরিষা বেলে দোআাঁশ মাটিতে ভাল জম্মে। মাঝারি ও মাঝারি উঁচু জমি এ সরিষার জাতের জন্য নির্বাচন করা উচিত।
বপনের সময়  : ১৫ অক্টোবর থেকে ৩০ নভেম্বর
মাড়াইয়ের সময়:  যখন সরিষা গাছের শুটি শতকরা ৭০-৭৫ভাগ পাকে তখন ফসল কর্তনের উপযোগী সময়। শুটি যখন খড়ের রং ধারণ করবে তখনই ফসল কাটতে হবে এবং মাড়ানোর স্থানে নিয়ে গাদা দিতে হবে।
বীজ/চারার হার: হেক্টর প্রতি ৬-৭ কেজি, বিঘা প্রতি ০.৭-০.৮ কেজি
বপন/ রোপনের দূরত্ব: ছিটিয়ে বপন। সারিতে বপন করলে সারি থেকে সারির দূরত্ব ৩০ সে.মি.
ফলন: প্রতি হেক্টরে ১.৪০-১.৬০ টন

 রোগবালাই ও দমন ব্যবস্থা

 রোগবালাই: 


অল্টারনেরিয়া ব্লাইট বা পাতা ঝলসানো রোগ

কান্ড পঁচা রোগ

সপুষ্পক পরজীবী উদ্ভিদ

১। অল্টারনেরিয়া ব্লাইট বা পাতা ঝলসানো রোগ
২। কান্ড পঁচা রোগ
৩। সপুষ্পক পরজীবী উদ্ভিদ
 দমন ব্যবস্থা: 
পাতা ঝলসানো রোগ:
১। সুস্থ, সবল , জীবানুমুক্ত বীজ বপন করতে হবে।
২। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে বীজ বপন করতে হবে।
৩। বীজ শোধনঃ বপনের পূর্বেই বীজ প্রভেক্স-২০০ (২.০ গ্রাম/কেজি) বীজ শোধন
৪। ১০০ গ্রাম নিমপাতা সামান্য পানি দিয়ে পিষিয়ে তার রস ১ লিটার পানিতে মিশিয়ে গাছে ১০ দিন পর পর স্প্রে করতে হবে।
৫। এ রোগ দেখা দেয়ার সাথে সাথে রোভরাল -৫০ ডব্লিউপি (প্রতি লিটার পানির সাথে ২ গ্রাম ছত্রাকনাশক) মিশিয়ে ১০ দিন পর পর তিন বার স্প্রে করতে হবে।
৬। জমিতে শস্য পর্যায় অনুসরণ করলে রোগের প্রাদুর্ভাব কম হয়।
কান্ড পঁচা রোগ:
১। সুস্থ, সবল, জীবানুমুক্ত বীজ বপন করতে হবে।
২। বীজ শোধনঃ বপনের পূর্বেই বীজ প্রভেক্স-২০০ (২.০ গ্রাম/কেজি) বীজ শোধন
৩। ছত্রাক নাশক প্রয়োগঃ রোগ দেখা দেওয়ার সাথে সাথে রোভরাল -৫০ ডব্লিউপি (প্রতি লিটার পানির সাথে ২ গ্রাম ছত্রাকনাশক) মিশিয়ে ১০ দিন পর পর তিন বার স্প্রে করতে হবে।
৪। সময় মত সরিষা চাষ অর্থাৎ নভেম্বর ১ থেকে ১১ এর মধ্যে।
সপুষ্পক পরজীবী উদ্ভিদ :
১। ফুল আসার পূর্বেই এ পরজীবী উদ্ভিদ জমি হতে উঠিয়ে ধ্বংস করে ফেলতে হবে।
২। বীজ বপনের পূর্বে জমি লাঙ্গল দিয়ে গভীরভাবে চাষ করা
৩। একই জমিতে প্রতি বছর সরিষা চাষ না করে অন্যান্য ফসল (যাতে অরোব্যাংকি হয় না ) পর্যায়ক্রমিকভাবে চাষ করতে হবে।
৪। জমিতে শস্য পর্যায়ক্রম অনুসরণ করা

 পোকামাকড় ও দমন ব্যবস্থা

 পোকামাকড়: 


জাবপোকা

স-ফ্লাই পোকা

কাটুই পোকা

জাবপোকা, স-ফ্লই, সাধারণত কাটুই পোকা
 দমন ব্যবস্থা: 
জাবপোকা :
১। শতকরা ১০-২০ ভাগ গাছে বা প্রতিটি মঞ্জুরীর অগ্রভাগে ১০-২০ টি জাবপোকা দেখা গেলে ম্যালাথিয়ন ৫৭ ইসি ২মিলি প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে বিকাল ৩ টার পর ১০ দিন অন্তর ২ বার স্প্রে করলে মৌমাছির/পরাগায়নে সাহায্যকারী পোকার কোন ক্ষতি ছাড়াই এ পোকা দমন করা যায়।
স-ফ্লাই :
১। আক্রান্ত ক্ষেতে প্রতি বিঘায় ৮-১০টি গাছের ডাল পুঁতে দিলে পোকাভোজী পাখি বসে সুযোগমত খেয়ে পোকার সংখ্যা কমাতে পারে।
২। জমি ভালভাবে চাষ দিলে পোকার পুত্তলি বের হয়ে আসলে পাখি এদের খেয়ে ফেলে বা আঘাত প্রাপ্ত হয়ে মারা যায়।
৩। আক্রমণ মারাক্তক হলে রিপকর্ড ১০ ইসি ১ মিলি প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে ১০ দিন অন্তর ২ বার ছিটিয়ে পোকা দমন করা যায়।
কাটুই পোকা :
১। প্রতি বিঘায় ৮-১০ টি ডাল পুঁতে দিলে এ পোকার দমন করা যায়।
২। চারা অবস্থায় ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করতে হবে।
৩। আক্রমণ বেশি হলে SNPV ০.২-০.৪ গ্রাম প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে ২ বার স্প্রে করতে হবে।
৫। ট্রেসার ০.৪ মিলি প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করলে এ পোকার আক্রমণ হতে রেহাই পাওয়া যাবে।

 সার ব্যবস্থাপনা

প্রতি হেক্টরে ইউরিয়া ২৫০-৩০০ কেজি, টিএসপি ১৭০-১৮০ কেজি, এমপি ৮৫-১০০ কেজি, জিপসাম ১৫০-১৮০ কেজি, বোরিক এসিড ০.১০ কেজি, জিংক অক্সাইড ০.৫ কেজি, পঁচা গোবর ৮-১০ টন।
সার প্রয়োগ পদ্ধতি: অর্ধেক ইউরিয়া এবং অন্যান্য সারের সবটুকু শেষ চাষের আগে জমিতে ছিটিয়ে প্রয়োগ করতে হবে। বাকি অর্ধেক ইউরিয়া চারা গজানোর ২০-২২ দিন পর অর্থা‌ৎ ফুল আসার আগে প্রয়োগ করতে হয়।

প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন।

We will be happy to hear your thoughts

Leave a Reply

Logo
Reset Password
Compare items
  • Total (0)
Compare
0