বারি রাম্বুতান-১

 বারি রাম্বুতান-১

বৈশিষ্ট্য : নিয়মিত ফলদানকারী উচ্চ ফলনশীল জাত। গাছ বড় ও অত্যধিক ঝোপালো। পাকা ফলের রং আকর্ষণীয় লালচে খয়েরি। ফলের গায়ের কাটা বেশ লম্বা ও নরম। শাঁস পুরো, মাংসল, সাদা, নরম, রসালো সুগন্ধযুক্ত এবং মিষ্টি (ব্রিকা্রমান ১৯%)। বীজ ছোট ও নরম, খাদ্যেপযোগী অংশ ৫৮%।
উপযোগী এলাকা  : বাংলাদেশের সর্বত্র চাষযোগ্য।
বপনের সময়  : মধ্য সেপ্টেম্বর থেকে মধ্য অক্টোবর চারা কলম রোপণের উপযুক্ত সময়।
মাড়াইয়ের সময়:  ফান্ডুন-চৈত্র মাসে গাছে ফুল আসে, চৈত্র-বৈশাখ মাসে ফল ধরে। শ্রাবণ মাসে ফল আহরণ উপযোগী হয়।
ফলন: ১০-১২ টন/হেক্টর

 রোগবালাই ও দমন ব্যবস্থা

 রোগবালাই: 
পাউডারী মিলডিউঃএ রোগের আক্রমণে রাম্বুতানের মুকুলে সাদা বা ধূসর বর্ণের পাউডারের আবরণ দেখা যায়। আক্রান্ত মুকুল নষ্ট হয় ও ঝড়ে পড়ে
ড্যাম্পিং অফঃ নার্সারীতে রাম্বুতানের বীজ থেকে চারা করার সময় এ রোগের আক্রমণ হয়ে থাকে। এ রোগের আক্রমণে চারা গোড়ার দিকে পঁচে যায় এবং চারা মারা যায়। বর্ষা মৌসুমে এ রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি হয়।
 দমন ব্যবস্থা: 
পাউডারী মিলডিউ দমন ব্যবস্থাঃ গাছে মুকুল আসার পর কিন্তু ফুল ফোটার আগে একবার এবং একমাস পর আরেকবার টিল্ট ২৫০ ইসি প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ মি.লি. অথবা থিওভিট প্রতি লিটার পানির সাথে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।
ড্যাম্পিং অফ দমন ব্যবস্থাঃ বীজ বপনের আগে বীজতলা আধা পঁচা খৈল বা মুরগীর বিষ্ঠা দিয়ে শোধন করতে হবে। বপনের পূর্বে এগ্রোসিন দ্বারা বীজ শোধন করতে হবে। বীজতলায় প্রয়োজনের অতিরিক্ত সেচ দেয়া যাবে না এবং দ্রুত পানি নিকাশের ব্যবস্থা করতে হবে। রোগ দেখা মাত্র রিডোমিল গোল্ড ০.২% হারে পানির সাথে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।

 পোকামাকড় ও দমন ব্যবস্থা

 পোকামাকড়: 
ফল ছিদ্রকারী পোকাঃ ফলের বাড়ন্ত অবস্থায় পূর্ণ বয়স্ক পোকা ফলের বোটার কাছে খোসার নিচে ডিম পাড়ে। ডিম থেকে কীড়া বের হয়ে ফলের ভিতরে ঢুকে বীজ খেতে থাকে। এতে অনেক অপরিপক্ক ও পরিপক্ক ফল ঝরে যায়। আক্রান্ত ফল খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে পড়ে এবং ফলের বাজার মূল্য কমিয়ে দেয়
ছাতরা পোকাঃ গাছের শাখা প্রশাখা ও পাতার নীচের দিকে এ পোকা একত্রে গাঁদা হয়ে থাকে। এ ছাড়া ফলের গায়ে চুলের গোড়াতেও এদের আক্রমণ দেখা যায়। পূর্ণাঙ্গ পোকা ফল ও নিম্ন পাতা থেকে রস চুষে খেয়ে গাছকে দুর্বল করে ফেলে। এ পোকা দ্বারা নিঃসৃত পদার্থে স্যুটি মোল্ড ছত্রাক জন্মে যা পাতার সালোকসংশেস্নষণকে বাধাগ্রস্ত করে এবং গাছ দুর্বল হয়ে পড়ে।
 দমন ব্যবস্থা: 
ফল ছিদ্রকারী পোকা দমন ব্যবস্থাঃ আক্রান্ত ফল কুড়িয়ে মাটির নীচে পুতে ফেলতে হবে এবং বাগান পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। ডেসিস ২.৫ ইসি রিপকর্ড ১০ ইসি প্রতি লিটার পানির সাথে ১ মি.লি. হারে মিশিয়ে ফলের মার্বেল অবস্থা থেকে শুরু করে ১৫ দিন অন্তর ২-৩ টি স্প্রে করতে হবে।
ছাতরা পোকা দমন ব্যবস্থাঃ আক্রমণের প্রথম দিকে পোকাসহ আক্রান্ত পাতা ধ্বংস করে ফেলতে হবে। প্রতি লিটার পানির সাথে ৫ গ্রাম সাবান মিশিয়ে ৭ দিন পর পর ২/৩ বার স্প্রে করতে হবে। আক্রমণ তীব্র হলে এডমায়ার ২০০ এসএল ০.৪ মি.লি. প্রতি লিটার পানির সাথে মিশিয়ে ১০ দিন পরপর ২/৩ বার স্প্রে করতে হবে।

 সার ব্যবস্থাপনা

সারের নাম গাছের বয়স(বছর)
১-২ ২-৪ ৫-৭ ৮-১০ ১০-১৫ ১৫ বছর এর উর্দ্ধে
গোবর (কেজি) ১০-১৫ ১৫-২০ ২০-২৫ ২৫-৩০ ৩০-৪০ ৪০-৫০
ইউরিয়া (গ্রাম) ২০০ ৩০০ ৪৫০ ৭৫০ ১২০০ ১৫০০
টিএসপি (গ্রাম) ২৫০ ৪৫০ ৭৫০ ১২০০ ১৫০০ ২০০০
এমওপি(গ্রাম) ১৫০ ৩০০ ৪৫০ ৬০০ ৭৫০ ১০০০

প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন।

We will be happy to hear your thoughts

Leave a Reply

শখের কৃষি
Logo
Reset Password
Shopping cart