বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট – বারি

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) দেশের সর্ববৃহৎ বহুবিধ ফসল গবেষণা প্রতিষ্ঠান। দেশের সার্বিক কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা অর্জন, কৃষকের আয় বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে অত্র প্রতিষ্ঠান বিভিনড়ব প্রকার দানা জাতীয় শস্য, কন্দাল ফসল, ডাল, তেল ফসল, সবজি, ফল, ফুলসহ প্রায় ২০৭টি ফসলের ওপর গবেষণা ও উনড়বয়নমূলক কার্যμম পরিচালনা করে আসছে। এ প্রতিষ্ঠান এসব ফসলের উচ্চ ফলনশীল উনড়বত জাত এবং উনড়বত চাষাবাদ পদ্ধতি উদ্ভাবন, ফসল ব্যবস্থাপনা, পোকামাকড় ও রোগবালাই দমন ব্যবস্থাসহ কৃষি যন্ত্রপাতি, ফসল সংগ্রহোত্তর প্রযুক্তি ইত্যাদি বিষয়ের ওপর লাগসই প্রযুক্তি উদ্ভাবনে গবেষণা করে থাকে। উদ্ভাবিত উনড়বত জাত ও উৎপাদন প্রযুক্তিসমূহ সম্প্রসারণ কর্মী, কৃষি সংশ্লিষ্ট এনজিও কর্মী ও কৃষকের নিকট হস্তান্তরের জন্য বিএআরআই কর্তৃপক্ষ নানা ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ ও তা বাস্তবায়ন করে থাকে। এ প্রতিষ্ঠানের কৃষি পরিবেশ অঞ্চলভিত্তিক ৭টি আঞ্চলিক ও ৩০টি উপকেন্দ্র রয়েছে। এ ছাড়া বারির গবেষণা কার্যμম ৭টি বিশেষায়িত ফসলভিত্তিক গবেষণা কেন্দ্র যেমন, গম গবেষণা কেন্দ্র (নশিপুর, দিনাজপুর), উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র (জয়দেবপুর, গাজীপুর), তৈল বীজ গবেষণা কেন্দ্র (জয়দেবপুর, গাজীপুর), কন্দাল ফসল গবেষণা কেন্দ্র (জয়দেবপুর, গাজীপুর), উদ্ভিদ কৌলিসম্পদ কেন্দ্র (পিজিআরসি, জয়দেবপুর, গাজীপুর), ডাল গবেষণা কেন্দ্র (ঈশ্বরদী, পাবনা) ও মসলা গবেষণা কেন্দ্র (শিবগঞ্জ, বগুড়া) এবং ১৬টি বিভিনড়ব বিভাগের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। উদ্ভাবিত প্রযুক্তিসমূহ কৃষকের মাঠ পর্যায়ে সরাসরি মূল্যায়নের জন্য সরেজমিন গবেষণা বিভাগের আওতায় ৯ (নয়) টি খামার গবেষণা পদ্ধতি ও উনড়বয়ন এলাকা (FSRD) সাইট এবং ৭২ (বাহাত্তর) টি বহুস্থানিক গবেষণা এলাকা (MLT) দেশব্যাপী ছড়িয়ে রয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের ইতিহাস শতাধিক বছরের। ১৯০৮ সালে ১৬১.২০ হেক্টর জমির উপর ঢাকা ফার্ম প্রতিষ্ঠিত হয়। ঢাকা ফার্মের প্রতিষ্ঠা ছিল কৃষি ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য উত্তোরণ। কিন্তু ১৯৬২ সালে তৎকালীন সরকার কর্তৃক 2nd Capital প্রতিষ্ঠার জন্য ঢাকা ফার্মের (বর্তমান শেরে বাংলা নগর) জমি অধিগ্রহণ করা হলে কৃষি গবেষণার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। যা হোক ১৯৬৬ সালে ঢাকা থেকে ৩৫ কিলোমিটার উত্তরে জয়দেরপুরে ২৬০ হেক্টর জমিতে ঢাকা ফার্ম স্থানান্তরিত হয়। এরপর কৃষি বিভাগের নানা পরিবর্তন পরিবর্ধন সাধিত হলেও তা দেশের মানুষের চাহিদা মেটাতে ও আশা আকাঙ্খা পূরণে ব্যর্থ হয়। এ ব্যর্থতার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল দক্ষ জনশক্তি ও প্রয়োজনীয় স্থাপনার অভাব এবং গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনায় পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধার অভাব। ১৯৭১ সালে দেশ স¦াধীন হলে অন্যান্য সেক্টরের ন্যায় কৃষি সেক্টরেও উনড়বতির অমিত সম্ভাবনা দেখা দেয়। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের কৃষি ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন ও যুগোপযোগী করার লক্ষে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এর পর দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এ প্রতিষ্ঠানটি সর্বতোভাবে নিয়োজিত রয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট - বারি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট - বারি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট - বারি

কিছু জনপ্রিয় ভিডিও দেখুন

বিএআরআই-এর ম্যান্ডেট

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট আইন ২০১৫ অনুযায়ী বিএআরআই এর
ম্যা-েট নিমড়বরূপ:
ধান, পাট, চা, তুলা ও সুগার μপস ব্যতীত অন্যান্য সকল ফসলের (দানাদার
ফসল, কন্দাল ফসল, তৈলবীজ ফসল, ডাল ফসল, ফুল, ফল, সবজি ফসল, মসলা
ফসল ইত্যাদি) গবেষণা ও উনড়বয়ন কার্যμম পরিচালনা করা।

ইনস্টিটিউটের কার্যাবলী:

(ক) গবেষণার বিষয়াবলীর বিস্তৃত রূপরেখা প্রণয়ন ও অনুমোদন;
(খ) ইনস্টিটিউটের ‘ম্যান্ডেটে’ উল্লেখিত ফসলসমূহের নতুন জাত উদ্ভাবন এবং
বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা, মানসম্পনড়ব উৎপাদন প্রযুক্তির মাধ্যমে সার্বিক ব্যবস্থাপনা
পদ্ধতির স্থিতিশীল ও উৎপাদনশীল কৃষি গবেষণার উদ্যোগ গ্রহণ করা;
(গ) কৃষি কাজ দক্ষতার সহিত সম্পনড়ব করিবার জন্য কৃষকগণকে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি
ও তথ্যাবলী সরবরাহ করা;
(ঘ) কৃষি ক্ষেত্রে বিভিনড়ব সমস্যার উপর গবেষণা পরিচালনার জন্য দেশের বিভিনড়ব
অঞ্চলে গবেষণা কেন্দ্র, উপ-কেন্দ্র, প্রকল্প এলাকা ও খামার স্থাপন করা;
(ঙ) ফসলের নতুন জাত ও ইহাদের পরিচর্যার উপর পরীক্ষণ ও প্রদর্শণী পরিচালনা
করা;
(চ) ফসল গবেষণা ও ইনস্টিটিউটের কর্মকা- সম্পর্কে বার্ষিক প্রতিবেদন, কৃষি
পুস্তিকা, মনোগ্রাম, সংবাদ সাময়িকী ও অন্যান্য বইপত্র প্রকাশ করা;
(ছ) ফসল উৎপাদনের উনড়বত প্রযুক্তি ও কলাকৌশল সম্পর্কে গবেষক, সম্প্রসারণ
কর্মী ও কৃষকদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা;
(জ) সড়বাতকোত্তর গবেষণার সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি করা;
(ঝ) বিভিনড়ব গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞদের দ্বারা নির্বাচিত সমস্যাবলী
সম্পর্কে মত বিনিময় এবং কৃষি ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক উদ্ভাবনের সহিত পরিচিত হওয়ার
সুযোগ সৃষ্টি করার জন্য সেমিনার, সিমপোজিয়াম ও ওয়ার্কশপের আয়োজন করা;

(ঞ) জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে সৃষ্ট ঝুঁকি মোকাবেলায় গবেষণা কার্যμম গ্রহণ
করা;
(ট) কৃষিতে জীব প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে রোগ ও পোকা-মাকড় প্রতিরোধী, খরা,
লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা ও তাপসহ বিভিনড়ব প্রতিকূল পরিবেশ সহিঞ্চু ফসলের
জাত ও অন্যান্য প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা;
(ঠ) জার্মপ্লাজম সংগ্রহ ও সংরক্ষণের সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি করা;
(ড) কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, পুষ্টি, সাপ্লাই এবং ভেলুচেইন, আর্থ সামাজিক উনড়বয়নের
উপর গবেষণা পরিচালনা করা;
(ঢ) ইনস্টিটিউট কর্তৃক উদ্ভাবিত বিভিনড়ব ফসলের নতুন জাতের প্রজনন বীজ
উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিত করা;
(ণ) কৃষিতে আইসিটি এর প্রয়োগ করা;
(ত) সরকার কর্তৃক সময়ে সময়ে জারীকৃত বিভিনড়ব আইন ও বিধি বিধানের আলোকে
কার্যμম গ্রহণ করা;
যে সকল আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সাথে বিএআরআই এর সম্পর্ক রয়েছে:
গবেষণা ও উনড়বয়নের স¦ার্থে বিএআরআই বিভিনড়ব আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে
সংযোগ রক্ষা করে। যেসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিএআরআই এর সম্পর্ক বিদ্যমান
রয়েছে তা হলো : সিমিট (CIMMYT), মেক্সিকো; আইআইটিএ (IITA)
নাইজেরিয়া; ইকার্ডা (ICARDA) সিরিয়া; ইকরিস্যাট (ICRISAT), ভারত;
সিআইপি (CIP) পেরু; আইসিএআর (ICAR), ভারত; কিমা (CLIMA),
অস্ট্রেলিয়া অন্যতম।
অর্থ যোগানদানকারী সংস্থাসমূহ: বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সিংহভাগ
ব্যয়ভার বহন করে থাকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। এছাড়া, প্রকল্প
সাহায্য/অনুদান হিসেবে বিভিনড়ব দাতা সংস্থা থেকে প্রাপ্ত অর্থের মাধ্যমে পরিচালিত
হয় ইনস্টিটিউটের যাবতীয় কর্মকা-। সাহায্যকারী দাতা সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে:
(ক) যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উনড়বয়ন সংস্থা (USAID), (খ) বিশ্বব্যাংক (WB),
(গ) জাপান সরকার, (ঘ) এশীয় উনড়বয়ন ব্যাংক (ADB), (ঙ) ফোর্ড ফাউন্ডেশন,
(চ) আন্তর্জাতিক উনড়বয়ন গবেষণা কেন্দ্র (IDRC), (ছ) ক্যানাডীয় আন্তর্জাতিক
উনড়বয়ন সংস্থা (CIDA) (জ) বিশ্ব খাদ্য কৃষি সংস্থা (FAO) এবং (ঝ)
IPM-CRSP-ABSP-ii (যুক্তরাষ্ট্র)

প্রাপ্ত পদকসমূহের নাম ও বছর:

১. বঙ্গবন্ধু গোল্ড মেডেল ১৯৬৪
২. প্রেসিডেন্ট মেডেল ১৯৭৯
৩. বেগম জেবুননেসা এবং কাজী মাহাবুবুল্লাহ কল্যাণ ট্রাস্ট গোল্ড মেডেল ১৯৮২
৪. ওমেন্স সাইনটিস্ট এসোসিয়েশন গোল্ড মেডেল (আন্তর্জাতিক পুরস্কার) ১৯৯০
৫. স্পেশাল প্রাইজ ১৯৯০
৬. বেগম জেবুননেসা এবং কাজী মাহাবুবুল্লাহ কল্যাণ ট্রাস্ট গোল্ড মেডেল ১৯৯৫
৭. দ্যা রোটারো হাশিমতো এশিয়া প্যাসিফিক ফোরাম ফর এনভায়রনমেন্ট এ- ডেভেলপমেন্ট (এপিএফইডি) অ্যাওয়ার্ড ফর গুড প্রাকটিস (আন্তর্জাতিক পুরস্কার) ২০০৮
৮. বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার (১৪১৭ বঙ্গাব্দ) ২০১২
৯. দ্যা রিফ্লেকটর অ্যাওয়ার্ড ২০১৩
১০. স্বাধীনতা পুরস্কার ২০১৪
১১. স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক কৃষি পদক ২০১৪
১২. কেআইবি কৃষি পদক ২০১৬
১৩. ব্র্যাক ম্যান্থন ডিজিটাল ইনোভেশন পদক ২০১৬

27 Comments

Leave a Reply

Logo
Reset Password
Compare items
  • Total (0)
Compare
0