বারি গম-২৯ ও বারি গম-৩০

বারি গম-২৯

গম গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক উদ্ভাবিত বারি গম ২৯ একটি উচ্চ ফলনশীল গমের জাত। বাংলাদেশে উদ্ভাবিত সৌরভ জাতের সংগে  সিমিটের একটি জাতের সংকরায়ণের মাধ্যমে এবং বিভিন্ন আবহাওয়ায় পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে বিএডাব্লিউ ১১৫১ নামে এ জাতটি উদ্ভাবন করা হয়। বিভিন্নব নার্সারি ও ফলন পরীক্ষায়ও এ কৌলিক সারিটি ভাল বলে প্রমাণিত হয় বিভন্ন গবেষণা কেন্দ্রে ও মাঠ পর্যায়ের পরীক্ষায় ভাল ফলন দেয়ায় জাতটি জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক ২০১৪ সালে বারি গম ২৯ নামে অবমুক্ত করা হয়। জাতটি আকারে খাট এবং এর কান্ড  শক্ত হওয়ায় সহজে হেলে পড়ে না। জাতটি মোটামোটি তাপ সহনশীল, দানা সাদা ও আকারে মাঝারী।

জাতটির উচ্চতা ৯২-৯৬ সেন্টিমিটার এবং কুশির সংখ্যা তিন থেকে পাঁচটি। শীষ বের হতে ৬০-৬৪ দিন এবং বোনা থেকে পাকা পর্যন্ত ১০৫-১১০ দিন সময় লাগে। শীষ লম্বা এবং প্রতি শীষে দানার সংখ্যা ৪৫-৫০টি। দানার রং সাদা, চকচকে ও আকারে মাঝারী (হাজার দানার ওজন ৪৪-৪৮ গ্রাম)। জাতটি পাতার দাগ রোগ সহনশীল এবং পাতার মরিচ্ড রোগ প্রতিরোধী। জাতটি কানডের মরিচা রোগ (ইউজি ৯৯ রেস) প্রতিরোধী হওয়ায় ভবিষ্যতে এ রোগের প্রাদুর্ভাব হলে তা মোকাবেলায় বিশেষ ভূমিকা রাখবে। জাতটি শতাব্দীর চেয়ে গড়ে প্রায় ১০-১৫ ভাগ ফলন বেশি দেয়। উপযুক্ত পরিবেশে হেক্টরপ্রতি ফলন ৪০০০-৫০০০ কেজি। চারা অবস্থায় কুশিগুলো খাড়া (Erect) থাকে। গাছের রং গাঢ় সবুজ। উপরের কান্ডের গিরায় মাঝারী সংখ্যক রোম (Hair) থাকে। নিশান পাতা চওড়া ও হেলানো। শীষে মোমের মত মাঝারী ঘন আবরণ থাকে যা নিশান পাতার খোলে ও কান্ডের খুব ঘনভাবে থাকে। স্পাইকলেটে নিচের গ্লুমের ঘাড় মাঝারী চওড়া ও খাঁজ কাটা (Intendent), ঠোঁট মাঝারী (৫.১-১২.০ মিলিমিটার) এবং ঠোঁটে অনেক কাঁটা থাকে।

বারি গম-২৯


বারি গম-৩০

গম গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক উদ্ভাবিত বারি গম ৩০ একটি উচ্চ ফলনশীল গমের জাত। জাতটি ২০১৪ সালে জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক বারি গম ৩০ হিসেবে অবমুক্ত করা হয়। বাংলাদেশে বিএডাব্লিউ ৬৭৭ এবং বিজয় (বারি গম ২৩) জাতের সাথে সংকরায়ণের মাধ্যমে এ জাতটি উদ্ভাবন করা হয়। বিভিন্ন আবহাওয়ায় পরীক্ষা নিরীক্ষা করে বিএডাব্লিউ ১১৬১ নামে এ জাতটি নির্বাচন করা হয়। বিভিন্ন নার্সারি ও ফলন পরীক্ষায় এ কৌলিক সারিটি ভাল বলে প্রমাণিত হয়। প্রস্তাবিত জাতটি স্বল্প মেয়াদী এবং তাপ সহনশীল। দানা সাদা ও আকারে মাঝারী। আমন ধান কাটার পর দেরিতে বপনের জন্য এ জাতটি খুবই উপযোগী। চার থেকে ছয়টি কুশি বিশিষ্ট গাছের উচ্চতা ৯৫-১০০ সেন্টিমিটার। পাতা চওড়া ও গাঢ় সবুজ। শীষ বের হতে ৫৭-৬২ দিন এবং বোনা থেকে পাকা পর্যন্ত ১০০-১০৫ দিন সময় লাগে। শীষ লম্বা এবং প্রতি শীষে দানার সংখ্যা ৪৫-৫০টি। দানার রং সাদা, চকচকে ও আকারে মাঝারী (হাজার দানার ওজন ৪৪-৪৮ গ্রাম)। জাতটি পাতার দাগ রোগ সহনশীল এবং মরিচা রোগ প্রতিরোধী এবং তাপ সহিষ্ণু। সম্প্রতি গবেষণায় এ জাতটি গমের ব্লাস্ট রোগ সহনশীল হিসেবে প্রমানিত হয়েছে। তাই গমের ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধে এ জাতটি বিশেষভাবে উপযোগী। উপযুক্ত পরিবেশে হেক্টরপ্রতি ফলন ৪৫০০-৫৫০০ কেজি। চারা অবস্থায় কুশিগুলো কিছুটা হেলানো (Semi- erected) থাকে। গাছের রং গাঢ় সবুজ। উপরের কান্ডের  গিরায় কোন রোম (Hair) থাকে না। নিশান পাতা চওড়া ও হেলানো। মোমের মত আবরণ শীষে ও কান্ডের হালকা এবং নিশান পাতার খোলে মাঝারী আকারে থাকে। স্পাইকলেটে নিচের গ্লুমের ঘাড় মাঝারী চওড়া ও খাঁজ কাটা (Intendent), ঠোঁট মাঝারী (৫.১-১২.০ মিলিমিটার) এবং ঠোঁটে অনেক কাঁটা থাকে।

বারি গম-৩০

সুত্রঃ কৃষি প্রযুক্তি হাতবই 
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট

Tags:

We will be happy to hear your thoughts

Leave a Reply

Logo
Reset Password
Compare items
  • Total (0)
Compare
0