বারি সফেদা-৩

বারি সফেদা-৩

বৈশিষ্ট্য : নিয়মিত বছরে দু’বার ফল ধারণকারী (অক্টোবর-নভেম্বর এবং জানুয়ারি-এপ্রিল) উচ্চ ফলনশীল জাত। গাছ মঝারী, মধ্যম ছড়ানো। ফল অপেক্ষাকৃত বড়, গোলাকার, (১১৭ গ্রাম), খেতে খুব মিষ্টি (ব্রিকা্রমান ২৩%)। খাদ্যোপযোগী অংশ ৯১%।
উপযোগী এলাকা  : সারাদেশে চাষ করা যায় তবে দেশের দক্ষিণাঞ্চল বেশী উপযোগী ।
বপনের সময়  : জ্যৈষ্ঠ থেকে ভাদ্র মাস সফেদার কলম রোপণের উপযুক্ত সময়। তবে পানি সেচের সুবন্দুবস্ত থাকলে সারা বছরই সফেদার কলম রোপণ করা চলে।
মাড়াইয়ের সময়:  সফেদা গাছে পাকিয়ে সংগ্রহ করা অসুবিধাজনক। কেননা ফলের বাহ্যিক রঙের এমন কোন বিশেষ পরিবর্তন চোখে পড়ে না যা দ্বারা পাকা ফল সহজে শনাক্ত করা যায়। এজন্য ফল পুরোপুরি পরিপুষ্ট হলে গাছ থেকে পেড়ে রেখে দিতে হয়।
ফলন: ৩০-৩৫ টন/হেক্টর

 রোগবালাই ও দমন ব্যবস্থা

 রোগবালাই: 
পাতায় দাগ পড়া রোগঃ পাতায় অসংখ্য হালকা গোলাপী বা ছোট ছোট গোলাপী বা লালচে-বাদামী রং এর দাগ পড়ে। দাগ গুলোর কেন্দ্রস্থলে সাদাটে।
শুটিমোল্ডঃ মিলিবাগ সফেদা গাছের পাতা ও ফল থেকে রস চুষে খায় এবং মধুর মত আঠালো রস নিঃসরণ করে। এদের উপর ছত্রাক জন্মে এবং শুটিমোল্ড নামক রোগের সৃষ্টি করে। এর আক্রমণের ফলে সফেদা গাছের পাতায় ছাই এর মত পদার্থ দ্বারা আবৃত দেখা যায়। আক্রান্ত পাতার খাদ্য উৎপাদন ক্ষমতা কমে যায় এবং পাতা ও ফল ঝরে পড়ে।
 দমন ব্যবস্থা: 
পাতায় দাগ পড়া রোগ প্রতিকারঃ ইন্ডোফিল এম-৪৫ নামক ছত্রাকনাশক ২ গ্রাম/লিটার হারে পানিতে মিশিয়ে ১৫ দিন পর পর দুই বার সমস্ত গাছ ভিজিয়ে স্প্রে করতে হবে।
শুটিমোল্ড প্রতিকারঃ মিলিবাগ দমন করতে হবে। প্রতিলিটার পানির সাথে ০.২৫ মি.লি.হারে এডমায়ার ২০০ এসএল অথবা ডাইমেথয়েট জাতীয় কীটনাশক (টাফগর/রগর/রক্সিয়ন ৪০ ইসি) ২ মি.লি. হারে মিশিয়ে ৮-১০ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।

 পোকামাকড় ও দমন ব্যবস্থা

 পোকামাকড়: 
কান্ড ছিদ্রকারী পোকাঃ পোকার কীড়া গাছের বাকল ছিদ্র করে ভিতরে ঢুকে এবং বাকলের নীচের নরম অংশ খেয়ে গাছের সতেজতা নষ্ট করে। আক্রান্ত গাছের কান্ডে গর্ত থাকে এবং গর্তের মুখে কীড়ায় নষ্ট করা বাকলের গুঁড়া বা বিষ্ঠা ঝুলে থাকতে দেখা যায়।
লীফ মাইনারঃ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কীড়া কচি পাতা চেঁছে খায় এবং আক্রান্ত পাতায় এলোমেলো, সর্পিল দাগ দেখা যায়। আক্রান্ত পাতা শুকিয়ে যায় এবং ঝরে পড়ে।
 দমন ব্যবস্থা: 
কান্ড ছিদ্রকারী পোকা প্রতিকারঃ লোহার শিক দিয়ে গর্তের ভেতর থেকে কীড়া বের করে মেরে ফেলতে হবে। গর্ত যদি গভীর হয় তবে সিরিঞ্জ দিয়ে গর্তের ভেতর কেরোসিন বা কীটনাশক ঢুকিয়ে গর্তের মুখ তুলা/কাদা মাটি দিয়ে বন্ধ করে দিলে পোকা মরে যাবে।
লীফ মাইনার প্রতিকারঃ সুমিথিয়ন ৫০ ইসি অথবা পারফেকথিয়ন ৪০ ইসি নামক কীটনাশক প্রতি লিটার পানিতে ২ মি.লি. হারে মিশিয়ে ১৫ দিন পর পর দুইবার গাছের পাতা ভালভাবে ভিজিয়ে স্প্রে করতে হবে।

 সার ব্যবস্থাপনা

সারের নাম গাছের বয়স(বছর)
১-৩ ৪-৭ ৮-১০ ১১-১৫ ১৫ বছরের উর্ধ্বে
গোবর/কম্পোট (কেজি) ২০ ২৫ ৩০ ৪০ ৫০
ইউরিয়া (গ্রাম) ১০০-২০০ ৩০০-৫০০ ৬০০-৭০০ ৮০০-৯০০ ১০০০
টিএসপি (গ্রাম) ২০০ ৩০০ ৫০০ ৭০০ ৮০০
এমপি(গ্রাম) ১৫০ ৩০০-৫০০ ৬০০-৭০০ ৮০০-৯০০ ১০০০
জিপসাম (গ্রাম) ৫০ ১০০ ২০০ ৩০০ ৪০০

প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন।

We will be happy to hear your thoughts

Leave a Reply

Logo
Reset Password
Compare items
  • Total (0)
Compare
0