বাংলাদেশে ড্রিপ ইরিগেশন সিস্টেম

ড্রিপ ইরিগেশন সিস্টেম নিয়ে বাংলাদেশে কথা বললে অনেকই ভাবতে পারে বিশাল ব্যাপার , চরম ব্যয় বহল বিষয় । কি দরকার এইসব এই দেশে কি ড্রিপ ইরিগেশন সিস্টেম ব্যবহার না করে ফসল উৎপাদন করা যায় না ?

আসল কোথায় আসি একজন মানুষ সাধারণত তিন বেলা পেট পুরে খায় ভিন্ন ভিন্ন সময়ে , যার যার পেটের সাইজ ও ধারণ ক্ষমতা অনুপাতে । আচ্ছা যদি এমন হয় , সকালে নাস্তা , দুপুরের খাবার , রাতের খাবার সব একই সাথে চাপানো হয় তাহলে আপনার অবস্থা কি হবে ?

কি আর হবে আপনি দৌড়ে পালাবেন , লড়তে চড়তে না পাড়ার ভয়ে । প্রতিটি মানুষের নির্দিষ্ট সময় পর পর তার শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি যোগানের ক্ষমতা আছে । যা মানুষের বয়স , গড় উচ্চতা ও দৈহিক আকার গঠনের উপর নির্ভর করে ।

একজন মানুষ যখন অসুস্থ হয় চিকিৎসা বিজ্ঞানের কাজ হল তাকে সুস্থ করে দেওয়া বা সঠিক সেবা প্রদান করে স্বাভাবিক করা । তাই একজন অসুস্থ মানুষের শরীরে দীর্ঘক্ষণ সময় নিয়ে স্যালাইন পুষ করা হয় ধীরে ধীরে ।

মানুষের মত প্রতিটি উদ্ভিদের প্রাণ আছে , উদ্ভিদ বোবা কথা বলতে পারে না শুধু পারে তার বাহ্যিক রূপ পরিবর্তন করে মানুষ কে বোঝানোর চেষ্টা করে সে ভাল আছে না খারাপ আছে ?

বাংলাদেশে মিঠা পানির খুব একটি সমস্যা নেই , যুগ যুগ ধরে সনাতন পদ্ধতিতে সেচ দিয়ে চলে আসছে , মানে তিন বেলার খাবার একবারে প্রয়োগ করা । এর ফলে টোটাল সিস্টেম লস নিয়ে কেউ কখনো হিসাব নিকাশ করে না ।

এইবার আসা যাক আমাদের অতি পরিচিত ইটের তৈরি সেচ ক্যানাল ড্রেন ব্যবস্থার দিকে । আমরা কখনো ঠাণ্ডা মাথায় হিসাব করেছি ১ ফুট বা ১ কি.মি লম্বা মাঠের ভিতর লম্বা ড্রেন বানাতে কত খরচ হয় ?
মেয়াদ কাল কত ? পানি কি পরিমাণ বাতাসে উড়ে যায় ? গভীর নল কূপ চালাতে প্রতি দিন ঘণ্টা , মাসিক বছরে গড় কত টাকা খরচ হয় ?

হয়তো অনেকই বলতে পারেন , বাংলাদেশে ধান / গম / ভুট্টা চাষ করতে কেন ড্রিপ ইরিগেশন লাগবে ? দেখন আমাদের সরকারি বড় বড় কৃষি প্রজেক্ট ধান গম ভুট্টা চাষ করা বা উৎপাদন করা বাদে ও অন্যান্য ডাল জাতীয় বা সবজী জাতীয় ফসল উৎপাদনে সনাতন পদ্ধতিতে পানি দিয়ে আসছে ।

ধরুন আজ পানি সহজলভ্য আছে তাই চিন্তা করছেন না , আগামীকাল পানি সহজলভ্য থাকবে না ১০০% নিশ্চিত থাকেন । তাই আমাদের হাতে সময় থাকতেই প্রতিটি পয়েন্টে সঠিক যুক্তি দিয়ে চিন্তা করা উচিত ।

আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা , মাঠ পর্যায়ে সম্প্রসারণ করার জন্য দীর্ঘ মেয়াদি সু পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা উচিত । প্রতিনিয়ত আবহাওয়া বদলে যাচ্ছে , সে সাথে সঠিক সময়ে খাদ্য উৎপাদন করা ও চ্যালেজ্ঞ হয়ে যাবে । কৃষি কোন আবেগের জায়গা না , বাস্তবতা থেকে উপলব্ধি করার বিষয় ।

Source

We will be happy to hear your thoughts

      Leave a Reply

      Logo
      Reset Password
      Compare items
      • Total (0)
      Compare
      0