বারি লেবু-১

বারি লেবু-১

বৈশিষ্ট্য : বছরে দু’বার ফলদানকারী উচ্চ ফলনশীল জাত। গাছ বড় ও ছড়ানো। প্রধান মৌসুমে ফাল্গু-চৈত্র মাসে গাছে ফুল আসে এবং শ্রাবণ থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত ফল আহরণ করা যায়।ফল ডিম্বাকৃতির, ফলের বহিঃত্বক অমসৃণ। ফলের গড় ওজন ২৬০ গ্রাম। ফলের শাঁস সাদা, অত্যন্ত রসালো, টক
উপযোগী এলাকা  : দেশের সর্বত্র চাষের উপযোগী।
বপনের সময়  : মে থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত চারা লাগানোর উত্তম সময় তবে যদি সেচ সুবিধা থাকে তাহলে সারা বছরই চারা লাগানো যায়।
মাড়াইয়ের সময়:  সারা বছরই লেবু উৎপন্ন হয় তবে লেবুর ফুল আসার প্রধান মৌসুম হল জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস এবং তা থেকে জুলাই -আগস্ট মাসে ফল আহরণ করা হয়। আবার অনেক সময় আগস্ট মাসেও কিছু ফুল আসে তা থেকে ডিসেম্বর- জানুয়ারি ফল আহরণ করা যায়।
ফলন: ১৫ টন/হেক্টর

 রোগবালাই ও দমন ব্যবস্থা

 রোগবালাই: 
ডাইব্যাকঃ আক্রান্ত গাছের পাতা ঝরে যায় ও আগা থেকে ডালপালা শুকিয়ে নিচের দিকে আসতে থাকে এবং আস্তে আস্তে সম্পূর্ণ গাছটিই মরে যায়।
গামোসিসঃ এ রোগের আক্রমণে গাছের কান্ড, ডাল বাদামি রং এর হয়ে যায় ও ডালে লম্বালম্বি ফাটল দেখা দেয় এবং ফাটল থেকে আঠা বের হতে থাকে।
ক্যাংকারঃ এ রোগের আক্রমণে কচি পাতা, শাখা ও ফলে ধূসর বা বাদামি রংয়ের গুটি বসন্তের মত দাগ পড়ে। লিফ মাইনার পোকার দ্বারা এ রোগ সংক্রমিত হয়।
 দমন ব্যবস্থা: 
ডাইব্যাক প্রতিকারঃ পরিচর্যার মাধ্যমে গাছকে সবল ও সতেজ রাখতে হবে। আক্রান্ত ডাল ২.৫ সে.মি. সবুজ অংশসহ কেটে কর্তিত অংশে বর্দোপেস্ট লাগাতে হবে। আক্রান্ত গাছে ইন্ডোফিল এম-৪৫ (০.২%) অথবা বর্দোমিশ্রন (১%) স্প্রে করতে হবে।
গামোসিস প্রতিকারঃ আক্রান্ত ডাল কেটে ফেলে অথবা আক্রান্ত অংশ চেচে ফেলে বর্দোপেস্ট ব্যবহার করতে হবে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা ও সেচের পানি গাছের কান্ড স্পর্শ করা থেকে বিরত রাখা।
ক্যাংকার প্রতিকারঃ আক্রান্ত ডগা ও শাখা ছাঁটাই করতে হবে এবং কাটা অংশে বর্দোপেস্ট (১০%) এর প্রলেপ দিতে হবে। প্রতি মাসে বর্দোমিশ্রন (১%) স্প্রে করতে হবে। প্রতি লিটার পানিতে ১ গ্রাম একতারা ৫ এসজি অথবা ১ মি.লি. সুমিথিয়ন মিশিয়ে স্প্রে করে ক্ষত সৃষ্টিকারী লিফ মাইনার পোকা দমন করতে হবে।

 পোকামাকড় ও দমন ব্যবস্থা

 পোকামাকড়: 
পাতার ছোট সুড়ঙ্গ পোকা (সাইট্রাস লিফমাইনার) : এ পোকার ক্ষুদকীড়াগুলো পাতার উপত্বকের ঠিক নীচে আঁকাবাঁকা সুড়ঙ্গ করে সবুজ অংশ খেয়ে ফেলে। এতে পাতা কুঁকড়ে বিবর্ণ হয়ে শুকিয়ে ঝরে যায় ও অবশেষে গাছের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়।
লেবুর প্রজাপতি পোকাঃ এ পোকার কীড়া পাতা খেয়ে ফেলে। এজন্য ফলন ও গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
 দমন ব্যবস্থা: 
পাতার ছোট সুড়ঙ্গ পোকা (সাইট্রাস লিফমাইনার) দমন ব্যবস্থাঃ গাছে নতুন পাতা গজানোর সময় রগর/রক্সিয়ন/পরফেকথিয়ন ৪০ ইসি ২ মিলি হাতে প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে অথবা সুমিথিয়ন ১ মিলি হারে প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে ১৫ দিন পরপর ২ বার স্প্রে করতে হবে।
লেবুর প্রজাপতি পোকা দমন ব্যবস্থাঃ ডিম ও কীড়াযুক্ত পাতা সংগ্রহ করে মাটির নীচে পুতে বা পুড়ে ফেলতে হবে। সুমিথিয়ন ৫০ ইসি/লিবাসিড ৫ ইসি ২ মি.লি. প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে ১০-১৫ দিন পরপর ২-৩ বার প্রয়োগ করতে হবে।

 সার ব্যবস্থাপনা

সারের নাম গাছের বয়স(বছর)
১-২ ৩-৫ ৬ এবং তদুর্ধ
পঁচা গোবর (কেজি) ১৫ ২০ ২৫
ইউরিয়া (গ্রাম) ২০০ ৪০০ ৫০০
টিএসপি (গ্রাম) ২০০ ৩০০ ৪০০
এমওপি(গ্রাম) ২০০ ৩০০ ৪০০

প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন।

We will be happy to hear your thoughts

Leave a Reply

শখের কৃষি
Logo
Reset Password
Shopping cart