বারি পেঁয়াজ-৪

বারি পেঁয়াজ-৪

বৈশিষ্ট্য : শীতকালীন জাত। কন্দের আকার লম্বাটে, বোঁটা মাঝারি চিকন, বড় আকৃতির, গাঢ় লালচে বর্ণের এবং মধ্যম ঝাঁঝযুক্ত। গাছের গড় উচ্চতা ৫৫-৬৫ সেন্টিমিটার এবং প্রতিটি গাছে ১০-১২ টি পাতা হয়। প্রতিটি কন্দের ওজন প্রায় ৩০-৫০ গ্রাম ও কন্দের ব্যাস ৪-৬ সেন্টিমিটার বা ততোধিক হতে পারে।
উপযোগী এলাকা  : সমগ্র উত্তরাঞ্চল, কুষ্টিয়া, যশোর, চুয়াডাংগা, মেহেরপুর, মানিকগন্জ, রাজবাড়ী এবং ফরিদপুর অঞ্চলসহ সমতল এলাকা
বপনের সময়  : বীজ বপন/কন্দ রোপন: মধ্য কার্তিক-মধ্য অগ্রহায়ন (নভেম্বর)
মাড়াইয়ের সময়:  চৈত্র মাস (মধ্য মার্চ থেকে মধ্যএপ্রিল)
বীজ/চারার হার: 
বীজ: ৪.০ -৫.০ কেজি/হেক্টর .
চারা: ৮.৮০ -১০.০০ লক্ষ/হে.
বপন/ রোপনের দূরত্ব: সারি-সারি: ১২-১৫ মে.মি., চারা-চারা: ৬.০-৭.৫ সে.মি
ফলন: ১৭-২২ টন/হে


বারি পেঁয়াজ-৪

 রোগবালাই ও দমন ব্যবস্থা

 রোগবালাই: 


পার্পল ব্লচ রোগে আক্রান্ত পেঁয়াজ গাছ

পার্পল ব্লচ, কান্ড পচা, পচন রোগ (নরম পচন, কালো পচন ও শুকনা পচন)
 দমন ব্যবস্থা: 
১। সুস্থ, নীরোগ বীজ ও চারা ব্যবহার ।
২। আক্রান্ত গাছের পরিত্যক্ত অংশ পুড়িয়ে ফেলা ।
৩। ক. রোভরাল বা ভিটাভেক্স-২০০ নামক ছত্রাকনাশক কেজি প্রতি ২.৫ গ্রাম হারে মিশিয়ে বীজ শোধন ।
খ. পার্পল ব্লচ এর ক্ষেত্রে: রোভরাল+রিডোমিল/এন্ট্রাকল/এমিস্টারটপ/ ক্যাব্রিওটপ (একটির পর বদলিয়ে অন্যটি) প্রতি লিটার পানিতে ২.০ গ্রাম অথবা ইমিনেন্টপ্রো /নাটিভো ১.০ গ্রাম/লিটার মিশিয়ে ১০দিন অন্তর গাছের সমস্ত পাতা ও গোড়ায় (কান্ড পচা রোগের ক্ষেত্রে) ভালভাবে প্রয়োগ করতে হবে।
৪। আক্রান্ত জমিতে অন্য ফসলের সঙ্গে শস্য পর্যায় অনুসরন করা ।

 পোকামাকড় ও দমন ব্যবস্থা

 পোকামাকড়: 


থ্রিপস পোকা

থ্রিপস পোকা আক্রান্ত পেঁয়াজ খেত

থ্রিপস পোকা
 দমন ব্যবস্থা: 
সমন্বিত দমন ব্যবস্থাপনা
১. আঠালো সাদা ফাঁদ ব্যবহার ।
২. পরভোজী মাকড়সা ও থ্রিপস পোকার সংখ্যা বৃদ্ধি করে এই পোকা নিয়ন্ত্রন করা যায়।
৩. এক কেজি আধা ভাঙ্গা নিম বীজ ২০ লিটার পানিতে ১২ ঘন্টা ভিজিয়ে রেখে উক্ত পানি (ছেঁকে নেওয়ার পর) পাতার নীচের দিকে স্প্রে করা।
৪. আক্রমন বেশি হলে কুইনালফস ২৫ ইসি (করলাক্স/একালাক্স/কিনালাক্স/অন্য নামের) বা ডাইমেথয়েট ৪০ ইসি (পারফেকথিয়ন/টাফগর/অন্য নামের) প্রতি ১০ লিটার পানিতে ১০ মিলি (২ মুখা) হারে বা ম্যালাথিয়ন ৫৭ ইসি (ফাইফানন/সাইফানন) ১০ লিটার পানিতে ১০ মিলি হারে বা ট্রেসার ১০ লিটার পানিতে ০.৪ মিলি হারে স্প্রে করে এদের নিয়ন্ত্রন করা যায়।

 সার ব্যবস্থাপনা

পেঁয়াজের সময়কাল মধ্যম দীর্ঘ (১০০-১১৫) দিন। সেজন্য জন্য সারের প্রয়োজন বেশি। নিম্নে হেক্টর প্রতি সারের পরিমাণ ও প্রয়োগ পদ্ধতি উল্লেখ করা হলো।

সারের নাম মোট পরিমাণ (কেজি) শেষ চাষের সময় প্রয়োগ (কেজি) পরবর্তী পরিচর্যা হিসেবে প্রয়োগ
১ম কিস্তি ২য় কিস্তি
গোবর ৫টন সব
টিএসপি ২৬০ সব
এমওপি ২২৫ ৭৫ ৭৫ ৭৫
ইউরিয়া ২৪০ ৮০ ৮০ ৮০
জিপসাম ১১০ সব

জমিতে শেষ চাষের পূর্বে সম্পূর্ণ গোবর, টিএসপি, জিপসাম, জিংক ও বোরন সার ছিটিয়ে মাটির সাথে ভালভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। এরপর ইউরিয়া ও এমপি সার যথাক্রমে শেষ চাষে, প্রথম কিস্তি গাছের বয়স ২৫-৩০ দিন, ২য় কিস্তি গাছের বয়স ৫০-৫৫ দিন হলে উপরের ছকে উল্লেখিত পরিমাণ মত প্রয়োগ করতে হবে।

প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন।

We will be happy to hear your thoughts

Leave a Reply

শখের কৃষি
Logo
Reset Password
Shopping cart