বারি কামরাঙ্গা-২

বারি কামরাঙ্গা-২

বৈশিষ্ট্য : উচ্চ ফলনশীল নিয়মিত ফলদানকারী জাত। গাছ মাঝারী, মধ্যম খাড়া ও মধ্যম ঝোপালো। বছরে তিনবার ফল দেয় (জানুয়ারি, জুলাই, এবং অক্টোবর)। ফল মাঝারী (১০০ গ্রাম), ডিম্বাকৃতির ও হালকা হলুদ। শাঁস সাদা, রসালো, কচকচে এবং মিষ্টি (ব্রিকা্রমান ৮.০%)। ভক্ষণযোগ্য অংশ ৯৯%।
উপযোগী এলাকা : সমগ্র দেশে চাষোপযোগী।
বপনের সময় : চারা বা কলম রোপণের উপযুক্ত সময় মধ্য জ্যৈষ্ঠ থেকে মধ্য ভাদ্র (জুন- সেপ্টেম্বর) মাস। তবে সেচ সুবিধা থাকলে আশ্বিন- কার্তিক (অক্টোবর) মাস পর্যমত্ম চারা /কলম রোপণ করা যেতে পারে।
মাড়াইয়ের সময়: ফল পাকার পর গাছে বেশী দিন থাকে না, এক সপ্তাহের মধ্যেই ঝরে পড়ে। তাই পরিপক্ক হওয়ার সাথে সাথে ফল সংগ্রহ করতে হবে। পুষ্ট, রং উজ্বল ও হালকা হলুদ হলেই ফলসংগ্রহ করতে হয়।
ফলন: ৫৩ টন/হেক্টর

রোগবালাই ও দমন ব্যবস্থা

রোগবালাই:
ডাই ব্যাকঃ এক প্রকার ছত্রাকের আক্রমণে গাছের ডগা/ডাল উপরের দিক থেকে শুকিয়ে মারা যায়। আক্রমণের মাত্রা বেশি হলে সম্পূর্ণ গাছই মারা যেতে পারে।
এ্যানথ্রাকনোজঃ এক প্রকার ছত্রাকের আক্রমণে এ রোগ হয়। পাতা, ফুল ও ফলে এ রোগ হতে পারে। প্রথমে ছোট ছোট বাদামী রংয়ের দাগের মাধ্যমে এ রোগের শুরু হয় এবং আস্তে আস্তে এ দাগগুলো বড় হয়ে কালো বর্ণ ধারণ করে এবং আক্রান্ত স্থান পঁচে যায়। আক্রান্ত পাতা, ফুল ও ফল ঝরেও যেতে পারে।
দমন ব্যবস্থা:
ডাই ব্যাক প্রতিকারঃ আক্রান্ত ডাল কেটে ফেলতে হবে এবং কর্তিত অংশে বর্দোপেষ্ট লাগাতে হবে। আক্রান্ত গাছে ইন্ডোফিল এম-৪৫ (০.২%) অথবা বর্দোমিশ্রণ (১%) স্প্রে করতে হবে।
এ্যানথ্রাকনোজ প্রতিকারঃ আক্রামত্ম পাতা, ফুল ও ফল সংগ্রহ করে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। রোগের লক্ষণ দেখা দিলে ব্যাভিস্টিন অথবা নোইন ৫ ডবিস্নউপি প্রতি লিটার পানির সাথে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে ১০-১৫ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।

পোকামাকড় ও দমন ব্যবস্থা

পোকামাকড়:
বাকল ও ডাল ছিদ্রকারী পোকাঃ কামরাঙ্গার ক্ষতিকর পোকা সমূহের মধ্যে এটি অন্যতম। এ পোকা গাছের বাকল ও ডাল ছিদ্র করে ভিতরে ঢুকে। তাছাড়া কখনও কখনও এরা প্রশাখার কর্তিত অংশ দিয়েও ডালের ভিতর প্রবেশ করে। এ পোকার কীড়া রাতের বেলায় গাছের বাকল খেয়ে গাছের খাদ্য চলাচলের ব্যাঘাত ঘটায়। আক্রমণ বেশি হলে পুরো গাছটাই এক সময় শুকিয়ে মারা যায়। গাছে এ পোকার উপস্থিতি খুব সহজেই ডালের গায়ে ঝুলে থাকা কাঠের গুড়া-মিশ্রিত মলের ছোট ছোট দানা দ্বারা চিহ্নিত করা সম্ভব। দিনের বেলায় কীড়া গর্তের মধ্যে লুকিয়ে থাকে এবং রাতের বেলা সচল হয়।
ফল ছিদ্রকারী পোকাঃ টক জাতের কামরাঙ্গায় এ পোকার আক্রমণ কম হলেও বারি কামরাঙ্গা-১, বারি কামরাঙ্গা-২ ও অন্যান্য মিষ্টি জাতে মাঝে মাঝে ফল ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ দেখা যায়। এ পোকা ফলের গায়ে ডিম পাড়ে এবং ডিম থেকে উৎপন্ন শুটকীট ফলের শাঁস খেয়ে ভিতরে ঢুকে। এতে ফল খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে যায়।
ফলের মাছি পোকাঃ পূর্ণাঙ্গ পোকা সাধারণত আধা পাকা ফলের ভিতরে ডিম পাড়ে। ডিম ফুটে কীড়া বের হয়ে ফলের শাঁস খেতে থাকে। পরবর্তী কালে আক্রামত্ম স্থানে ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার জন্ম হয়। আক্রামত্ম ফল পঁচে যায় এবং খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
দমন ব্যবস্থা:
বাকল ও ডাল ছিদ্রকারী পোকাঃ প্রতিকারঃ ডালের গায়ে ঝুলে থাকা কাঠের গুড়া মিশ্রিত মল পরিস্কার করতে হবে ও কান্ডের ভিতরের পোকা বের করে মেরে ফেলতে হবে। ডালের গর্তের মধ্যে কেরোসিন বা পেট্রোল অথবা ন্যাফথোলিন প্রবেশ করিয়ে কাদা মাটি দ্বারা ছিদ্রের মুখ বন্ধ করে দিতে হবে। মার্শাল-২০ ইসি অথবা রগর/রকসিয়ন-৪০ ইসি জাতীয় কীটনাশক ২ মি.লি. প্রতি লিটার পানির সাথে মিশিয়ে গাছে এক সপ্তাহ পর পর ৩-৪ বার স্প্রে করতে হবে। পোকায় খাওয়া বাকল চেঁছে কপার জাতীয় ছত্রাকনাশকের প্রলেপ দিতে হবে।
ফল ছিদ্রকারী পোকাঃ প্রতিকারঃ আক্রান্ত ফল সংগ্রহ করে কীড়াসহ মাটির গভীরে পুঁতে ফেলতে হবে। বাগান পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। আলোক ফাঁদ ব্যবহার করেও এদের দমন করা যায়। ফল ধরার পর সুমিথিয়ন/লেবাসিড ২ মি.লি. হারে প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে ১৫ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।
ফলের মাছি পোকাঃ প্রতিকারঃ আক্রামত্ম ফল সংগ্রহ করে পুড়িয়ে ফেলতে হবে এবং বাগান পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করা।

সার ব্যবস্থাপনা

সারের নাম গাছের বয়স(বছর)
১-৩ ৪-৬ ৭-১০ ১০ বছরের উর্ধ্বে
জৈব সার (কেজি) ১০-১৫ ১৫-২০ ২০-৩০ ৩০-৪০
ইউরিয়া (গ্রাম) ৩০০-৪০০ ৪০০-৬০০ ৬০০-৮০০ ৮০০-১০০০
টিএসপি (গ্রাম) ২৫০-৩০০ ৩০০-৪০০ ৪০০-৫০০ ৫০০-৬০০
এমওপি(গ্রাম) ২৫০-৩০০ ৩০০-৪০০ ৪০০-৪৫০ ৪৫০-৫০০

প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন।

We will be happy to hear your thoughts

Leave a Reply

শখের কৃষি
Logo
Reset Password
Shopping cart