বারি ধনিয়া

ফসলের নাম    : ধনিয়া
জাতের নাম     : বারি ধনিয়া-১

বৈশিষ্ট্য : গাছ উচ্চতায় ৪০-৯০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। প্রতি গাছে পাতার সংখ্যা ১৬-১৮টি যার গাছ প্রতি ওজন প্রায় ৬-৮ গ্রাম। প্রতি গাছে ৪০০-৫০০ টি বীজ হতে পারে। বীজগুলো হরিদ্রা বর্ণের মাঝারী আকারের। পাতা ও বীজ উভয়ই ব্যবহার্য।
উপযোগী এলাকা  : সমগ্র বাংলাদেশ
বপনের সময়  : অক্টোবর থেকে নভেম্বর
মাড়াইয়ের সময়:  অক্টোবর থেকে নভেম্বর (কার্তিক-অগ্রহায়ণ)
বীজ/চারার হার: সারিতে হেক্টর প্রতি ৮-১০ কেজি ও ছিটিয়ে বোনার ক্ষেত্রে ১০-১২ কেজি বীজ দরকার।
বপন/ রোপনের দূরত্ব: সেচাধীন জমিতে ৩০ x ৪০ সেঃমিঃ দুরত্বে এবং ৪ সেঃমিঃ গভীরে কোনভাবই যেন বীজ প্রবেশ না করে।
ফলন: হেক্টর প্রতি গড়ে ০.৫-০.৮ টন এবং পর্যাপ্ত পরিচর্যা ও সেচ প্রয়োগে ১.৭-২.০ টন শুকনা বীজের ফলন পাওয়া যায় এবং ৩-৪ টন সবুজ কাঁচা পাতার ফলন পাওয়া যায়।


বারি ধনিয়া-১

 রোগবালাই ও দমন ব্যবস্থা

 রোগবালাই: 


কান্ড ফোলা রোগ
ধনিয়ার একটি ক্ষতিকারক রোগ। Protomyces macrosporum ছত্রাকের আক্রমণে কান্ড ফোলা রোগ হয়ে থাকে এবং অনুকুল আবহাওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮০ ভাগ। শিকড় ব্যতিত গাছের সকল অংশ যেমন- কান্ড, শাখা-প্রশাখা, পাতা, ফুল ও ফল এ জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হয়ে থাকে। এ রোগের আক্রমণে ধনিয়ার কান্ড বা শাখা প্রশাখা ফুলে যায়। ধীরে ধীরে এ ফোলা বিস্তৃত হয়ে সমম্ত কান্ড, শাখা-প্রশাখা ও পুষ্প মঞ্জুরী আক্রান্ত হয়। পুষ্প মঞ্জুরীতে আক্রমণ হলে ফুল শুকিয়ে মরে যায়।এটি একটি মাটি বাহিত এবং বীজ বাহিত রোগ যা বীজের সাথে বা বাতাসে ধূলা বালির সাথে উড়ে এক জমি হতে অন্য জমিতে বা এক এলাকা হতে অন্য এলাকায় বিস্তার লাভ করে থাকে।

পাউডারি মিলডিউ, কান্ড ফোলা বা গল রোগ
 দমন ব্যবস্থা: 
কান্ড ফোলা (Stem gall) রোগ দমন ব্যবস্থা :
১. সুস্থ, সবল ও রোগমুক্ত বীজ ব্যবহার করতে হবে ।
২. গল রোগ বীজ ও মাটি বাহিত হওয়ায় বীজ বপনের পূর্বে বীজ ও মাটি উভয়ই শোধন করতে হবে ।
৩. প্রতি কেজি বীজের সহিত ৩-৪ গ্রাম ক্যাবরিওটপ মিশিয়ে বপণ করতে হবে ।
৪. বীজ বপনের পূর্বে প্রতি লিটার পানির সাথে ৩-৪ গ্রাম ক্যাবরিওটপ মিশিয়ে মাটি ড্রেনচিং করতে হবে ।
৫. ধনিয়ার বীজ অংকুরোদগমের ১৫-২০ দিন পর অথবা রোগের প্রাথমিক অবস্থায় প্রতি লিটার পানির সাথে ৩-৪ গ্রাম ক্যাবরিওটপ/ কমপেনিয়ন/টিল্ট (@০.০৫%) ১০-১৪ দিন পর পর ৩-৪ বার স্প্রে করতে হবে ।
পাউডারি মিলডিউ এর ক্ষেত্রে ধনিয়ার মারাত্মক রোগ পাউডারি মিলডিউ। এ রোগের আক্রমনে গাছের বিটপ অংশে সাদা সাদা পাউডারের মতো গুড়া দেখা যায়। আক্রান্ত পাতার সবুজ কণা নষ্ট হয়ে যায় ও পাতা শুকিয়ে যায়। গাছে ফুল হলেও ফল ধরে না, এমনকি আগে ফল ধরলে তা পুষ্ট হয় না। শীতের সময় হঠাৎ মেঘলা করে ঠান্ডা কমে গেলে এ রোগ দেখা দেয়। নাবি ফসলে এই রোগের আক্রমন বেশী হয়। এ রোগ দমনের জন্য প্রতি লিটার পানিতে তিন গ্রাম থিওভিট মিশিয়ে গাছে স্প্রে করতে হবে।

 পোকামাকড় ও দমন ব্যবস্থা

 পোকামাকড়: 


জাবপোকা আক্রান্ত গাছ

জাব পোকা
 দমন ব্যবস্থা: জাবপোকাই কীটপতঙ্গের মধ্যে ধনিয়ার প্রধান শত্রু। কালচে রঙের ছোট পোকা গাছের গ্রায় সব জায়গাতেই ঘন হয়ে বসে গাছের রস চুষে খায়। আক্রমন বেশী হলে পাতা হলদে হয়ে গাছ শুকিয়ে যায়। গাছে ফুল ও ফল ধরার সময় জাবপোকার আক্রমন বেশী হয়। দমনের জন্য প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ মিলিলিটার ডাইমেক্রন-১০০ইসি বা ১মিলিলিটার মেটাসিসটক্স-২৫ইসি অথবা ম্যালাথিয়ন ০.৩ মিলি ভালোভাবে মিশিয়ে ৭-১০ দিন অন্তর ৩ বার গাছে স্প্রে করতে হবে।

 সার ব্যবস্থাপনা

ধনিয়া চাষের জন্য প্রতি হেক্টর নিম্নোক্ত হারে সার প্রয়োগ করতে হবে।

সারের নাম মোট পরিমাণ (কেজি) শেষ চাষের সময় প্রয়োগ (কেজি) পরবর্তী পরিচর্যা হিসেবে প্রয়োগ
১ম কিস্তি ২য় কিস্তি
গোবর ৫টন সব
ইউরিয়া ১৫০-১৮০কেজি ৭৫-৯০কেজি ৭৫-৯০কেজি
টিএসপি ১১০-১৩০কেজি সব
এমওপি ৯০-১১০কেজি সব
জিপসাম ১১০কেজি সব
জিংক ৩কেজি সব
বোরণ ১.৫কেজি সব

জমি তৈরির সময় গোবর, এমওপি ও টিএসপি, জিপসাম, জিংক ও বোরণ সার প্রয়োগ করতে হবে। ইউরিয়া ২ কিস্তিতে প্রয়োগ করতে হবে। চারা গজানোর ১৫ দিন পর ১ম কিস্তি এবং চারা গজানোর ৪০ দিন পর বাকি সার উপরি প্রয়োগ করতে হবে।

প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন।

 

জাতের নাম     : বারি ধনিয়া-২

বৈশিষ্ট্য : ধনিয়া গাছ উচ্চতায় ১০০-১৩৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। প্রতি গাছে পাতার সংখ্যা ১৮-২১ টি। প্রতি গাছে গড় আম্বেল ৬৩ টি, প্রতি আম্বেলে আম্বেললেটের সংখ্যা প্রায় ৬ টি এবং প্রতি আম্বেললেটে বীজের সংখ্যা প্রায় ৬ টি। প্রতি ১০০০ বীজের গড় ওজন ১১.৫৩ গ্রাম। বীজগুলো হরিদ্রা বর্ণের মাঝারী আকারের। পাতা ও বীজের উভয়ই ব্যবহার্য। এজাতের ধনিয়া বিশেষ বৈশিষ্ট (মে থেকে আগষ্ট ব্যতিত) বছরের বেশীর ভাগ সময় পাতা হিসাবে চাষ করা যায়।
উপযোগী এলাকা  : বৃহত্তর কুষ্টিয়া, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, ফরিদপুর, নাটোর, যশোর, শরিয়তপুর, মাদারীপুর, বগুড়া, ময়মনসিংহ , লালমনিরহাট, মাগুরাসহ অন্যান্য অঞ্চল যেখানে ধনিয়া চাষ হয়।
বপনের সময়  : কার্তিক থেকে অগ্রহায়ণ (মধ্য অক্টোবর- মধ্য নভেম্বর) মাস বীজ ফসলের জন্য উত্তম। তবে সবুজ পাতা ধনিয়ার জন্য মে থেকে আগষ্ট মাস ব্যাতিত বপন করা যায় এবং ভাল দাম পাওয়া যায়। সাথী ফসল হিসাবে শাক-সব্জি, আখ, আলু, ডাল ফসলের জমিতে ধনিয়া চাষ করা যায়। অতিরিক্ত সূর্যালোকে বীজ বপন করলে অঙ্কুরোদগমে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে। ধনিয়া বীজের জন্য বিলম্বে বীজ বপনে এর স্বাবাভিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং বিভিন্ন রোগবালাই এর আক্রমন বেড়ে যায়।
মাড়াইয়ের সময়:  বপনের ৪৫-৫০ দিন পর গাছে ফুল আসে এবং ১৩৫-১৪০ দিন পর ধনিয়া পাকে। পাকলে গাছ হলদে হয়ে পাতা শুকিয়ে যায়। সাধারনত খুব ভোরে অর্থাৎ সূর্যের আলোর প্রখরতা বৃদ্ধির পূর্বে গাছ উঠাতে হবে। ধনিয়ার বীজ হালকা সবুজ অবস্থায় থাকতেই গাছ তুলতে হবে। নতুবা বীজের মান ভাল হয় না।বীজ রোদে শুকিয়ে ঝাড়াই-মাড়াই করে পৃথক করা হয়। বীজে আর্দ্রতার পরিমান ১০% রেখে শুকিয়ে ভালোভাবে সংরক্ষন করতে হবে
বীজ/চারার হার: সারিতে হেক্টর প্রতি ৮-১০ কেজি ও ছিটিয়ে বোনার ক্ষেত্রে ১০-১২ কেজি বীজ দরকার।
বপন/ রোপনের দূরত্ব: বপনের ৪৫-৫০ দিন পর গাছে ফুল আসে এবং ১৩৫-১৪০ দিন পর ধনিয়া পাকে। পাকলে গাছ হলদে হয়ে পাতা শুকিয়ে যায়। সাধারনত খুব ভোরে অর্থাৎ সূর্যের আলোর প্রখরতা বৃদ্ধির পূর্বে গাছ উঠাতে হবে। ধনিয়ার বীজ হালকা সবুজ অবস্থায় থাকতেই গাছ তুলতে হবে। নতুবা বীজের মান ভাল হয় না। বীজ রোদে শুকিয়ে ঝাড়াই-মাড়াই করে পৃথক করা হয়। বীজে আর্দ্রতার পরিমান ১০% রেখে শুকিয়ে ভালোভাবে সংরক্ষন করতে হবে।
ফলন: হেক্টর প্রতি গড়ে ০.৫-০.৮ টন এবং পর্যাপ্ত পরিচর্যা ও সেচ প্রয়োগে ১.৭-২.০ টন শুকনা বীজের ফলন পাওয়া যায় এবং ৩-৪ টন সবুজ কাঁচা পাতার ফলন পাওয়া যায়।


বারি ধনিয়া-২

 রোগবালাই ও দমন ব্যবস্থা

 রোগবালাই: 


কান্ড ফোলা রোগ
ধনিয়ার একটি ক্ষতিকারক রোগ। Protomyces macrosporum ছত্রাকের আক্রমণে কান্ড ফোলা রোগ হয়ে থাকে এবং অনুকুল আবহাওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮০ ভাগ। শিকড় ব্যতিত গাছের সকল অংশ যেমন- কান্ড, শাখা-প্রশাখা, পাতা, ফুল ও ফল এ জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হয়ে থাকে। এ রোগের আক্রমণে ধনিয়ার কান্ড বা শাখা প্রশাখা ফুলে যায়। ধীরে ধীরে এ ফোলা বিস্তৃত হয়ে সমম্ত কান্ড, শাখা-প্রশাখা ও পুষ্প মঞ্জুরী আক্রান্ত হয়। পুষ্প মঞ্জুরীতে আক্রমণ হলে ফুল শুকিয়ে মরে যায়।এটি একটি মাটি বাহিত এবং বীজ বাহিত রোগ যা বীজের সাথে বা বাতাসে ধূলা বালির সাথে উড়ে এক জমি হতে অন্য জমিতে বা এক এলাকা হতে অন্য এলাকায় বিস্তার লাভ করে থাকে।

পাউডারি মিলডিউ, কান্ড ফোলা বা গল রোগ
 দমন ব্যবস্থা: 
কান্ড ফোলা (Stem gall) রোগ দমন ব্যবস্থা :
১. সুস্থ, সবল ও রোগমুক্ত বীজ ব্যবহার করতে হবে ।
২. গল রোগ বীজ ও মাটি বাহিত হওয়ায় বীজ বপনের পূর্বে বীজ ও মাটি উভয়ই শোধন করতে হবে ।
৩. প্রতি কেজি বীজের সহিত ৩-৪ গ্রাম ক্যাবরিওটপ মিশিয়ে বপণ করতে হবে ।
৪. বীজ বপনের পূর্বে প্রতি লিটার পানির সাথে ৩-৪ গ্রাম ক্যাবরিওটপ মিশিয়ে মাটি ড্রেনচিং করতে হবে ।
৫. ধনিয়ার বীজ অংকুরোদগমের ১৫-২০ দিন পর অথবা রোগের প্রাথমিক অবস্থায় প্রতি লিটার পানির সাথে ৩-৪ গ্রাম ক্যাবরিওটপ/ কমপেনিয়ন/টিল্ট (@০.০৫%) ১০-১৪ দিন পর পর ৩-৪ বার স্প্রে করতে হবে ।
পাউডারি মিলডিউ এর ক্ষেত্রে ধনিয়ার মারাত্মক রোগ পাউডারি মিলডিউ। এ রোগের আক্রমনে গাছের বিটপ অংশে সাদা সাদা পাউডারের মতো গুড়া দেখা যায়। আক্রান্ত পাতার সবুজ কণা নষ্ট হয়ে যায় ও পাতা শুকিয়ে যায়। গাছে ফুল হলেও ফল ধরে না, এমনকি আগে ফল ধরলে তা পুষ্ট হয় না। শীতের সময় হঠাৎ মেঘলা করে ঠান্ডা কমে গেলে এ রোগ দেখা দেয়। নাবি ফসলে এই রোগের আক্রমন বেশী হয়। এ রোগ দমনের জন্য প্রতি লিটার পানিতে তিন গ্রাম থিওভিট মিশিয়ে গাছে স্প্রে করতে হবে।

 পোকামাকড় ও দমন ব্যবস্থা

 পোকামাকড়: 


জাবপোকা আক্রান্ত গাছ

জাব পোকা
 দমন ব্যবস্থা: জাবপোকাই কীটপতঙ্গের মধ্যে ধনিয়ার প্রধান শত্রু। কালচে রঙের ছোট পোকা গাছের গ্রায় সব জায়গাতেই ঘন হয়ে বসে গাছের রস চুষে খায়। আক্রমন বেশী হলে পাতা হলদে হয়ে গাছ শুকিয়ে যায়। গাছে ফুল ও ফল ধরার সময় জাবপোকার আক্রমন বেশী হয়। দমনের জন্য প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ মিলিলিটার ডাইমেক্রন-১০০ইসি বা ১মিলিলিটার মেটাসিসটক্স-২৫ইসি অথবা ম্যালাথিয়ন ০.৩ মিলি ভালোভাবে মিশিয়ে ৭-১০ দিন অন্তর ৩ বার গাছে স্প্রে করতে হবে।

 সার ব্যবস্থাপনা

ধনিয়া চাষের জন্য প্রতি হেক্টর নিম্নোক্ত হারে সার প্রয়োগ করতে হবে।

সারের নাম মোট পরিমাণ (কেজি) শেষ চাষের সময় প্রয়োগ (কেজি) পরবর্তী পরিচর্যা হিসেবে প্রয়োগ
১ম কিস্তি ২য় কিস্তি
গোবর ৫টন সব
ইউরিয়া ১৫০-১৮০কেজি ৭৫-৯০কেজি ৭৫-৯০কেজি
টিএসপি ১১০-১৩০কেজি সব
এমওপি ৯০-১১০কেজি সব
জিপসাম ১১০কেজি সব
জিংক ৩কেজি সব
বোরণ ১.৫কেজি সব

জমি তৈরির সময় গোবর, এমওপি ও টিএসপি, জিপসাম, জিংক ও বোরণ সার প্রয়োগ করতে হবে। ইউরিয়া ২ কিস্তিতে প্রয়োগ করতে হবে। চারা গজানোর ১৫ দিন পর ১ম কিস্তি এবং চারা গজানোর ৪০ দিন পর বাকি সার উপরি প্রয়োগ করতে হবে।

প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন।

We will be happy to hear your thoughts

Leave a Reply

শখের কৃষি
Logo
Reset Password
Shopping cart