বারি মরিচ-৩

বারি মরিচ-৩

বৈশিষ্ট্য : গাছের উচ্চতা প্রায় ৭৫-৮০ সেন্টিমিটার। প্রতিটি গাছে গড়ে ৬০-৭০টি পাকা মরিচ ধরে। গাছ প্রতি পাকা মরিচের গড় ফলন ১৮০-২০০ গ্রাম। মরিচের ফল (পড) লম্বা আকৃতির, দৈর্ঘ্য গড়ে ১০ সেন্টিমিটার এবং ওজন গড়ে ৩.০ গ্রাম। রোগের আক্রমণ তুলনামূলকভাবে কম। অপরিপক্ক অবস্থায় হালকা সবুজ এবং পরিপক্ক অবস্থায় উজ্জ্বল লাল বর্ণের হয়ে থাকে। পরিপক্ক লাল ও শুকনা মরিচের অনুপাত ৪:১।
উপযোগী এলাকা  : বাংলাদেশের সর্বত্র
বপনের সময়  : সেপ্টেম্বর (রবি মৌসুম)
মাড়াইয়ের সময়:  জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি
বীজ/চারার হার: 
বীজ হার : ১-১.৫ কেজি/হেক্টর (সারিতে বপন), ২.০-৩.০ কেজি/হেক্টর (ছিটিয়ে বপন)
চারার হার :৪০০০০ চারা/হেক্টর।
বপন/ রোপনের দূরত্ব: ৫০ সেন্টিমিটার X ৫০সেন্টিমিটার (সারিতে বপন/রোপন) ১২-১৫ চারা/মিটার2 (ছিটিয়ে বপন)
ফলন: ৮.০-১০ টন/হেক্টর (পাকা মরিচ)

 রোগবালাই ও দমন ব্যবস্থা

 রোগবালাই: 


এ্যান্থাকনোজ/ফল পঁচা/ডাইব্যাক (Colletotrichum capsici)

চুয়ানিফোরা পাতা পচাঁ (Choaniphora sp.)

ব্যাকটেরিয়াল পাতায় দাগ (Xanthomonas campestris)

ঢলে পড়া (fusarium oxysporum

ঢলে পড়া রোগ, ফল পচা/ফ্রুট রট, ব্যাকটেরিয়াল লিফ স্পট ইত্যাদি
 দমন ব্যবস্থা: 
১। বীজ শোধন করে জমিতে লাগাতে হবে। প্রতি কেজি বীজ ৩ গ্রাম ডাইথেন এম-৪৫ দিয়ে শোধন করতে হবে।
২। প্রাথমিক অবস্থায় ২ গ্রাম রিডোমিল গোল্ড এম. জেড-৭২ এক লিটার পানিতে মিশিয়ে ৭ দিন পর পর ৩ বার বীজতলার মাটি ভিজিয়ে দিতে হবে।
৩। বাড়ন্ত গাছে এই রোগ দেখা দিলে ১লিটার পানিতে ২ গ্রাম ব্যাভিস্টিন/ক্যাপটান গুলে আক্রান্ত গাছের গোড়ার মাটিতে দিতে হবে (ঢলে পড়া রোগের ক্ষেত্রে)।
৪। প্রথমে ১-২ টা গাছে লক্ষণ দেখা দিলে সেগুলো জমি থেকে উঠিয়ে ফেলতে হবে।
৫। প্রতি লিটার পানিতে ২.৫ গ্রাম ডাইথেন এম-৪৫ মিশিয়ে ফুল আসার সময় এবং পরে রোগ দেখা দিলে স্প্রে করতে হবে (ফল পচা এবং ব্যাকটেরিয়াল লিফ স্পট এর ক্ষেত্রে)।

 পোকামাকড় ও দমন ব্যবস্থা

 পোকামাকড়: 


থ্রিপস আক্রান্ত পাত-উপরের দিকে বাঁকা

মাকড়/মাইটস আক্রান্ত পাতা-নিচের দিকে বাঁকা

ফল ছিদ্রকারী পোকা (Spodoptera litura)

থ্রিপস/চুঙ্গি পোকা, মাকড়/মাইটস, জাব পোকা/এফিড এবং ফল ছিদ্রকারী পোকা
 দমন ব্যবস্থা: 
১। প্রতি লিটার পানিতে ২ মিলি লেবাসিড/এডমায়ার মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে (থ্রিপস এর ক্ষেত্রে)।
২। ভার্মিটেক/ওমাইট/থিয়াভিট ২ মিলি/লিটার পানিতে মিশিয়ে প্রয়োগ করতে হবে (মাকড় এর ক্ষেত্রে)।
৩। টাফগর/মেটাসিসটক্স ১ চা চামচ ৫ লিটার পানির সঙ্গে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। ১০ দিন পর পর ঔষধ পরিবর্তন করে স্প্রে করলে এফিড দমন করা যায় (জাব পোকার ক্ষেত্রে)।
৪। ট্রেসার ৪৫ এসসি ০.৪ মিলি/লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। ঔষধের মাত্রা বেশি হলে ফুল ঝরে পড়ে (ফল ছিদ্রকারী পোকার ক্ষেত্রে)।

 সার ব্যবস্থাপনা

ভাল ফলন পেতে হলে মরিচের জমিতে হেক্টর প্রতি নিম্নলিখিত মাত্রায় সার প্রয়োগ করতে হবে। চারা রোপনের ২৫, ৫০ এবং ৭০ দিন পর পর্যায়ক্রমে ১ম, ২য় ও ৩য় কিস্তিতে হেক্টর প্রতি সার নিম্নোক্ত পরিমাণে গাছের গোড়া থেকে ১০-১৫ সেমি দূরে ছিটিয়ে ভিটির মাটিতে মিশিয়ে দিতে হবে।

সারের নাম মোট পরিমাণ (কেজি) শেষ চাষের সময় প্রয়োগ (কেজি) পরবর্তী পরিচর্যা হিসেবে প্রয়োগ
১ম কিস্তি ২য় কিস্তি ৩য় কিস্তি
গোবর/কম্পোষ্ট ১০টন সব
ইউরিয়া ২১০ ৭০ ৭০ ৭০
টিএসপি ৩৩০ সব
এমওপি ২০০ ৬৫ ৪৫ ৪৫ ৪৫
জিপসাম (গ্রাম) ১১০ সব

প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন।

We will be happy to hear your thoughts

Leave a Reply

শখের কৃষি
Logo
Reset Password
Shopping cart