বারি মাল্টা-১

বারি মাল্টা-১

বৈশিষ্ট্য : নিয়মিত ফলদানকারী উচ্চ ফলনশীল জাত। গাছ খাট, ছড়ানো ও অত্যধিক ঝোপালো। মধ্য ফাল্গুন থেকে মধ্য চৈত্র পর্যমত্ম সময়ে গাছে ফুল আসে এবং কার্তিক মাসে ফল আহরণ উপযোগী হয়। ফল গোলাকার, মাঝারী আকৃতির (১৫০ গ্রাম)। ফলের দৈর্ঘ্য ৭ সে.মি. এবং প্রস্থ ৫ সে.মি.। পাক ফলের রং সব
উপযোগী এলাকা  : বৃহত্তর সিলেট, চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও পঞ্চগড়সহ দেশের সব অঞ্চলের জন্য উপযোগী।
বপনের সময়  : সাধারণত মধ্য বৈশাখ থেকে মধ্য ভাদ্র (মে-আগস্ট) মাসের মধ্যে মাল্টা চারা লাগানো উত্তম। তবে পানি সেচ নিশ্চিত করা গেলে বছরের অন্যান্য সময়ও চারা লাগানো যেতে পারে।
মাড়াইয়ের সময়:  ফল পূর্ণতা প্রাপ্তির সাথে সাথে ফলের গাঢ সবুজ বর্ণ হালকা সবুজ বা ফ্যাকাশে সবুজ হতে থাকে। বারি মাল্টা -১ সেপ্টেম্বর অক্টোবর মাসে আহরণ করা হয়।
ফলন: ১৮-২০ টন/হেক্টর

 রোগবালাই ও দমন ব্যবস্থা

 রোগবালাই: 
ড্যাম্পিং অফ রোগঃ মাল্টার নার্সারীর জন্য এটি একটি মারাত্বক রোগ। বীজ গজানোর পূর্বে বা পরে উভয় সময়েই এ রোগের আক্রমণ হতে পারে। এ রোগের আক্রমণে চারা গোড়ার দিকে পঁচে যায় এবং চারা মরে যায়। বর্ষা মৌসুমে এ রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি হয়।
গামোসিস (Gummosis)t ফাইটোফথোরা নামক ছত্রাকের আক্রমণে এ রোগ হয়। রোগাক্রান্ত গাছের কান্ড ও ডাল বাদামী বর্ণ ধারণ করে। আক্রান্ত ডালে লম্বালম্বি ফাটল দেখা দেয় এবং ফাটল থেকে আঠা বের হতে থাকে। আক্রান্ত ডালের পাতা হলুদ হয়ে যায় এবং ডাল উপর দিকে থেকে মরতে থাকে। কান্ড বা ডালের সম্পূর্ণ বাকল রিং আকারে নষ্ট হয়ে গাছ মারা যায়। মাটিতে অতিরিক্ত পানি জমে গেলে এ রোগের প্রাদূর্ভাব বেশি হয়। গাছের শিকড় ও গোড়ার বাকল কর্তনজনিত কারণে ক্ষতের সৃষ্টি হলে ক্ষতস্থানের ভিতর দিয়ে এ রোগের জীবাণু প্রবেশ করে।
 দমন ব্যবস্থা: 
ড্যাম্পিং অফ রোগ প্রতিকারঃ বীজ বপনের আগে বীজতলা পঁচা খৈল সার (৬০ গ্রাম খৈল প্রতি বর্গ মিটার মাটিতে) দিয়ে শোধন করতে হবে। বীজ বপনের পূবে এগ্রোসিন দ্বারা বীজ শোধন করতে হবে। বীজতলায় প্রয়োজনের অতিরিক্ত সেচ দেয়া যাবেনা এবং দ্রৃত পানি নিকাশের ব্যবস্থা করতে হবে। রোগ দেখামাত্র রিডোমিল গোল্ড @ ০.২% হারে প্রয়োগ করতে হবে।
গামোসিস (Gummosis) প্রতিকারঃ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন আদিজোড়/রুট স্টক যেমন-রংপুর লাইম, রাফ লেমন, ক্লিওপেট্রা ম্যান্ডারিন, কাটা জামির ব্যবহার করতে হবে।পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা করা এবং গাছকে সবল ও সতেজ রাখা। মাটি স্যাঁত স্যাঁতে হতে না দেয়া এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত পানি সেচ না দেয়া।আক্রান্ত স্থান ছুঁরি দ্বারা চেছে বর্দোপেস্ট এর প্রলেপ দেয়া (১০০ গ্রাম তুঁতে ও ১০০ গ্রাম চুন আলাদা পাত্রে গুলিয়ে পরিমিত পানিতে মিশিয়ে বর্দোপেস্ট তৈরি করতে হবে)।

 পোকামাকড় ও দমন ব্যবস্থা

 পোকামাকড়: 
লিফ মাইনার (Leaf miner) : লিফ মাইনার মাল্টার অন্যতম একটি মারাত্বক পোকা। সাধারণত গ্রীষ্ম ও শরৎকালে গাছে নতুন পাতা গজালে এ পোকার আক্রমণ লক্ষ্য করা যায়। এ পোকার কীড়াগুলো পাতার উপত্বকের ঠিক নীচের সবুজ অংশ খেয়ে আকা-বাঁকা সুড়ঙ্গের মত সৃষ্টি করে। পরবর্তী কালে গাছের পাতার কিনারার দিক মুড়ে পুত্তলীতে পরিণত হয়। আক্রমণের মাত্রা তীব্র হলে গাছের পাতা কুঁকড়ে যায় ও বিবর্ণ হয়ে শুকিয়ে ঝরে পড়ে। আক্রান্ত পাতায় ক্যাঙ্কার রোগ হয়। গাছ দুর্বল হয়ে যায় ও গাছের বৃদ্ধি ব্যহত হয়। শ্রাবণ-কার্তিক মাসে এ পোকার আক্রমণের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়।
ফলের মাছি পোকা (Fruit fly) : পূর্নাঙ্গ পোকা সাধারণত আধা পাকা ফলের ভিতরে ডিম পাড়ে। ডিম ফুটে কীড়া বের হয়ে ফলের শাঁস খেতে থাকে। পরবর্তী সময়ে আক্রান্ত ফলে ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া জন্মে ও আক্রান্ত ফল পঁচে ঝরে পড়ে। এ পোকার আক্রমণে কৃষক খুব ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
 দমন ব্যবস্থা: 
লিফ মাইনার (Leaf miner) প্রতিকারঃপরিচ্ছন্ন চাষাবাদ করতে হবে।প্রাথমিক অবস্থায় লার্ভাসহ আক্রামত্ম পাতা সংগ্রহ করে পুড়িয়ে ফেলতে হবে।আঁঠালো হলুদ ফাঁদ ব্যবহার করা। হলুদ রঙ্গের বয়ামের বাইরের অংশে পোড়া মবিলের প্রলেপ দিয়ে এ ফাঁদ তৈরি করা হয়। কচি পাতায় এডমায়ার২০০ এসএল ০.২৫ মি.লি.বা কিনালাক্স২৫ ইসি ২ মি.লি. প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে ১০-১৫ দিন পর পর ৩-৪ বার গাছে স্প্রে করতে হবে।
ফলের মাছি পোকা (Fruit fly) প্রতিকারঃ আক্রান্ত ফল সংগ্রহ করে পুড়িয়ে ফেলতে হবে বা মাটির গভীরে পুতে ফেলতে হবে।ফল পরিপক্ক হওয়ার সাথে সাথে ফল সংগ্রহ করে ফেলতে হবে।সেকা্র ফেরোমন ফাঁদ দ্বারা পূর্ণাঙ্গ পুরুষ পোকা মারা যেতে পারে। আগস্ট মাস থেকে ফল সংগ্রহের পূর্ব পর্যন্ত বাগানে ১০ মিটার অন্তর এ ফাঁদ ব্যবহার করতে হবে।

 সার ব্যবস্থাপনা

সারের নাম গাছের বয়স(বছর)
১-২ ৩-৪ ৫-৭ ৮-১০ ১০ এর অধিক
গোবর (কেজি) ১০-১২ ১২-১৫ ১৫-১৮ ১৮-২০ ২০-২৫
ইউরিয়া (গ্রাম) ২০০-৩০০ ৩০০-৪৫০ ৪৫০-৬০০ ৬০০-৭০০ ৭৫০
টিএসপি (গ্রাম) ১০০-১৫০ ১৫০-২০০ ২০০-৩০০ ৩০০-৪৫০ ৫০০
এমওপি(গ্রাম) ১০০-১৫০ ১৫০-২০০ ২০০-২৫০ ২৫০-৩০০ ৪৫০
জিংক সালফেট(গ্রাম) ১০ ১৫ ২০ ২৫ ৩০
বরিক এসিড ১০ ১২ ১৫

প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন।

We will be happy to hear your thoughts

Leave a Reply

শখের কৃষি
Logo
Reset Password
Shopping cart