বাংলাদেশে পাটের নতুন জাতঃ তোষা পাট ও দেশি পাট

পাট
জাতের নাম     : বিজেআরআই তোষা পাট-৪ 

বৈশিষ্ট্য : অধিক ফলনশীল এবং আগাম বপনোপযোগী জাত ও-৯৮৯৭ এর সঙ্গে একটি উন্নত অগ্রবর্তী
প্রজনন সারির (ও-২০১২) সংকরায়ণ এবং পশ্চাৎ সংকরায়ণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এ জাতটি উদ্ভাবন করা হয়। ডিইউএস টেষ্ট সফলভাবে উর্ত্তীণ হওয়ার পর ২০০২ সালে জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত হয়।
জাতের বৈশিষ্ট্য :
১। গাছ লম্বা, মসৃণ ও ৯৮৯৭ এর চেয়ে আগা-গোড়া অধিক সুষম সম্পূর্ণ সবুজ।
২। এ জাতের গাছের পাতা ডিম্বাকৃতি, বড়, ওএম-১ জাতের মতো, তবে পাতা চকচকে নয় বরং গাঢ় সবুজ।
৩। বীজের রং নীলাভ সবুজ।
৪। এ জাতের ফলন হেক্টর প্রতি ৪.৮১টন।
৫। নাবী বীজ উৎপাদন পদ্ধতিতে এই জাতের অধিক বীজ উৎপাদিত হয়।
বপনের সময়  : ১লা চৈত্র – ৩০ শে বৈশাখ
মাড়াইয়ের সময়:  বপনের ১১০ দিন পর

 রোগবালাই ও দমন ব্যবস্থা

 রোগবালাই: 
১। ঢলে পড়া রোগ :
এর রোগে গোটা পাট গাছ ঢলে পড় এ মরে যায়, তোষা পাটের চেয়ে দেশী পাটে এ রোগ কম দেখা দেয়। ছোট ও বড় উভয় অবস্থায় পাট গাছ এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। ফুল আসার সময় থেকে তোষা পাটে এ রোগ বেশী হয়।
২। কান্ড পচা রোগ:
চারা যখন ৬-৮ ইঞ্চি লম্বা হয় তখন থেকে শুরু করে পূর্ণ বয়স পর্যন্ত পাট এ রোগে আক্রান্ত হয়া। পাতা ও কান্ডে গাঢ় বাদামী রং এর দাগ দেখা দেয়। এ দাগ গোড়া থেকে গাছের আগা পর্যন্ত যে কোন অংশে দেখা দিতে পারে। ভালভাবে লক্ষ্য করলে দাগী জায়গাগুলোতে অসংখ্য কালো বিন্দু দেখা যায়। এ কালো বিন্দু গুলোতে ছত্রাক জীবাণু থাকে, এরা বাতাসে বা বৃষ্টির পানির মাধ্যমে আশে পাশের গাছে সংক্রমিত হয়।
৩। কালো-পট্রি রোগ: 
কালো পট্রি রোগ প্রায় কান্ড পচা রোগের মতই। তবে এত কান্ডে কাল রং এর বেষ্টনির মত দাগ পড়ে।আক্রান্ত স্থানে ঘষলে হাতে কালো গুড়ার মত দাগ লাগে। সাধারণত:গাছের মাঝামাঝি বয়স থেকে এ রোগ বেশী দেখা দেয়। এ রোগের গাছ ভেঙ্গে পড়ে না তবে গোটা গাছটি শুকিয়ে মরে যায়, ফলে আঁশ নিম্নমানের হয় ও ফলন কম হয়।
৪। আগা শুকিয়ে যাওয়া :
খরার পর ঝড়ে বা অন্য কোন কারণে গাছে আঘাত লাগলে এ রোগ বেশী হতে পারে। রোগে আক্রান্ত অংশ বাদামী রং এর হয় এবং আগা থেকে নীচে শুকাতে থাকে। ফুল আসার পর সচরাচর এ রোগ দেখা দেয়।
৫। গোড়া পঁচা রোগ :
যে সমস্ত দেশী পাটের ক্ষেতে পানি নিষ্কাশন করা যায় না, সে সমস্ত ক্ষেতের পাট গাছের গোড়ায় সাদা তুলার আঁশের মত এক প্রকার ছত্রাক রাতারাতি বেড়ে উঠে। কয়েকদিন পর সরিষার দানার মত বাদামী রংয়ের জীবাণুর দানা দেখা যায়। এ রোগের ফলে গাছের গোড়া পঁচে যায় এবং গাছ ভেঙ্গে পড়ে।
 দমন ব্যবস্থা: 
ঢলে পড়া রোগ :
জমি আগাছা মুক্ত রাখতে হবে। আক্রান্ত জমিতে ২-৩ বছর তোষা পাটের আবাদ না করে দেশী পাটের আবাদ করা যেতে পারে। পাট কাটার পর গাছের গোড়া, শিকড় ও অন্যান্য পরিত্যক্ত অংশ সংগ্রহ করে পুড়িয়ে ফেলতে হবে।
কান্ড পচা রোগ:
আক্রান্ত গাছগুলোকে তুলে দুরে মাটিতে পুতে ফেলে কিংবা পুড়ে ফেলে এ রোগ দমন করা যায়। ডাইথেন এম-৪৫, ম্যানার এম-৪৫, ইনডোফিল এম-৪৫ ১০ লিটার পানিতে ২০ গ্রাম ঔষধ মিশিয়ে গাছের গোড়ার মাটিতে ২/৩ দিন পর পর স্প্রে মেশিনের সাহায্যে ছিটিয়ে এ রোগের আক্রমণ কমানো সম্ভব।
কালো-পট্রি রোগ: 
নীরোগ গাছ হতে বীগ সংগ্রহ করে শোধন করে নিলে এ রোগের প্রাদুর্ভাব কমে। কান্ড পঁচা রোগের দমন পদ্ধতিতে এ রোগেরও প্রতিকার করা যায়।
আগা শুকিয়ে যাওয়া :
কান্ড পঁচা রোগের প্রতিকারের যে ব্যবস্থা অবলম্বন করা হয় এ ক্ষেত্রেও সেই একই ব্যবস্থা অবলম্বন করতে হবে। তবে তোষা পাটের জমিতে পর্যায়ক্রমে দেশি পাটের চাষ করলে এ রোগের প্রকোপ কমে।
গোড়া পঁচা রোগ :
এ রোগের প্রতিকারের জন্য জমি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন এবং আর্বজনামুক্ত রাখতে হবে। পানি নিষ্কাশনের উপযুক্ত ব্যবস্থা করতে হবে। ডাইমেথ এম-৪৫ প্রতি ১০ লিটার পানিতে ২০ গ্রাম মিশিয়ে গাছের গোড়ায় পর পর দু’দিন প্রয়োগ করলে রোগের ব্যাপকতা কমে যায়।

 পোকামাকড় ও দমন ব্যবস্থা

 পোকামাকড়: 
১। উড়চুংগা পোকা
২। বিছা বা শুয়ো পোকা
৩। ঘোড়া পোকা
৪। চেলে পোকা
৫। লেদা পোকা
 দমন ব্যবস্থা: 
উড়চুংগা পোকা: 
১। যে সব জায়গায় উড়চুংগার আক্রমণ বেশী হয় সেখানের আগাছা পরিষ্কার করে ২০% হারে বীজ বপন করা ভাল; প্রাথমিক অবস্থায় চারার সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী থাকে এবং উড়চুংগার আক্রমণে যে ক্ষতি হয় তা পুষিয়ে নেয়া যায়।
২। আক্রান্ত জমিতে গাছের উচ্চতা ৮-৯ ইঞ্চি হওয়ার পর বাড়তি চারা বাছাই করা যেতে পারে। যে সমস্ত স্থানে উড়চুংগার আক্রমণে চারা বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চারা অস্বাভাবিক পাতলা হয়ে যায় সেখানে উপযুক্ত সময়ে রোয়া করে ক্ষেত ভরে ফেলতে হয়।
৩। যে সব জমি প্রতি বছর উড়চুংগা দ্বারা আক্রান্ত হয়, সে সব জমিতে সম্ভব হলে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে সপ্তাহে দুই দেরীতে বীজ বপন করলে ফসলের ক্ষতি কম হয়।
৪। ক্ষেতে উড়চুংগার গর্ত দেখা গেলে প্রতি গর্তে এক পোয়া আন্দাজ অনুমোদিত কীটনাশক ঔষধ মিশ্রিত পানি ঢলে পোকা ধ্বংস করা যায়।
৫। এছাড়া কীটনাশক ঔষধের বিষাক্ত টোপ ব্যবহার করে উড়চুংগা দমন করা যায়।
(টোপ প্রস্তুত প্রণালী : ক্লোরোপাইরিফন ২০% তরল ২০% ইসি ৩০০ মি.লি. পরিমাণ ১০ কেজি গমের ভুসির সাথে ভাল করে মিশিয়ে এর সাথে পরিমিত পানি ও ৫/৬ কেজি গুড় মিশাতে হবে। গুড় ও ঔষধ মিশ্রিত ভুসি এক সংগে ভাল করে মিশিয়ে ছোট ছোট ঢেলা পাকিয়ে টোপ হিসাবে সন্ধ্যার সময় ক্ষেতের মধ্যে গর্তের আশে পাশে ছড়িয়ে দিতে হবে)
বিছা বা শুয়ো পোকা: 
১। পাটের পাতায় ডিমের গাদা দেখলে আসন্ন ক্ষতির অনুমান করা যায়। সুতরাং ডিমের গাদা তুলে ধ্বংস করলে শুয়ো পোকার উপদ্রব এড়ানো যেতে পারে।
২। আক্রমণের প্রথম অবস্থায় কীড়াগুলো যখন পাতায় দলবদ্ধ অবস্থায় থাকে তখন পোকা সমেত পাতাটি তুলে পায়ে মাড়িয়ে, গর্তে চাপা দিয়ে অথবা কেরোসিন মিশ্রিত পানিতে ডুবিয়ে মারা যায়।
৩। পাট কাটার পর জমি চাষ দিলে মাটির নিচে বা ফাটলে যে সমস্ত পুত্তলী শুকিয়ে থাকে সেগুলো বেরিয়ে আসে। এতে পুত্তলী মারা যায় ও পাখী বা অন্যান্যা প্রাণী পুত্তলীগুলো খেয়ে পোকার সংখ্যা কমিয়ে দেয়।
৪। বিছা পোকা যাতে এক ক্ষেত হতে অন্য ক্ষেতে ছড়াতে না পারে সে জন্য প্রতিবন্ধক নালা তৈরী করা যায়।
ঘোড়া পোকা: 
১। পাট ক্ষেতে ঘোড়া পোকার আক্রমণ দেখা দিলে কেরোসিন ভেজানো দড়ি গাছের উপর দিয়ে টেনে নিলে পোকার আক্রমণ কমে যায়।
২। শালিক বা ময়না জাতীয় পাখী ঘোড়া পোকা খেতে পছন্দ করে। পাট ক্ষেতে বাঁশের কঞ্চি অথবা গাছের ডাল পুঁতে এদের বসার ব্যবস্থা করলে পাখি ঘোড়া পোকা খেয়ে পোকার সংখ্যা কমিয়ে দেয়।
৩। নিম্নে বর্ণিত ঔষধগুলোর যে কোন একটি গাছের ডগায় ছিটিয়ে ঘোড়া পোকা দমন করা যায়। ডায়াজিনন ৬০% ইসি অথবা ইকালাক্স ২৫% ইসি ১২ লিটার পানির সাথে ১৮ এমএল মিশিয়ে ছিটানো যেতে পারে।
চেলে পোকা: 
১। পাট ক্ষেতের পাশে বনওকড়া গাছ এবং অন্যান্য আগাছা পরিষ্কার রাখলে এ পোকার আক্রমণ কম হয়।
২। পাট মৌসুমের প্রথমে ডগা আক্রান্ত চারাগুলো তুলে ফেললে পরবর্তীতে এদের আক্রমণ কম হয়।
৩। গাছের উচ্চতা ৫-৬ ইঞ্চি লম্বা হওয়ার পর চেলে পোকার আক্রমণ বেশী হলে কীটনাশক ঔষধ ছিঠিয়ে দিলে ভাল ফল পাওয়া যায়। এক মৌসুমে তিনবার ঔষধ ছিটিয়ে প্রায় সম্পূর্ণ রূপে পোকা দমন করা যায়। মেটাসিসটকস আর ৫০% হিস, ৬০% ইসি ও নুভাক্রণ ৪০% ইসি প্রতি লিটারে দেড় মিলি অথ্যাৎ ১২ লিটার পানির সাথে ১৮ মিলি বা চা চামচের ৩.২৫ চামচ (১ চা চামচ = ৫ মিলি) মিশিয়ে ক্ষেতে ছিটালে ভাল ফল পাওয়া যায়।
লেদা পোকা: ১। ডিম এবং দলবদ্ধ থাকা অবস্থায় পোকা সমেত পাতা তুলে ধ্বংস করলে এদের আক্রমণ কমানো যেতে পারে। ২। পাট ক্ষেতের আশপাশ আগাছা মুক্ত রাখতে হবে। ৩। পাট কাটার পর জমি চাষ দিয়ে ফেলে রাখলে এদের পুত্তলিগুলোকে পাখি বা অন্যান্য প্রাণী খেয়ে এদের সংখ্যা কমিয়ে দিতে পারে। ৪। আক্রান্ত ক্ষেতে সেচ দিয়ে এবং পাখি বসার জন্য ক্ষেতে ডালপালা পুতে দিয়ে ও এদের সংখ্যা কমানো যায়। ৫। কীটনাশক কুইনাল ফস ২৫ ইসি ২ মিলি/লি: অথবা ক্লোরোপাইরিফস ২০ ইসি ৪ মিলি/লি: পানিতে মিশিয়ে আক্রান্ত পাট গাছে ও মাটিতে ভালভাবে স্প্রে করতে হবে।

 সার ব্যবস্থাপনা

জাতের নাম প্রয়োজনীয় সারের মাত্রা (কেজি/হেক্টর) এবং প্রয়োগের সময়
ইউরিয়া (বপনের দিন) ইউরিয়া (বপনের ৪৫ দিন পর) টিএসপি (বপনের দিন) এমপি (বপনের দিন) জিপসাম (বপনের দিন) জিংক সালফেট (বপনের দিন)
দেশী জাত (বিজেআরআই দেশী পাট-৫, বিজেআরআই দেশী পাট-৬) ৮৩ ৮৩ ২৫ ৩০ ৪৫ ১১
বিজেআরআই তোষা পাট-৪ এবং ৬ ৮৩ ৮৩ ৫০ ৪০ ৯৫ ১১

সূত্র : কৃষি প্রযুক্তি হাতবই

প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন।

 

জাতের নাম     : বিজেআরআই দেশী পাট-৫

বৈশিষ্ট্য :
বিজেআরআই কর্তৃক উদ্ভাবিত দেশী পাটের একটি উন্নত জাত। এ জাতটি উন্নত এবং প্রতিকুল পরিবেশ সহিষ্ণু, ব্যাপক গ্রো-ইকোলজিক্যাল অঞ্চলে অভিযোজিত জাত ডি-১৫৪ এর সংগে অকাল ফুল মুক্ত আগাম বপনোপযোগী জাত সিসি-৪৫ এর সংকরায়ণের মাধ্যমে উদ্ভাবন করা হয়। জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক ১৯৯৫ সালে এ জাতটি কৃষকের আবাদের জন্য অবমুক্ত করা হয়।
জাতের বৈশিষ্ট্য : 
১। এ জাতের গাছ লম্বায় ৩.০-৩.০৫ মিটার এবং গোড়ার ব্যাস ১৮ ,মি:মি: পর্যন্ত হতে পারে।
২। গাছের কান্ড সবুজ, পাতার বোঁটার উপরিভাবেগ হাল্কা তামাটে রঙ আছে।
৩। পাতা আকারে সিভিএল-১ এর মতো তবে তার চেয়ে ছোট এবং তত চওড়া নয়।
৪। সঠিক সময়ে বপন করা হলে এ জাতের ১০৫-১১৫ দিনে ফুল আসে।
৫। তে-ফসলী শস্যক্রমে উপযোগী।
৬। এ জাতের আঁশের ফলন হেক্টর প্রতি ২.৭৫ থেকে ৩.২৫ টন।
বপনের সময়  : ১লা চৈত্র – ৩০ শে চৈত্র
মাড়াইয়ের সময়:  বপনের ১২০দিন পর

 রোগবালাই ও দমন ব্যবস্থা

 রোগবালাই: 
১। ঢলে পড়া রোগ :
এর রোগে গোটা পাট গাছ ঢলে পড় এ মরে যায়, তোষা পাটের চেয়ে দেশী পাটে এ রোগ কম দেখা দেয়। ছোট ও বড় উভয় অবস্থায় পাট গাছ এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। ফুল আসার সময় থেকে তোষা পাটে এ রোগ বেশী হয়।
২। কান্ড পচা রোগ:
চারা যখন ৬-৮ ইঞ্চি লম্বা হয় তখন থেকে শুরু করে পূর্ণ বয়স পর্যন্ত পাট এ রোগে আক্রান্ত হয়া। পাতা ও কান্ডে গাঢ় বাদামী রং এর দাগ দেখা দেয়। এ দাগ গোড়া থেকে গাছের আগা পর্যন্ত যে কোন অংশে দেখা দিতে পারে। ভালভাবে লক্ষ্য করলে দাগী জায়গাগুলোতে অসংখ্য কালো বিন্দু দেখা যায়। এ কালো বিন্দু গুলোতে ছত্রাক জীবাণু থাকে, এরা বাতাসে বা বৃষ্টির পানির মাধ্যমে আশে পাশের গাছে সংক্রমিত হয়।
৩। কালো-পট্রি রোগ: 
কালো পট্রি রোগ প্রায় কান্ড পচা রোগের মতই। তবে এত কান্ডে কাল রং এর বেষ্টনির মত দাগ পড়ে।আক্রান্ত স্থানে ঘষলে হাতে কালো গুড়ার মত দাগ লাগে। সাধারণত:গাছের মাঝামাঝি বয়স থেকে এ রোগ বেশী দেখা দেয়। এ রোগের গাছ ভেঙ্গে পড়ে না তবে গোটা গাছটি শুকিয়ে মরে যায়, ফলে আঁশ নিম্নমানের হয় ও ফলন কম হয়।
৪। আগা শুকিয়ে যাওয়া :
খরার পর ঝড়ে বা অন্য কোন কারণে গাছে আঘাত লাগলে এ রোগ বেশী হতে পারে। রোগে আক্রান্ত অংশ বাদামী রং এর হয় এবং আগা থেকে নীচে শুকাতে থাকে। ফুল আসার পর সচরাচর এ রোগ দেখা দেয়।
৫। গোড়া পঁচা রোগ :
যে সমস্ত দেশী পাটের ক্ষেতে পানি নিষ্কাশন করা যায় না, সে সমস্ত ক্ষেতের পাট গাছের গোড়ায় সাদা তুলার আঁশের মত এক প্রকার ছত্রাক রাতারাতি বেড়ে উঠে। কয়েকদিন পর সরিষার দানার মত বাদামী রংয়ের জীবাণুর দানা দেখা যায়। এ রোগের ফলে গাছের গোড়া পঁচে যায় এবং গাছ ভেঙ্গে পড়ে।
 দমন ব্যবস্থা: 
ঢলে পড়া রোগ :
জমি আগাছা মুক্ত রাখতে হবে। আক্রান্ত জমিতে ২-৩ বছর তোষা পাটের আবাদ না করে দেশী পাটের আবাদ করা যেতে পারে। পাট কাটার পর গাছের গোড়া, শিকড় ও অন্যান্য পরিত্যক্ত অংশ সংগ্রহ করে পুড়িয়ে ফেলতে হবে।
কান্ড পচা রোগ:
আক্রান্ত গাছগুলোকে তুলে দুরে মাটিতে পুতে ফেলে কিংবা পুড়ে ফেলে এ রোগ দমন করা যায়। ডাইথেন এম-৪৫, ম্যানার এম-৪৫, ইনডোফিল এম-৪৫ ১০ লিটার পানিতে ২০ গ্রাম ঔষধ মিশিয়ে গাছের গোড়ার মাটিতে ২/৩ দিন পর পর স্প্রে মেশিনের সাহায্যে ছিটিয়ে এ রোগের আক্রমণ কমানো সম্ভব।
কালো-পট্রি রোগ: 
নীরোগ গাছ হতে বীগ সংগ্রহ করে শোধন করে নিলে এ রোগের প্রাদুর্ভাব কমে। কান্ড পঁচা রোগের দমন পদ্ধতিতে এ রোগেরও প্রতিকার করা যায়।
আগা শুকিয়ে যাওয়া :
কান্ড পঁচা রোগের প্রতিকারের যে ব্যবস্থা অবলম্বন করা হয় এ ক্ষেত্রেও সেই একই ব্যবস্থা অবলম্বন করতে হবে। তবে তোষা পাটের জমিতে পর্যায়ক্রমে দেশি পাটের চাষ করলে এ রোগের প্রকোপ কমে।
গোড়া পঁচা রোগ :
এ রোগের প্রতিকারের জন্য জমি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন এবং আর্বজনামুক্ত রাখতে হবে। পানি নিষ্কাশনের উপযুক্ত ব্যবস্থা করতে হবে। ডাইমেথ এম-৪৫ প্রতি ১০ লিটার পানিতে ২০ গ্রাম মিশিয়ে গাছের গোড়ায় পর পর দু’দিন প্রয়োগ করলে রোগের ব্যাপকতা কমে যায়।

 পোকামাকড় ও দমন ব্যবস্থা

 পোকামাকড়: 
১। উড়চুংগা পোকা
২। বিছা বা শুয়ো পোকা
৩। ঘোড়া পোকা
৪। চেলে পোকা
৫। লেদা পোকা
 দমন ব্যবস্থা: 
উড়চুংগা পোকা: 
১। যে সব জায়গায় উড়চুংগার আক্রমণ বেশী হয় সেখানের আগাছা পরিষ্কার করে ২০% হারে বীজ বপন করা ভাল; প্রাথমিক অবস্থায় চারার সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী থাকে এবং উড়চুংগার আক্রমণে যে ক্ষতি হয় তা পুষিয়ে নেয়া যায়।
২। আক্রান্ত জমিতে গাছের উচ্চতা ৮-৯ ইঞ্চি হওয়ার পর বাড়তি চারা বাছাই করা যেতে পারে। যে সমস্ত স্থানে উড়চুংগার আক্রমণে চারা বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চারা অস্বাভাবিক পাতলা হয়ে যায় সেখানে উপযুক্ত সময়ে রোয়া করে ক্ষেত ভরে ফেলতে হয়।
৩। যে সব জমি প্রতি বছর উড়চুংগা দ্বারা আক্রান্ত হয়, সে সব জমিতে সম্ভব হলে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে সপ্তাহে দুই দেরীতে বীজ বপন করলে ফসলের ক্ষতি কম হয়।
৪। ক্ষেতে উড়চুংগার গর্ত দেখা গেলে প্রতি গর্তে এক পোয়া আন্দাজ অনুমোদিত কীটনাশক ঔষধ মিশ্রিত পানি ঢলে পোকা ধ্বংস করা যায়।
৫। এছাড়া কীটনাশক ঔষধের বিষাক্ত টোপ ব্যবহার করে উড়চুংগা দমন করা যায়।
(টোপ প্রস্তুত প্রণালী : ক্লোরোপাইরিফন ২০% তরল ২০% ইসি ৩০০ মি.লি. পরিমাণ ১০ কেজি গমের ভুসির সাথে ভাল করে মিশিয়ে এর সাথে পরিমিত পানি ও ৫/৬ কেজি গুড় মিশাতে হবে। গুড় ও ঔষধ মিশ্রিত ভুসি এক সংগে ভাল করে মিশিয়ে ছোট ছোট ঢেলা পাকিয়ে টোপ হিসাবে সন্ধ্যার সময় ক্ষেতের মধ্যে গর্তের আশে পাশে ছড়িয়ে দিতে হবে)
বিছা বা শুয়ো পোকা: 
১। পাটের পাতায় ডিমের গাদা দেখলে আসন্ন ক্ষতির অনুমান করা যায়। সুতরাং ডিমের গাদা তুলে ধ্বংস করলে শুয়ো পোকার উপদ্রব এড়ানো যেতে পারে।
২। আক্রমণের প্রথম অবস্থায় কীড়াগুলো যখন পাতায় দলবদ্ধ অবস্থায় থাকে তখন পোকা সমেত পাতাটি তুলে পায়ে মাড়িয়ে, গর্তে চাপা দিয়ে অথবা কেরোসিন মিশ্রিত পানিতে ডুবিয়ে মারা যায়।
৩। পাট কাটার পর জমি চাষ দিলে মাটির নিচে বা ফাটলে যে সমস্ত পুত্তলী শুকিয়ে থাকে সেগুলো বেরিয়ে আসে। এতে পুত্তলী মারা যায় ও পাখী বা অন্যান্যা প্রাণী পুত্তলীগুলো খেয়ে পোকার সংখ্যা কমিয়ে দেয়।
৪। বিছা পোকা যাতে এক ক্ষেত হতে অন্য ক্ষেতে ছড়াতে না পারে সে জন্য প্রতিবন্ধক নালা তৈরী করা যায়।
ঘোড়া পোকা: 
১। পাট ক্ষেতে ঘোড়া পোকার আক্রমণ দেখা দিলে কেরোসিন ভেজানো দড়ি গাছের উপর দিয়ে টেনে নিলে পোকার আক্রমণ কমে যায়।
২। শালিক বা ময়না জাতীয় পাখী ঘোড়া পোকা খেতে পছন্দ করে। পাট ক্ষেতে বাঁশের কঞ্চি অথবা গাছের ডাল পুঁতে এদের বসার ব্যবস্থা করলে পাখি ঘোড়া পোকা খেয়ে পোকার সংখ্যা কমিয়ে দেয়।
৩। নিম্নে বর্ণিত ঔষধগুলোর যে কোন একটি গাছের ডগায় ছিটিয়ে ঘোড়া পোকা দমন করা যায়। ডায়াজিনন ৬০% ইসি অথবা ইকালাক্স ২৫% ইসি ১২ লিটার পানির সাথে ১৮ এমএল মিশিয়ে ছিটানো যেতে পারে।
চেলে পোকা: 
১। পাট ক্ষেতের পাশে বনওকড়া গাছ এবং অন্যান্য আগাছা পরিষ্কার রাখলে এ পোকার আক্রমণ কম হয়।
২। পাট মৌসুমের প্রথমে ডগা আক্রান্ত চারাগুলো তুলে ফেললে পরবর্তীতে এদের আক্রমণ কম হয়।
৩। গাছের উচ্চতা ৫-৬ ইঞ্চি লম্বা হওয়ার পর চেলে পোকার আক্রমণ বেশী হলে কীটনাশক ঔষধ ছিঠিয়ে দিলে ভাল ফল পাওয়া যায়। এক মৌসুমে তিনবার ঔষধ ছিটিয়ে প্রায় সম্পূর্ণ রূপে পোকা দমন করা যায়। মেটাসিসটকস আর ৫০% হিস, ৬০% ইসি ও নুভাক্রণ ৪০% ইসি প্রতি লিটারে দেড় মিলি অথ্যাৎ ১২ লিটার পানির সাথে ১৮ মিলি বা চা চামচের ৩.২৫ চামচ (১ চা চামচ = ৫ মিলি) মিশিয়ে ক্ষেতে ছিটালে ভাল ফল পাওয়া যায়।
লেদা পোকা: ১। ডিম এবং দলবদ্ধ থাকা অবস্থায় পোকা সমেত পাতা তুলে ধ্বংস করলে এদের আক্রমণ কমানো যেতে পারে। ২। পাট ক্ষেতের আশপাশ আগাছা মুক্ত রাখতে হবে। ৩। পাট কাটার পর জমি চাষ দিয়ে ফেলে রাখলে এদের পুত্তলিগুলোকে পাখি বা অন্যান্য প্রাণী খেয়ে এদের সংখ্যা কমিয়ে দিতে পারে। ৪। আক্রান্ত ক্ষেতে সেচ দিয়ে এবং পাখি বসার জন্য ক্ষেতে ডালপালা পুতে দিয়ে ও এদের সংখ্যা কমানো যায়। ৫। কীটনাশক কুইনাল ফস ২৫ ইসি ২ মিলি/লি: অথবা ক্লোরোপাইরিফস ২০ ইসি ৪ মিলি/লি: পানিতে মিশিয়ে আক্রান্ত পাট গাছে ও মাটিতে ভালভাবে স্প্রে করতে হবে।

 সার ব্যবস্থাপনা

জাতের নাম প্রয়োজনীয় সারের মাত্রা (কেজি/হেক্টর) এবং প্রয়োগের সময়
ইউরিয়া (বপনের দিন) ইউরিয়া (বপনের ৪৫ দিন পর) টিএসপি (বপনের দিন) এমপি (বপনের দিন) জিপসাম (বপনের দিন) জিংক সালফেট (বপনের দিন)
দেশী জাত (বিজেআরআই দেশী পাট-৫, বিজেআরআই দেশী পাট-৬) ৮৩ ৮৩ ২৫ ৩০ ৪৫ ১১
বিজেআরআই তোষা পাট-৪ এবং ৬ ৮৩ ৮৩ ৫০ ৪০ ৯৫ ১১

সূত্র : কৃষি প্রযুক্তি হাতবই

প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন।

 

জাতের নাম     : বিজেআরআই তোষা পাট-৬

বৈশিষ্ট্য :
উদ্ভাবনের ইতিহাস :
বিজেআরআই তোষা পাট-৬ জাতটি বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক উদ্ভাবিত নতুন জাত। এটি দ্রুত বর্ধনশীল, নাবীতে বপনোপযোগী ও অধিক ফলনশীল। এই জাতটি এনাটমিক্যালী বাছাইকৃত উন্নত লাইনসমুহ থেকে বিশুদ্ধ সারি নির্বাচনের মাধ্যমে উদ্ভাবন করা হযেছে। জাতটি বাংলাদেশের ভূমি ও আবহাওয়া উপযোগী বলে প্রমাণিত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় এ জাতটি চাষাবাদ করা হয়েছে এবং ভাল ফলাফল পাওয়া গেছে। প্রধানত: ও-৪ জাতের বপনের সময়ের ১৫ দিন পূর্বে বপন করলেও এ জাতটিতে অকালে ফুল আসে না। এর আঁশের রং উজ্জ্বল সোনালী এবং প্রচলিত জাতের চেয়ে উন্নত। এটির ছালের পুরুত্ব বেশী এবং পাট কাঠি তুলনামূলক শক্ত।
জাতের বৈশিষ্ট্য :
১। গাছ লম্বা, গাঢ় সবুজ কান্ড মসৃণ, দ্রুত বর্ধনশীল
২। ও-৯৮৯৭ জাতের চেয়েও দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
৩। এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে বপন করলেও আগাম ফূল আসে না।
৪। বীজের রং নীলাভ সবুজ।
৫। পাতা লম্বা ও লেন্সিওলেট টাইপ।
৬। পাতার দৈর্ঘ্য প্রস্থের অনুপাত ২.৬৬ যা অন্যান্য তোষা জাত অপেক্ষা বেশী।
৭। কান্ডের পরিধি আগা ও গোড়ায় মোটামুটি সমান অর্থাৎ সিলিন্ড্রিকাল।
বপনের সময়  : চৈত্র এর ২য় সপ্তাহ থেকে বৈশাখ মাসের ২য় সপ্তাহ পর্যন্ত (এপ্রিলের ১ম সপ্তাহ থেকে এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ)
মাড়াইয়ের সময়:  বপনের ১১০ দিন পর

 রোগবালাই ও দমন ব্যবস্থা

 রোগবালাই: 
১। ঢলে পড়া রোগ :
এর রোগে গোটা পাট গাছ ঢলে পড় এ মরে যায়, তোষা পাটের চেয়ে দেশী পাটে এ রোগ কম দেখা দেয়। ছোট ও বড় উভয় অবস্থায় পাট গাছ এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। ফুল আসার সময় থেকে তোষা পাটে এ রোগ বেশী হয়।
২। কান্ড পচা রোগ:
চারা যখন ৬-৮ ইঞ্চি লম্বা হয় তখন থেকে শুরু করে পূর্ণ বয়স পর্যন্ত পাট এ রোগে আক্রান্ত হয়া। পাতা ও কান্ডে গাঢ় বাদামী রং এর দাগ দেখা দেয়। এ দাগ গোড়া থেকে গাছের আগা পর্যন্ত যে কোন অংশে দেখা দিতে পারে। ভালভাবে লক্ষ্য করলে দাগী জায়গাগুলোতে অসংখ্য কালো বিন্দু দেখা যায়। এ কালো বিন্দু গুলোতে ছত্রাক জীবাণু থাকে, এরা বাতাসে বা বৃষ্টির পানির মাধ্যমে আশে পাশের গাছে সংক্রমিত হয়।
৩। কালো-পট্রি রোগ: 
কালো পট্রি রোগ প্রায় কান্ড পচা রোগের মতই। তবে এত কান্ডে কাল রং এর বেষ্টনির মত দাগ পড়ে।আক্রান্ত স্থানে ঘষলে হাতে কালো গুড়ার মত দাগ লাগে। সাধারণত:গাছের মাঝামাঝি বয়স থেকে এ রোগ বেশী দেখা দেয়। এ রোগের গাছ ভেঙ্গে পড়ে না তবে গোটা গাছটি শুকিয়ে মরে যায়, ফলে আঁশ নিম্নমানের হয় ও ফলন কম হয়।
৪। আগা শুকিয়ে যাওয়া :
খরার পর ঝড়ে বা অন্য কোন কারণে গাছে আঘাত লাগলে এ রোগ বেশী হতে পারে। রোগে আক্রান্ত অংশ বাদামী রং এর হয় এবং আগা থেকে নীচে শুকাতে থাকে। ফুল আসার পর সচরাচর এ রোগ দেখা দেয়।
৫। গোড়া পঁচা রোগ :
যে সমস্ত দেশী পাটের ক্ষেতে পানি নিষ্কাশন করা যায় না, সে সমস্ত ক্ষেতের পাট গাছের গোড়ায় সাদা তুলার আঁশের মত এক প্রকার ছত্রাক রাতারাতি বেড়ে উঠে। কয়েকদিন পর সরিষার দানার মত বাদামী রংয়ের জীবাণুর দানা দেখা যায়। এ রোগের ফলে গাছের গোড়া পঁচে যায় এবং গাছ ভেঙ্গে পড়ে।
 দমন ব্যবস্থা: 
ঢলে পড়া রোগ :
জমি আগাছা মুক্ত রাখতে হবে। আক্রান্ত জমিতে ২-৩ বছর তোষা পাটের আবাদ না করে দেশী পাটের আবাদ করা যেতে পারে। পাট কাটার পর গাছের গোড়া, শিকড় ও অন্যান্য পরিত্যক্ত অংশ সংগ্রহ করে পুড়িয়ে ফেলতে হবে।
কান্ড পচা রোগ:
আক্রান্ত গাছগুলোকে তুলে দুরে মাটিতে পুতে ফেলে কিংবা পুড়ে ফেলে এ রোগ দমন করা যায়। ডাইথেন এম-৪৫, ম্যানার এম-৪৫, ইনডোফিল এম-৪৫ ১০ লিটার পানিতে ২০ গ্রাম ঔষধ মিশিয়ে গাছের গোড়ার মাটিতে ২/৩ দিন পর পর স্প্রে মেশিনের সাহায্যে ছিটিয়ে এ রোগের আক্রমণ কমানো সম্ভব।
কালো-পট্রি রোগ: 
নীরোগ গাছ হতে বীগ সংগ্রহ করে শোধন করে নিলে এ রোগের প্রাদুর্ভাব কমে। কান্ড পঁচা রোগের দমন পদ্ধতিতে এ রোগেরও প্রতিকার করা যায়।
আগা শুকিয়ে যাওয়া :
কান্ড পঁচা রোগের প্রতিকারের যে ব্যবস্থা অবলম্বন করা হয় এ ক্ষেত্রেও সেই একই ব্যবস্থা অবলম্বন করতে হবে। তবে তোষা পাটের জমিতে পর্যায়ক্রমে দেশি পাটের চাষ করলে এ রোগের প্রকোপ কমে।
গোড়া পঁচা রোগ :
এ রোগের প্রতিকারের জন্য জমি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন এবং আর্বজনামুক্ত রাখতে হবে। পানি নিষ্কাশনের উপযুক্ত ব্যবস্থা করতে হবে। ডাইমেথ এম-৪৫ প্রতি ১০ লিটার পানিতে ২০ গ্রাম মিশিয়ে গাছের গোড়ায় পর পর দু’দিন প্রয়োগ করলে রোগের ব্যাপকতা কমে যায়।

 পোকামাকড় ও দমন ব্যবস্থা

 পোকামাকড়: 
১। উড়চুংগা পোকা
২। বিছা বা শুয়ো পোকা
৩। ঘোড়া পোকা
৪। চেলে পোকা
৫। লেদা পোকা
 দমন ব্যবস্থা: 
উড়চুংগা পোকা: 
১। যে সব জায়গায় উড়চুংগার আক্রমণ বেশী হয় সেখানের আগাছা পরিষ্কার করে ২০% হারে বীজ বপন করা ভাল; প্রাথমিক অবস্থায় চারার সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী থাকে এবং উড়চুংগার আক্রমণে যে ক্ষতি হয় তা পুষিয়ে নেয়া যায়।
২। আক্রান্ত জমিতে গাছের উচ্চতা ৮-৯ ইঞ্চি হওয়ার পর বাড়তি চারা বাছাই করা যেতে পারে। যে সমস্ত স্থানে উড়চুংগার আক্রমণে চারা বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চারা অস্বাভাবিক পাতলা হয়ে যায় সেখানে উপযুক্ত সময়ে রোয়া করে ক্ষেত ভরে ফেলতে হয়।
৩। যে সব জমি প্রতি বছর উড়চুংগা দ্বারা আক্রান্ত হয়, সে সব জমিতে সম্ভব হলে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে সপ্তাহে দুই দেরীতে বীজ বপন করলে ফসলের ক্ষতি কম হয়।
৪। ক্ষেতে উড়চুংগার গর্ত দেখা গেলে প্রতি গর্তে এক পোয়া আন্দাজ অনুমোদিত কীটনাশক ঔষধ মিশ্রিত পানি ঢলে পোকা ধ্বংস করা যায়।
৫। এছাড়া কীটনাশক ঔষধের বিষাক্ত টোপ ব্যবহার করে উড়চুংগা দমন করা যায়।
(টোপ প্রস্তুত প্রণালী : ক্লোরোপাইরিফন ২০% তরল ২০% ইসি ৩০০ মি.লি. পরিমাণ ১০ কেজি গমের ভুসির সাথে ভাল করে মিশিয়ে এর সাথে পরিমিত পানি ও ৫/৬ কেজি গুড় মিশাতে হবে। গুড় ও ঔষধ মিশ্রিত ভুসি এক সংগে ভাল করে মিশিয়ে ছোট ছোট ঢেলা পাকিয়ে টোপ হিসাবে সন্ধ্যার সময় ক্ষেতের মধ্যে গর্তের আশে পাশে ছড়িয়ে দিতে হবে)
বিছা বা শুয়ো পোকা: 
১। পাটের পাতায় ডিমের গাদা দেখলে আসন্ন ক্ষতির অনুমান করা যায়। সুতরাং ডিমের গাদা তুলে ধ্বংস করলে শুয়ো পোকার উপদ্রব এড়ানো যেতে পারে।
২। আক্রমণের প্রথম অবস্থায় কীড়াগুলো যখন পাতায় দলবদ্ধ অবস্থায় থাকে তখন পোকা সমেত পাতাটি তুলে পায়ে মাড়িয়ে, গর্তে চাপা দিয়ে অথবা কেরোসিন মিশ্রিত পানিতে ডুবিয়ে মারা যায়।
৩। পাট কাটার পর জমি চাষ দিলে মাটির নিচে বা ফাটলে যে সমস্ত পুত্তলী শুকিয়ে থাকে সেগুলো বেরিয়ে আসে। এতে পুত্তলী মারা যায় ও পাখী বা অন্যান্যা প্রাণী পুত্তলীগুলো খেয়ে পোকার সংখ্যা কমিয়ে দেয়।
৪। বিছা পোকা যাতে এক ক্ষেত হতে অন্য ক্ষেতে ছড়াতে না পারে সে জন্য প্রতিবন্ধক নালা তৈরী করা যায়।
ঘোড়া পোকা: 
১। পাট ক্ষেতে ঘোড়া পোকার আক্রমণ দেখা দিলে কেরোসিন ভেজানো দড়ি গাছের উপর দিয়ে টেনে নিলে পোকার আক্রমণ কমে যায়।
২। শালিক বা ময়না জাতীয় পাখী ঘোড়া পোকা খেতে পছন্দ করে। পাট ক্ষেতে বাঁশের কঞ্চি অথবা গাছের ডাল পুঁতে এদের বসার ব্যবস্থা করলে পাখি ঘোড়া পোকা খেয়ে পোকার সংখ্যা কমিয়ে দেয়।
৩। নিম্নে বর্ণিত ঔষধগুলোর যে কোন একটি গাছের ডগায় ছিটিয়ে ঘোড়া পোকা দমন করা যায়। ডায়াজিনন ৬০% ইসি অথবা ইকালাক্স ২৫% ইসি ১২ লিটার পানির সাথে ১৮ এমএল মিশিয়ে ছিটানো যেতে পারে।
চেলে পোকা: 
১। পাট ক্ষেতের পাশে বনওকড়া গাছ এবং অন্যান্য আগাছা পরিষ্কার রাখলে এ পোকার আক্রমণ কম হয়।
২। পাট মৌসুমের প্রথমে ডগা আক্রান্ত চারাগুলো তুলে ফেললে পরবর্তীতে এদের আক্রমণ কম হয়।
৩। গাছের উচ্চতা ৫-৬ ইঞ্চি লম্বা হওয়ার পর চেলে পোকার আক্রমণ বেশী হলে কীটনাশক ঔষধ ছিঠিয়ে দিলে ভাল ফল পাওয়া যায়। এক মৌসুমে তিনবার ঔষধ ছিটিয়ে প্রায় সম্পূর্ণ রূপে পোকা দমন করা যায়। মেটাসিসটকস আর ৫০% হিস, ৬০% ইসি ও নুভাক্রণ ৪০% ইসি প্রতি লিটারে দেড় মিলি অথ্যাৎ ১২ লিটার পানির সাথে ১৮ মিলি বা চা চামচের ৩.২৫ চামচ (১ চা চামচ = ৫ মিলি) মিশিয়ে ক্ষেতে ছিটালে ভাল ফল পাওয়া যায়।
লেদা পোকা: ১। ডিম এবং দলবদ্ধ থাকা অবস্থায় পোকা সমেত পাতা তুলে ধ্বংস করলে এদের আক্রমণ কমানো যেতে পারে। ২। পাট ক্ষেতের আশপাশ আগাছা মুক্ত রাখতে হবে। ৩। পাট কাটার পর জমি চাষ দিয়ে ফেলে রাখলে এদের পুত্তলিগুলোকে পাখি বা অন্যান্য প্রাণী খেয়ে এদের সংখ্যা কমিয়ে দিতে পারে। ৪। আক্রান্ত ক্ষেতে সেচ দিয়ে এবং পাখি বসার জন্য ক্ষেতে ডালপালা পুতে দিয়ে ও এদের সংখ্যা কমানো যায়। ৫। কীটনাশক কুইনাল ফস ২৫ ইসি ২ মিলি/লি: অথবা ক্লোরোপাইরিফস ২০ ইসি ৪ মিলি/লি: পানিতে মিশিয়ে আক্রান্ত পাট গাছে ও মাটিতে ভালভাবে স্প্রে করতে হবে।

 সার ব্যবস্থাপনা

জাতের নাম প্রয়োজনীয় সারের মাত্রা (কেজি/হেক্টর) এবং প্রয়োগের সময়
ইউরিয়া (বপনের দিন) ইউরিয়া (বপনের ৪৫ দিন পর) টিএসপি (বপনের দিন) এমপি (বপনের দিন) জিপসাম (বপনের দিন) জিংক সালফেট (বপনের দিন)
দেশী জাত (বিজেআরআই দেশী পাট-৫, বিজেআরআই দেশী পাট-৬) ৮৩ ৮৩ ২৫ ৩০ ৪৫ ১১
বিজেআরআই তোষা পাট-৪ এবং ৬ ৮৩ ৮৩ ৫০ ৪০ ৯৫ ১১

সূত্র : কৃষি প্রযুক্তি হাতবই

প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন।

জাতের নাম     : বিজেআরআই দেশী পাট-৬

বৈশিষ্ট্য :
বিজেআরআই কর্তৃক এ উন্নত দেশী পাটের জাতটি প্রচলিত জাত সিভিএল-১ এবং আশু পরিপক্ক হএয়া একটি লোকাল রেস- ফুলেশ্বরি এর মধ্যে সংকরায়ণের মাধ্যমে উদ্ভাবন করা হয় এবং জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক ১৯৯৫ সালে ছাড়করণের অনুমোদন দেয়া হয়।
জাতের বৈশিষ্ট্য :
১। পাতা সিভিএল-১ জাতের চেয়ে সরু, পাতার ফলকের কিনারা ঢেউ খেলানো( ৪৫-৬০ দিন বয়সী গাছে সুষ্পষ্ট ভাবে বোঝা যায়, পরিণত পাতায় এ ঢেউ খেলানো ভাবটা)
২। এ জাতটি ৯০-৯৫ দিনে পরিণত হয় অর্থাৎ ফুল আসে।
৩। তে-ফসলী শস্যক্রমের জন্য খুব উপযোগী।
৪। সঠিক সময়ে বপন এবং সুষ্ঠ পরিচর্যা করে হেক্টর প্রতি ২.৫০-৩.০০ টন শুকানো আঁশ পাওয়া যায়।
বপনের সময়  : ১লা চৈত্র- ৩০শে চৈত্র
মাড়াইয়ের সময়:  বপনের ১২০ দিন পর

 রোগবালাই ও দমন ব্যবস্থা

 রোগবালাই: 
১। ঢলে পড়া রোগ :
এর রোগে গোটা পাট গাছ ঢলে পড় এ মরে যায়, তোষা পাটের চেয়ে দেশী পাটে এ রোগ কম দেখা দেয়। ছোট ও বড় উভয় অবস্থায় পাট গাছ এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। ফুল আসার সময় থেকে তোষা পাটে এ রোগ বেশী হয়।
২। কান্ড পচা রোগ:
চারা যখন ৬-৮ ইঞ্চি লম্বা হয় তখন থেকে শুরু করে পূর্ণ বয়স পর্যন্ত পাট এ রোগে আক্রান্ত হয়া। পাতা ও কান্ডে গাঢ় বাদামী রং এর দাগ দেখা দেয়। এ দাগ গোড়া থেকে গাছের আগা পর্যন্ত যে কোন অংশে দেখা দিতে পারে। ভালভাবে লক্ষ্য করলে দাগী জায়গাগুলোতে অসংখ্য কালো বিন্দু দেখা যায়। এ কালো বিন্দু গুলোতে ছত্রাক জীবাণু থাকে, এরা বাতাসে বা বৃষ্টির পানির মাধ্যমে আশে পাশের গাছে সংক্রমিত হয়।
৩। কালো-পট্রি রোগ: 
কালো পট্রি রোগ প্রায় কান্ড পচা রোগের মতই। তবে এত কান্ডে কাল রং এর বেষ্টনির মত দাগ পড়ে।আক্রান্ত স্থানে ঘষলে হাতে কালো গুড়ার মত দাগ লাগে। সাধারণত:গাছের মাঝামাঝি বয়স থেকে এ রোগ বেশী দেখা দেয়। এ রোগের গাছ ভেঙ্গে পড়ে না তবে গোটা গাছটি শুকিয়ে মরে যায়, ফলে আঁশ নিম্নমানের হয় ও ফলন কম হয়।
৪। আগা শুকিয়ে যাওয়া :
খরার পর ঝড়ে বা অন্য কোন কারণে গাছে আঘাত লাগলে এ রোগ বেশী হতে পারে। রোগে আক্রান্ত অংশ বাদামী রং এর হয় এবং আগা থেকে নীচে শুকাতে থাকে। ফুল আসার পর সচরাচর এ রোগ দেখা দেয়।
৫। গোড়া পঁচা রোগ :
যে সমস্ত দেশী পাটের ক্ষেতে পানি নিষ্কাশন করা যায় না, সে সমস্ত ক্ষেতের পাট গাছের গোড়ায় সাদা তুলার আঁশের মত এক প্রকার ছত্রাক রাতারাতি বেড়ে উঠে। কয়েকদিন পর সরিষার দানার মত বাদামী রংয়ের জীবাণুর দানা দেখা যায়। এ রোগের ফলে গাছের গোড়া পঁচে যায় এবং গাছ ভেঙ্গে পড়ে।
 দমন ব্যবস্থা: 
ঢলে পড়া রোগ :
জমি আগাছা মুক্ত রাখতে হবে। আক্রান্ত জমিতে ২-৩ বছর তোষা পাটের আবাদ না করে দেশী পাটের আবাদ করা যেতে পারে। পাট কাটার পর গাছের গোড়া, শিকড় ও অন্যান্য পরিত্যক্ত অংশ সংগ্রহ করে পুড়িয়ে ফেলতে হবে।
কান্ড পচা রোগ:
আক্রান্ত গাছগুলোকে তুলে দুরে মাটিতে পুতে ফেলে কিংবা পুড়ে ফেলে এ রোগ দমন করা যায়। ডাইথেন এম-৪৫, ম্যানার এম-৪৫, ইনডোফিল এম-৪৫ ১০ লিটার পানিতে ২০ গ্রাম ঔষধ মিশিয়ে গাছের গোড়ার মাটিতে ২/৩ দিন পর পর স্প্রে মেশিনের সাহায্যে ছিটিয়ে এ রোগের আক্রমণ কমানো সম্ভব।
কালো-পট্রি রোগ: 
নীরোগ গাছ হতে বীগ সংগ্রহ করে শোধন করে নিলে এ রোগের প্রাদুর্ভাব কমে। কান্ড পঁচা রোগের দমন পদ্ধতিতে এ রোগেরও প্রতিকার করা যায়।
আগা শুকিয়ে যাওয়া :
কান্ড পঁচা রোগের প্রতিকারের যে ব্যবস্থা অবলম্বন করা হয় এ ক্ষেত্রেও সেই একই ব্যবস্থা অবলম্বন করতে হবে। তবে তোষা পাটের জমিতে পর্যায়ক্রমে দেশি পাটের চাষ করলে এ রোগের প্রকোপ কমে।
গোড়া পঁচা রোগ :
এ রোগের প্রতিকারের জন্য জমি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন এবং আর্বজনামুক্ত রাখতে হবে। পানি নিষ্কাশনের উপযুক্ত ব্যবস্থা করতে হবে। ডাইমেথ এম-৪৫ প্রতি ১০ লিটার পানিতে ২০ গ্রাম মিশিয়ে গাছের গোড়ায় পর পর দু’দিন প্রয়োগ করলে রোগের ব্যাপকতা কমে যায়।

 পোকামাকড় ও দমন ব্যবস্থা

 পোকামাকড়: 
১। উড়চুংগা পোকা
২। বিছা বা শুয়ো পোকা
৩। ঘোড়া পোকা
৪। চেলে পোকা
৫। লেদা পোকা
 দমন ব্যবস্থা: 
উড়চুংগা পোকা: 
১। যে সব জায়গায় উড়চুংগার আক্রমণ বেশী হয় সেখানের আগাছা পরিষ্কার করে ২০% হারে বীজ বপন করা ভাল; প্রাথমিক অবস্থায় চারার সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী থাকে এবং উড়চুংগার আক্রমণে যে ক্ষতি হয় তা পুষিয়ে নেয়া যায়।
২। আক্রান্ত জমিতে গাছের উচ্চতা ৮-৯ ইঞ্চি হওয়ার পর বাড়তি চারা বাছাই করা যেতে পারে। যে সমস্ত স্থানে উড়চুংগার আক্রমণে চারা বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চারা অস্বাভাবিক পাতলা হয়ে যায় সেখানে উপযুক্ত সময়ে রোয়া করে ক্ষেত ভরে ফেলতে হয়।
৩। যে সব জমি প্রতি বছর উড়চুংগা দ্বারা আক্রান্ত হয়, সে সব জমিতে সম্ভব হলে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে সপ্তাহে দুই দেরীতে বীজ বপন করলে ফসলের ক্ষতি কম হয়।
৪। ক্ষেতে উড়চুংগার গর্ত দেখা গেলে প্রতি গর্তে এক পোয়া আন্দাজ অনুমোদিত কীটনাশক ঔষধ মিশ্রিত পানি ঢলে পোকা ধ্বংস করা যায়।
৫। এছাড়া কীটনাশক ঔষধের বিষাক্ত টোপ ব্যবহার করে উড়চুংগা দমন করা যায়।
(টোপ প্রস্তুত প্রণালী : ক্লোরোপাইরিফন ২০% তরল ২০% ইসি ৩০০ মি.লি. পরিমাণ ১০ কেজি গমের ভুসির সাথে ভাল করে মিশিয়ে এর সাথে পরিমিত পানি ও ৫/৬ কেজি গুড় মিশাতে হবে। গুড় ও ঔষধ মিশ্রিত ভুসি এক সংগে ভাল করে মিশিয়ে ছোট ছোট ঢেলা পাকিয়ে টোপ হিসাবে সন্ধ্যার সময় ক্ষেতের মধ্যে গর্তের আশে পাশে ছড়িয়ে দিতে হবে)
বিছা বা শুয়ো পোকা: 
১। পাটের পাতায় ডিমের গাদা দেখলে আসন্ন ক্ষতির অনুমান করা যায়। সুতরাং ডিমের গাদা তুলে ধ্বংস করলে শুয়ো পোকার উপদ্রব এড়ানো যেতে পারে।
২। আক্রমণের প্রথম অবস্থায় কীড়াগুলো যখন পাতায় দলবদ্ধ অবস্থায় থাকে তখন পোকা সমেত পাতাটি তুলে পায়ে মাড়িয়ে, গর্তে চাপা দিয়ে অথবা কেরোসিন মিশ্রিত পানিতে ডুবিয়ে মারা যায়।
৩। পাট কাটার পর জমি চাষ দিলে মাটির নিচে বা ফাটলে যে সমস্ত পুত্তলী শুকিয়ে থাকে সেগুলো বেরিয়ে আসে। এতে পুত্তলী মারা যায় ও পাখী বা অন্যান্যা প্রাণী পুত্তলীগুলো খেয়ে পোকার সংখ্যা কমিয়ে দেয়।
৪। বিছা পোকা যাতে এক ক্ষেত হতে অন্য ক্ষেতে ছড়াতে না পারে সে জন্য প্রতিবন্ধক নালা তৈরী করা যায়।
ঘোড়া পোকা: 
১। পাট ক্ষেতে ঘোড়া পোকার আক্রমণ দেখা দিলে কেরোসিন ভেজানো দড়ি গাছের উপর দিয়ে টেনে নিলে পোকার আক্রমণ কমে যায়।
২। শালিক বা ময়না জাতীয় পাখী ঘোড়া পোকা খেতে পছন্দ করে। পাট ক্ষেতে বাঁশের কঞ্চি অথবা গাছের ডাল পুঁতে এদের বসার ব্যবস্থা করলে পাখি ঘোড়া পোকা খেয়ে পোকার সংখ্যা কমিয়ে দেয়।
৩। নিম্নে বর্ণিত ঔষধগুলোর যে কোন একটি গাছের ডগায় ছিটিয়ে ঘোড়া পোকা দমন করা যায়। ডায়াজিনন ৬০% ইসি অথবা ইকালাক্স ২৫% ইসি ১২ লিটার পানির সাথে ১৮ এমএল মিশিয়ে ছিটানো যেতে পারে।
চেলে পোকা: 
১। পাট ক্ষেতের পাশে বনওকড়া গাছ এবং অন্যান্য আগাছা পরিষ্কার রাখলে এ পোকার আক্রমণ কম হয়।
২। পাট মৌসুমের প্রথমে ডগা আক্রান্ত চারাগুলো তুলে ফেললে পরবর্তীতে এদের আক্রমণ কম হয়।
৩। গাছের উচ্চতা ৫-৬ ইঞ্চি লম্বা হওয়ার পর চেলে পোকার আক্রমণ বেশী হলে কীটনাশক ঔষধ ছিঠিয়ে দিলে ভাল ফল পাওয়া যায়। এক মৌসুমে তিনবার ঔষধ ছিটিয়ে প্রায় সম্পূর্ণ রূপে পোকা দমন করা যায়। মেটাসিসটকস আর ৫০% হিস, ৬০% ইসি ও নুভাক্রণ ৪০% ইসি প্রতি লিটারে দেড় মিলি অথ্যাৎ ১২ লিটার পানির সাথে ১৮ মিলি বা চা চামচের ৩.২৫ চামচ (১ চা চামচ = ৫ মিলি) মিশিয়ে ক্ষেতে ছিটালে ভাল ফল পাওয়া যায়।
লেদা পোকা: ১। ডিম এবং দলবদ্ধ থাকা অবস্থায় পোকা সমেত পাতা তুলে ধ্বংস করলে এদের আক্রমণ কমানো যেতে পারে। ২। পাট ক্ষেতের আশপাশ আগাছা মুক্ত রাখতে হবে। ৩। পাট কাটার পর জমি চাষ দিয়ে ফেলে রাখলে এদের পুত্তলিগুলোকে পাখি বা অন্যান্য প্রাণী খেয়ে এদের সংখ্যা কমিয়ে দিতে পারে। ৪। আক্রান্ত ক্ষেতে সেচ দিয়ে এবং পাখি বসার জন্য ক্ষেতে ডালপালা পুতে দিয়ে ও এদের সংখ্যা কমানো যায়। ৫। কীটনাশক কুইনাল ফস ২৫ ইসি ২ মিলি/লি: অথবা ক্লোরোপাইরিফস ২০ ইসি ৪ মিলি/লি: পানিতে মিশিয়ে আক্রান্ত পাট গাছে ও মাটিতে ভালভাবে স্প্রে করতে হবে।

 সার ব্যবস্থাপনা

জাতের নাম প্রয়োজনীয় সারের মাত্রা (কেজি/হেক্টর) এবং প্রয়োগের সময়
ইউরিয়া (বপনের দিন) ইউরিয়া (বপনের ৪৫ দিন পর) টিএসপি (বপনের দিন) এমপি (বপনের দিন) জিপসাম (বপনের দিন) জিংক সালফেট (বপনের দিন)
দেশী জাত (বিজেআরআই দেশী পাট-৫, বিজেআরআই দেশী পাট-৬) ৮৩ ৮৩ ২৫ ৩০ ৪৫ ১১
বিজেআরআই তোষা পাট-৪ এবং ৬ ৮৩ ৮৩ ৫০ ৪০ ৯৫ ১১

সূত্র : কৃষি প্রযুক্তি হাতবই

প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন।

Tags:

We will be happy to hear your thoughts

Leave a Reply

Logo
Reset Password
Compare items
  • Total (0)
Compare
0