বারি কুল-২

বারি কুল-২

বৈশিষ্ট্য : উচ্চ ফলনশীল নিয়মিত ফলদানকারী জাত। গাছ মাঝারী, মধ্যম ছড়ানো। ভাদ্র মাসে গাছে ফুল আসে এবং মধ্য মাঘে ফল আহরণ শুরু হয়। ফল মাঝারী (৩৪ গ্রাম), বীজ ছোট, খাদ্যোপযোগী অংশ ৯১% ও খেতে সুস্বাদু (ব্রিকা্রমান ১১.৫%) ও কষ্টিভাব বিহীন।
উপযোগী এলাকা  : দেশের সর্বত্র চাষাবাদের উপযোগী।
বপনের সময়  : জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় ও ভাদ্র-আশ্বিন মাস চারা রোপণের উপযুক্ত সময়।
মাড়াইয়ের সময়:  মাঘে ফল আহরণ শুরু হয়।
ফলন: ১৮-২০ টন/হেক্টর

 রোগবালাই ও দমন ব্যবস্থা

 রোগবালাই: 
পাউডারি মিল্ডিউঃ সাধারণত কার্তিক মাসে এ রোগের উপদ্রব লক্ষ্য করা যায়। এ রোগের আক্রমণ হ’লে প্রথমে পাতার নিচে সাদা পাউডারের মত আবরণ দেখা যায় যা পরবর্তী সময়ে কাল বা বাদামী রং ধারণ করে। আস্তে আস্তে এ রোগ ফুল ও ফলে বিস্তার লাভ করে। এতে ফুল এবং ফল বাদামী রং ধারণ করে এবং ঝরে পরে। ফলের পরিপক্ক অবস্থায় এ রোগের আক্রমণ হ’লে ফল ফেটে যায়।
ফল পঁচাঃ ফলের নিম্ন প্রান্তে হালকা ধুসর-বাদামি দাগ দেখা দেয়। অনেক সময় ফলের গায়ে গাঢ়-বাদামি বলয়ের সৃষ্টি হয়। এ রোগের আক্রমণে ফলে ভিটামিন সি এর পরিমাণ কমে যায় এবং ক্ষতিকারক আফলা টক্সিন উৎপন্ন হয়।
ফলের গা খসখসে হওয়াঃ বোরনের অভাবজনিত কারণে ফলের গায়ে দাদেরমত খসখসে দাগ সৃষ্টি হয়। এতে ফলের উজ্জলতা ও বাজারমূল্য হ্রাস পায়।
 দমন ব্যবস্থা: 
পাউডারি মিল্ডিউ প্রতিকারঃ বাগান পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। গাছে ফুল আসার সময় প্রতি লিটার পানির সাথে ২ গ্রাম সালফোলাক বা কুমুলাক্স মিশিয়ে ১০-১৫ দিন পরপর ২-৩ বার পাতার নিচের দিক ভালভাবে ভিজিয়ে স্প্রে করতে হবে।
ফল পঁচাঃ প্রতিকারঃ আক্রান্ত ফল বাগান থেকে কুড়িয়ে পুড়িয়ে ফেলতে হবে অথবা মাটির অনেক গভীরে পুঁতে ফেলতে হবে।প্রতি লিটার পানির সাথে ২ গ্রাম হারে ইন্ডোফিল এম-৪৫ মিশিয়ে ১০-১৫ দিন পরপর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।
ফলের গা খসখসে হওয়া প্রতিকারঃ ফলের বাড়ন্ত অবস্থায় প্রতি লিটার পানির সাথে ২ গ্রাম হারে বরিক এসিড মিশিয়ে ১০-১৫ দিন পরপর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।

 পোকামাকড় ও দমন ব্যবস্থা

 পোকামাকড়: 
ফলের মাছি পোকাঃ স্ত্রী পোকা ছিদ্র করে পরিপক্ক হতে থাকা ফলের ভিতরে ডিম পাড়ে।ডিম পাড়ার ২-৫ দিনের মধ্যে কীড়া বের হয় এবং ভিতরের শাঁস খেতে থাকে। আক্রান্ত ফল খাওয়ার অযোগ্য হয়ে যায় এবং ঝরে পরে।
লিফ চেফারঃ এটি বিট্ল জাতীয় পোকা। বর্ষা মৌসুমে এ পোকার আক্রমণ বেশী হয়। বয়ষ্ক পোকা রাতে কচিপাতা খেয়ে ব্যাপক ক্ষতি করতে পারে।
 দমন ব্যবস্থা: 
ফলের মাছি পোকা প্রতিকারঃ আক্রান্ত ফল বাগান থেকে কুড়িয়ে পুড়িয়ে ফেলতে হবে অথবা মাটির অনেক গভীরে পুঁতে ফেলতে হবে।গ্রীষ্মকালে জমিতে চাষ দিয়ে লুকানো পুত্তলী উন্মুক্ত করে দিতে হবে। আশ্বিন-কার্তিক মাসে প্রতি লিটার পানির সাথে ১ মি.লি. রিপকর্ড বা সিম্বুশ অথবা ০.৫ মি.লি. ডেসিস মিশিয়ে ১০-১৫ দিন পরপর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।
লিফ চেফার প্রতিকারঃসুমিআলফা/সুমিথিয়ন প্রতি লিটার পানিতে ২ মি.লি. হারে মিশিয়ে গাছের পাতায় প্রতি ১০ দিন অমত্মর দু’বার স্প্রে করতে হবে। এছাড়া গাছের আশে পাশের আগাছা পরিস্কার করতে হবে এবং ক্লোরপাইরিফস জাতীয় কীটনাশক প্রতি লিটার পানিতে ৩ গ্রাম হারে মিশিয়ে মাটিতে প্রয়োগ করতে হবে।

 সার ব্যবস্থাপনা

সারের নাম গাছের বয়স(বছর)
১-২ ৩-৪ ৫-৬ ৭-৮ ৯ বা তদুর্ধ্ব
গোবর (কেজি) ১০ ১৫ ২০ ২৫ ৩০
ইউরিয়া (গ্রাম) ৩০০ ৫০০ ৭৫০ ১০০০ ১২৫০
টিএসপি (গ্রাম) ২৫০ ৪০০ ৭০০ ৮৫০ ১০০০
এমওপি(গ্রাম) ২৫০ ৪০০ ৭০০ ৮৫০ ১০০০

প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন।

We will be happy to hear your thoughts

Leave a Reply

শখের কৃষি
Logo
Reset Password
Shopping cart