বারি লটকন-১

বারি লটকন-১

বৈশিষ্ট্য : মাঝ মৌসুমী উচ্চ ফলনশীল জাত। গাছ মাঝারী, মধ্যম খাড়া ও ঝোপালো। ফান্ডুন মাসে গাছে ফুল আসে এবং শ্রাবণ মাসে ফল আহরণ করা যায়। নয় বছর বয়স্ক গাছে ৩৩৫০টি ফল ধরে যার ওজন ৫০ কেজি। ফল মাঝারী (১৪ গ্রাম)। এতে ৪-৫ টি কোষ থাকে। শাঁস নরম, রসালো, অমস্নমধুর স্বাদযুক্ত,
উপযোগী এলাকা  : বাংলাদেশের সব এলাকায় চাষযোগ্য।
বপনের সময়  : বর্ষার প্রারম্ভে অর্থাৎ বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাস চারা/কলম রোপণের উপযুক্ত সময়। তবে বর্ষার শেষে অর্থাৎ ভাদ্র-আশ্বিন মাসেও গাছ লাগানো যায়। খরা মৌসুমে অবশ্যই পানি সেচের ব্যবস্থা করতে হয়।
মাড়াইয়ের সময়:  শীতের শেষে গাছে ফুল আসে এবং জুলাই -আগস্ট মাসে ফল পাকে। ফলের রং হালকা হলুদ থেকে ধূসর বর্ণ ধারণ করলে ফল সংগ্রহের উপযুক্ত হয়।

 রোগবালাই ও দমন ব্যবস্থা

 রোগবালাই: 
এ্যানথ্রাকনোজঃ কলেটোট্রিকাম সিডি নামক ছত্রাক লটকনের এ্যানথ্রাকনোজ রোগের কারণ। গাছের পাতা, কান্ড, শাখা-প্রশাখা ও ফল এ রোগ দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। ফলের গায়ে ছোট ছোট কাল দাগই এ রোগের প্রধান লক্ষণ। তাছাড়া ফল শক্ত, ছোট ও বিকৃত আকারের হতে পারে। ফল পাকা শুরু হলে দাগ দ্রুত বিস্তুত হতে থাকে এবং ফল ফেটে বা পঁচে যেতে পারে।
ঢলে পড়া (Wilt)ঃ ফিউজেরিয়াম (Fusarium) নামক ছত্রাকের আক্রমণে এ রোগ হয়। প্রথমে পাতা হলুদ হয়ে আসে এবং পরে শুকিয়ে যায়। এভাবে পাতার পর প্রশাখা-শাখা এবং ধীরে ধীরে সমস্ত গাছই ৮-১০ দিনের মধ্যে নেতিয়ে পড়ে ও মারা যায়।
ফল ঝরে যাওয়াঃ পরাগায়নের অভাব,অধিক খরা বা শীত মৌসুমে এবং ফুল ধরার সময় মাটিতে সেচ না দেয়া, মাটিতে বোরনের অভাব, রোগ বা পোকার আক্রমণ ইত্যাদি অনেক কারণে ফল ঝরে যেতে পারে।
 দমন ব্যবস্থা: 
এ্যানথ্রাকনোজঃ প্রতিকারঃ গাছের নিচে ঝরে পড়া পাতা ও ফল সংগ্রহ করে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। গাছে ফল ধরার পর টপসিন-এম অথবা নোইন প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম অথবা টিল্ট-২৫০ ইসি প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ মিলি হারে মিশিয়ে ১৫ দিন অন্তর অন্তর ২-৩ বার ভালভাবে স্প্রে করে এ রোগ দমন করা যায়।
ঢলে পড়া (Wilt) প্রতিকারঃ এ রোগের কোন প্রতিকার নেই। তবে নিম্নলিখিত ব্যবস্থাগুলো নেয়া হলে এ রোগ প্রতিরোধ করা যায়।
দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে।
রোগের প্রাথমিক অবস্থায় বর্দ্দোমিক্সার অথবা কুপ্রাভিট/কপার অক্সিক্লোরাইড প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে স্প্রে করা যেতে পারে।
বাগনের মাটির অম্লত্ব কমানোর জন্য জমিতে ডুলোচুন প্রয়োগ করতে হবে (২৫০-৫০০ গ্রাম/গাছ)।
রোগ প্রতিরোধী আদিজোড়ের উপর কলম করতে হবে।
ফল ঝরে যাওয়াঃ প্রতিকারঃ শীত বা খরা মৌসুমে নিয়মিত সেচ প্রদান করতে হবে। গাছে ফুল ফোটার পর বৃষ্টি না হলে অবশ্যই সেচ প্রদান করতে হবে। নিয়মিত সার ব্যবহার করতে হবে। বাগানে বা আশেপাশে পুরম্নষ গাছ লাগাতে হবে।

 পোকামাকড় ও দমন ব্যবস্থা

 পোকামাকড়: 
ফল ছিদ্রকারী পোকাঃ ফল ছোট অবস্থায় যখন খোসা নরম থাকে তখন এই পোকা ফলের খোসা ছিদ্র করে ডিম পাড়ে। পরবর্তী সময়ে ডিম থেকে কীড়া উৎপন্ন হয় এবং ফলের নরম শাঁস খেয়ে থাকে।
মিলিবাগ ও সাদা মাছি পোকাঃ সাধারণত শীতকালে এদের আক্রমণে পাতায় সাদা সাদা তুলার মত দাগ দেখা যায়। এরা পাতার রস শুষে গাছকে দুর্বল করে। রস শোষনের সময় পাতায় বিষ্ঠা ত্যাগ করে এবং সেই বিষ্ঠার উপর শুটিমোল্ড নামক ছত্রাক জন্মে পাতার খাদ্য উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস করে।
চেফার বিটলঃ পূর্ণাঙ্গ পাতা খেয়ে ছিদ্র করে ফেলে। আস্তে আস্তে সমস্ত পাতা খেয়ে জালের মত করে ফেলে। স্কেল পোকাঃ এই পোকা পাতা বা কান্ডে ডিম পাড়ে। ডিম থেকে বাচ্চা বের হয়ে পাতা ও কচি ডাল থেকে রস শোষণ করে খেতে থাকে। রস শোষনের সময় পাতায় বিষ্ঠা ত্যাগ করে এবং সেই বিষ্ঠার উপর শুটিমোল্ড নামক ছত্রাক জন্মে যা পাতার খাদ্য উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস করে। আক্রমণের মাত্রা বেশি হলে সম্পূর্ণ গাছ মারা যেতে্ পারে।
 দমন ব্যবস্থা: 
ফল ছিদ্রকারী পোকাঃ প্রতিকারঃ আক্রান্ত ফল পোকাসহ মাটির গভীরে পুঁতে ফেলতে হবে। প্রতি লিটার পানিতে ২ মি.লি. হারে পারফেকথিয়ন বা লেবাসিড ৫০ ইসি মিশিয়ে ১৫ দিন অমত্মর ২-৩ বার ফল ছোট অবস্থায় গাছে স্প্রে করতে হবে।
মিলিবাগ ও সাদা মাছি পোকাঃ প্রতিকারঃ আক্রান্ত পাতা ও ডগা পোকাসহ কেটে ধ্বংস করতে হবে। রগর/রক্সিয়ন ৪০ ইসি প্রতি লিটার পানিতে ২ মিঃলিঃ হারে মিশিয়ে আক্রান্ত পাতা ও গাছের ডালপালা প্রতি ১০ দিন অন্তর ২-৩ বার স্প্রে করে ভিজিয়ে দিতে হবে।
চেফার বিটলঃ প্রতিকারঃ সুমি-আলফা/ডেবিকুইন ৪০ ইসি প্রতিলিটার পানিতে ১.৫ মি.লি. হারে মিশিয়ে স্প্রে করে এ পোকা দমন করা যায়।
স্কেল পোকাঃ প্রতিকারঃ আক্রমণ দেখা যাওয়া মাত্র ব্রাশ দিয়ে ঘষেপোকা মেরে ফেলতে হবে। সাবান পানি (@ ৫ গ্রাম/লিটার) স্প্রে করলেও প্রাথমিক ভাবে দমন করা যায়। আক্রমণ বেশি হলে প্রতি লিটার পানিতে ০.২৫ মি.লি. এডমায়ার ২০০ এসএল অথবা ১ গ্রাম একতারা ৫ এসজি মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।

 সার ব্যবস্থাপনা

সারের নাম গাছের বয়স(বছর)
১-৪ ৫-১০ ১১-১৫ ১৫এর উর্ধ্বে
গোবর (কেজি) ১০ ২০ ৩০ ৩০-৪০
ইউরিয়া (গ্রাম) ৩০০ ৫০০ ৮০০ ১০০০
টিএসপি (গ্রাম) ২০০ ৩০০ ৪০০ ৫০০
এমওপি(গ্রাম) ২০০ ৩০০ ৪০০ ৫০০
জিপসাম (গ্রাম) ১০০ ২০০ ২৫০ ৩০০

প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন।

Tags:

We will be happy to hear your thoughts

Leave a Reply

শখের কৃষি
Logo
Reset Password
Shopping cart