বাংলাদেশে আদার জাত (বারি)

জাতের নাম     : বারি আদা-১

বৈশিষ্ট্য : এই জাতের গাছের গড় উচ্চতা ৭৯-৮২ সেন্টিমিটার। প্রতি গাছে টিলার সংখ্যা ৩০-৩২ টি ও পাতার সংখ্যা ২১০-২১২টি। প্রতি গাছে প্রাইমারি রাইজোমের সংখ্যা ৫৪-৫৭টি ও সেকেন্ডারি রাইজোমের সংখ্যা ৩৯০-৩৯৫টি পর্যন্ত হতে পারে। জাতটির রোগ প্রতিরোধ ও সংরক্ষণ ক্ষমতা ভাল।
উপযোগী এলাকা  : লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, দিনাজপুর, টাঙ্গাইল, রাঙ্গামাটি, বান্দরবন ও খাগড়াছড়ি জেলা।
বপনের সময়  : মধ্য এপ্রিল থেকে মধ্য মে
মাড়াইয়ের সময়:  ডিসেম্বর-জানুয়ারি
বীজ/চারার হার: ২৮০০ -৩২০০ কেজি/হেক্টর
বপন/ রোপনের দূরত্ব: ৫০ সেন্টিমিটার X ২৫ সেন্টিমিটার
ফলন: ৩০-৩২ টন/হেক্টর


বারি আদা-১

 রোগবালাই ও দমন ব্যবস্থা

 রোগবালাই: 


কন্দ পচা

কন্দ পচা এবং লিফ ব্লাইট
 দমন ব্যবস্থা: 
কন্দ পচা রোগের ক্ষেত্রে 
১। জমির অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন করতে হবে/আদার চাষের জন্য উঁচু নিষ্কাশন সুবিধাযুক্ত জমি নির্বাচন করতে হবে।
২। বীজ আদার জন্য সুস্থ ও নিরোগ গাছ নির্বাচন।
৩। আক্রান্ত জমিতে পুনরায় আদা চাষ আর না করা।
৪। একই জমিতে বার বার আদা চাষ করা যাবে না।
৫। রিডোমিল গোল্ড বা ব্যাভিস্টিন দিয়ে বীজকন্দ শোধন করে রোপন করতে হবে।
৬। রোগের লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার সাথে সাথে (আগষ্ট-সেপ্টেম্বর মাসে) ব্লাইটক্স ৫০ বা ব্লু-কপার, রিডোমিল গোল্ড প্রতি লিটার পানিতে ৪ গ্রাম হারে মিশিয়ে কান্ড ও মাটির সংযোগস্থলে ১৫-২০ দিন পর
পর প্রয়োগ করতে হবে। এই দমন ব্যবস্থা আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাখতে হবে।
৭। আক্রান্ত গাছ রাইজোমসহ সম্পূর্ণরুপে তুলে ধ্বংস করতে হবে।
৮। লিফ ব্লাইট রোগের আক্রমণের শুরুতে ০.২% হারে ব্যাভিস্টিন/০.১% হারে ফলিকুর বা স্কোর ১০ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করে এ রোগ দমন করা যায়।

 পোকামাকড় ও দমন ব্যবস্থা

 পোকামাকড়: 


রাইজোম ফ্লাই পোকা

রাইজোম ফ্লাই পোকা আক্রান্ত আদা

পাতা খেকো পোকা, কান্ড ছিদ্রকারী পোকা ও রাইজোম ফ্লাই পোকা
 দমন ব্যবস্থা: 
পাতা খেকো পোকার ক্ষেত্রে
১। এ পোকা দমনের জন্য ১০দিন পর পর ২-৩ বার বিকেল বেলায় ০.৫% হারে ডেসিস বা ০.২% হারে রাইসন বা সাইপারমেথ্রিন গ্রুপের ঔষধ স্প্রে করতে হবে।
কান্ড ছিদ্রকারী পোকার ক্ষেত্রে
১। কান্ডে ছিদ্র দেখামাত্রই ০.২% হারে সেভিন ডাষ্ট ১০ দিন পরপর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।
রাইজোম ফ্লাই পোকার ক্ষেত্রে
১। এ পোকা আক্রমন হলে ডারসবান বা লরসবান ১০ জি ২গ্রাম/লিটার হারে ১০ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।

 সার ব্যবস্থাপনা

আদা চাষের জন্য হেক্টর প্রতি নিম্নে উল্লেখিত পরিমাণে সার জমিতে প্রয়োগ করতে হবে।

সারের নাম মোট পরিমাণ (কেজি) শেষ চাষের সময় প্রয়োগ (কেজি) পরবর্তী পরিচর্যা হিসেবে প্রয়োগ
১ম কিস্তি ২য় কিস্তি ৩য় কিস্তি
গোবর ৫টন সব
ইউরিয়া ৩০৪ ১৫২ ৭২ ৭৬
টিএসপি ২৬৭ সব
এমওপি ২৩৩ ১১৬ ৫৯ ৫৮
জিংক অক্সসাইড সব
জিপসাম (গ্রাম) ১১০ সব
বরিক এসিড ৩-৬ সব

জমি চাষের সময় গোবর, টিএসপি, অর্ধেক এমপি, জিপসাম এবং জিংক মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। অর্ধেক ইউরিয়া আদা রোপনের ৫০ দিন পর জমিতে প্রয়োগ করতে হবে। অবশিষ্ট ইউরিয়া ও এমপি সমানভাগে দুই কিস্তিতে রোপনের যথাক্রমে ৮০ ও ১১০ দিন পর জমিতে পার্শ্ব প্রয়োগ করতে হবে। এই সময় গাছের গোড়ায় মাটি তুলে দিতে হবে।

প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন।

 

জাতের নাম     : বারি আদা-২

বৈশিষ্ট্য : এ জাতের জীবনকাল ৩০০-৩১৫ দিন। গাছের গড় উচ্চতা ৮৮.০০-৯০.৫০- সে.মি ,গড় পাতার সংখ্যা ৪৯৫-৫০৩ টি, গড় কুশির সংখ্যা ২৯.০-৩০.৮০টি ,গড় প্রাইমারী রাইজোমের ওজন ৬৬.৫০-৭০.০- গ্রাম , সেকেন্ডারী রাইজোমের গড়ওজন ৫৫০-৫৫৬ গ্রাম , জাতটি কান্ড পঁচা রোগ সহনশীল।
উপযোগী এলাকা  : লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, দিনাজপুর, টাঙ্গাইল, রাঙ্গামাটি, বান্দরবন ও খাগড়াছড়ি জেলা।
বপনের সময়  : মধ্য এপ্রিল থেকে মধ্য মে
মাড়াইয়ের সময়:  ফেব্রুয়ারী
বীজ/চারার হার: ২৮০০- ৩২০০ কেজি/হেক্টর।
বপন/ রোপনের দূরত্ব: ৫০ সেন্টিমিটার X ২৫ সেন্টিমিটার
ফলন: ৩৬.০০-৩৮.০০ টন/হেক্টর


বারি আদা-২

 রোগবালাই ও দমন ব্যবস্থা

 রোগবালাই: 


কন্দ পচা

কন্দ পচা এবং লিফ ব্লাইট
 দমন ব্যবস্থা: 
কন্দ পচা রোগের ক্ষেত্রে 
১। জমির অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন করতে হবে/আদার চাষের জন্য উঁচু নিষ্কাশন সুবিধাযুক্ত জমি নির্বাচন করতে হবে।
২। বীজ আদার জন্য সুস্থ ও নিরোগ গাছ নির্বাচন।
৩। আক্রান্ত জমিতে পুনরায় আদা চাষ আর না করা।
৪। একই জমিতে বার বার আদা চাষ করা যাবে না।
৫। রিডোমিল গোল্ড বা ব্যাভিস্টিন দিয়ে বীজকন্দ শোধন করে রোপন করতে হবে।
৬। রোগের লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার সাথে সাথে (আগষ্ট-সেপ্টেম্বর মাসে) ব্লাইটক্স ৫০ বা ব্লু-কপার, রিডোমিল গোল্ড প্রতি লিটার পানিতে ৪ গ্রাম হারে মিশিয়ে কান্ড ও মাটির সংযোগস্থলে ১৫-২০ দিন পর
পর প্রয়োগ করতে হবে। এই দমন ব্যবস্থা আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাখতে হবে।
৭। আক্রান্ত গাছ রাইজোমসহ সম্পূর্ণরুপে তুলে ধ্বংস করতে হবে।
৮। লিফ ব্লাইট রোগের আক্রমণের শুরুতে ০.২% হারে ব্যাভিস্টিন/০.১% হারে ফলিকুর বা স্কোর ১০ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করে এ রোগ দমন করা যায়।

 পোকামাকড় ও দমন ব্যবস্থা

 পোকামাকড়: 


রাইজোম ফ্লাই পোকা

রাইজোম ফ্লাই পোকা আক্রান্ত আদা

পাতা খেকো পোকা, কান্ড ছিদ্রকারী পোকা ও রাইজোম ফ্লাই পোকা
 দমন ব্যবস্থা: 
পাতা খেকো পোকার ক্ষেত্রে
১। এ পোকা দমনের জন্য ১০দিন পর পর ২-৩ বার বিকেল বেলায় ০.৫% হারে ডেসিস বা ০.২% হারে রাইসন বা সাইপারমেথ্রিন গ্রুপের ঔষধ স্প্রে করতে হবে।
কান্ড ছিদ্রকারী পোকার ক্ষেত্রে
১। কান্ডে ছিদ্র দেখামাত্রই ০.২% হারে সেভিন ডাষ্ট ১০ দিন পরপর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।
রাইজোম ফ্লাই পোকার ক্ষেত্রে
১। এ পোকা আক্রমন হলে ডারসবান বা লরসবান ১০ জি ২গ্রাম/লিটার হারে ১০ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।

 সার ব্যবস্থাপনা

আদা চাষের জন্য হেক্টর প্রতি নিম্নে উল্লেখিত পরিমাণে সার জমিতে প্রয়োগ করতে হবে।

সারের নাম মোট পরিমাণ (কেজি) শেষ চাষের সময় প্রয়োগ (কেজি) পরবর্তী পরিচর্যা হিসেবে প্রয়োগ
১ম কিস্তি ২য় কিস্তি ৩য় কিস্তি
গোবর ৫টন সব
ইউরিয়া ৩০৪ ১৫২ ৭২ ৭৬
টিএসপি ২৬৭ সব
এমওপি ২৩৩ ১১৬ ৫৯ ৫৮
জিংক অক্সসাইড সব
জিপসাম (গ্রাম) ১১০ সব
বরিক এসিড ৩-৬ সব

জমি চাষের সময় গোবর, টিএসপি, অর্ধেক এমপি, জিপসাম এবং জিংক মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। অর্ধেক ইউরিয়া আদা রোপনের ৫০ দিন পর জমিতে প্রয়োগ করতে হবে। অবশিষ্ট ইউরিয়া ও এমপি সমানভাগে দুই কিস্তিতে রোপনের যথাক্রমে ৮০ ও ১১০ দিন পর জমিতে পার্শ্ব প্রয়োগ করতে হবে। এই সময় গাছের গোড়ায় মাটি তুলে দিতে হবে।

প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন।

Tags:

We will be happy to hear your thoughts

Leave a Reply

Logo
Reset Password
Compare items
  • Total (0)
Compare
0