বারি আমড়া-১

বারি আমড়া-১

বৈশিষ্ট্য : সারা বছর ফল ধারণকারী উচ্চ ফলনশীল জাত। গাছ বামনাকৃতির, মধ্যম ঝোপালো। টবে, ছাদে ও বাড়ির আঙ্গিনায় চাষ করা যায় । ফল ছোট, গড় ওজন ৬০ গ্রাম, টক মিষ্টি স্বাদের (ব্রিকা্রমান ৭.০%)। বীজ ছোট ও নরম, খাদ্যোপযোগী অংশ ৭৩%।
উপযোগী এলাকা  : দেশের সর্বত্র চাষ উপযোগী।
বপনের সময়  : জুন-আগস্ট মাস চারা রোপণের সবচেয়ে উপর্যুক্ত সময়। তবে বর্ষার শেষেও চারা রোপণ করা যেতে পারে।
মাড়াইয়ের সময়:  ফল পরিপূর্ণ হলেই সবুজ অবস্থায় সংগ্রহ করতে হবে। গাছ পাকা আমড়া বীজের জন্য ব্যবহার করা হয়।
ফলন: ১৫-১৭ টন/হেক্টর

 রোগবালাই ও দমন ব্যবস্থা

 রোগবালাই: 
এনথ্রাকনোজঃ কখনো কখনো পাতায় ও ফলে বাদামী থেকে কালো দাগ পড়ে। এ রোগের কারণে পাতা আস্তে আস্তে মরে যায় এবং কচি ফল ঝরে যেতে পারে। আক্রমণ বেশি হলে চারা গাছ মারা যেতে পারে।
ডাইব্যাকঃ এই প্রকার ছত্রাকের আক্রমণে গাছের ডগা/ডাল উপরের দিক থেকে শুকিয়ে মারা যায়।
 দমন ব্যবস্থা: 
এনথ্রাকনোজ প্রতিকারঃ আক্রান্ত অংশ সংগ্রহ করে ধ্বংস করতে হবে। এ রোগ দেখা দিলে প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম ইন্ডোফিল এম-৪৫ /ম্যানকোজেব বা ০.৫ মি.লি. স্কোর ২৫০ইসি মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।
ডাইব্যাক প্রতিকারঃ আক্রান্ত ডাল কেটে ফেলতে হবে এবং কর্তিত অংশে বর্দোপেষ্ট লাগাতে হবে। আক্রান্ত গাছে ইন্ডোফিল এম-৪৫ (০.২%) অথবা বর্দোমিশ্রণ (১%) স্প্রে করতে হবে।

 পোকামাকড় ও দমন ব্যবস্থা

 পোকামাকড়: 
বিটল পোকাঃ এ পোকা কচি পাতা খেয়ে গাছকে পত্রশূন্য করে ফেলে। ফলে গাছ দূর্বল হয়ে যায় এবং ফলন কমে যায়। এ পোকার গায়ে লালচে ফোটারমত দাগ দেখা যায়। এপ্রিল-আগস্ট পর্যন্ত এ পোকার প্রাদুর্ভাব বেশী থাকে।
ডগা ছিদ্রকারী পোকাঃ এই পোকা গাছের ডগায় ছিদ্র করে ভিতরে ঢুকে কোষরস খায়, ফলে গাছ দূর্বল হয়ে যায়।
 দমন ব্যবস্থা: 
বিটল পোকা প্রতিকারঃ পোকার সংখ্যা কম হলে হাত দিয়ে ধরে মেরে ফেলা যায়। লার্ভা অবস্থায় গুচ্ছাকারে থাকার সময় পাতা সহ সংগ্রহ করে ধ্বংস করতে হবে। পোকার আক্রমণ দেখা দেয়ার সাথে সাথে সুমিথিয়ন ৫০ ইসি অথবা রগর ৪০ ইসি প্রতি লিটার পানিতে ২ মি.লি. হারে মিশিয়ে স্প্রে করে এই পোকা দমন করা যায়।
ডগা ছিদ্রকারী পোকা প্রতিকারঃ পোকা ও ডিমসহ আক্রান্ত ডগা কেটে ধ্বংস করতে হবে। গাছ/বাগান পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। সুমিথিয়ন/লিথিয়ন ৫০ ইসি ২ মিলি. হারে প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে ১৫-২০ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।

 সার ব্যবস্থাপনা

সারের নাম গাছের বয়স(বছর)
১-২ ৩-৪ ৫-৬ ৭-১০ ১১বছর বা তদুর্ধ
জৈব সার (কেজি) ৫-১০ ১০-১৫ ১৫-২০ ২০-২৫ ২৫-৩০
ইউরিয়া (গ্রাম) ১০০ ১৫০ ২০০ ২৫০০ ৩০০
টিএসপি (গ্রাম) ১৫০ ২০০ ২৫০ ৩০০ ৩৫০
এমওপি(গ্রাম) ১০০ ১৫০ ২০০ ২৫০ ৩০০
জিপসাম (গ্রাম) ৫০ ৬০ ৭৫ ৯০ ১০০

প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন।

We will be happy to hear your thoughts

Leave a Reply

শখের কৃষি
Logo
Reset Password
Shopping cart