বাংলাদেশের দ্বিতীয় খাদ্য শস্য গম

বাংলাদেশে খাদ্য ফসল হিসেবে গম দ্বিতীয় শীর্ষ স্থানে রয়েছে। সত্তর দশকে বাংলাদেশে প্রায় ১ লক্ষ হেক্টর জমিতে স্থানীয়ভাবে প্রাপ্ত খেরী, আইপি-৫২, আইপি-১২৫ জাতের গম আবাদ হত। এর মোট উৎপাদন মাত্রা ১ লক্ষ টনের মত ছিল। তখন উচ্চ ফলনশীল জাতের গম চাষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয় এবং বিদেশ থেকে কল্যাণসোনা এবং
সোনালিকা জাতের ৫ হাজার টন গম বীজ আমদানি করা হয়। স্থানীয় জাতের তুলনায় উচ্চ ফলনশীল জাতের ফসল প্রায় তিন গুণ বেশি হওয়ায় তখন গম উৎপাদনে বিপুল উৎসাহ সৃষ্টি হয়। প্রতি বছরই গম চাষের অধীন জমির পরিমাণ এবং উৎপাদন বৃদ্ধি পেতে থাকে। এভাবে ১৯৮৫ সালে প্রায় ৭ লক্ষ হেক্টর জমিতে গমের চাষ সম্প্রসারিত হয় এবং এর উৎপাদন প্রায় ১২ লক্ষ টনে উনড়বীত হয়। এভাবে স¦ল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ পৃথিবীর মানচিত্রে গম উৎপাদনকারী দেশে পরিণত হয়। ১৯৯৮-৯৯ সালে ৮ লক্ষ হেক্টর জমিতে আবাদ সম্প্রসারিত হয় এবং উৎপাদন প্রায় ১৯ লক্ষ টনে উন্নীত
হয়। তবে এরপর থেকে বিভিন্ন কারণে যেমন, অন্যান্য রবি ফসলের সাথে
প্রতিযোগিতা ও প্রধান আবাদি জাত রোগাক্রান্ত হওয়ায় গমের আবাদ ও উৎপাদন
প্রতি বছরই কমতে থাকে। ১৯৯৮ সাল থেকে পরবর্তী সময়ে বেশ কিছু উচ্চ ফলনশীল, তাপ সহিষ্ণু ও রোগ প্রতিরোধী জাত উদ্ভাবন ও কৃষক পর্যায়ে হস্তান্তরিত হওয়ায় গমের আবাদ, উৎপাদন এবং ফলন গত কয়েক বছর যাবত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে ৪.৫৩ লক্ষ হেক্টর জমিতে গমের উৎপাদন ১৩.৭৫ লক্ষ মেট্রিক টন এবং হেক্টরপ্রতি গড় ফলন ৩.০৪ টন যা বাংলাদেশের গম চাষের ক্ষেত্রে একটি মাইল ফলক।
বাংলাদেশে গম চাষ এত দ্রুত জনপ্রিয় হওয়ার কারণ হিসেবে উলেখ করা যায় যে, গমের চাষ সহজ, সেচ পানির চাহিদা কম এবং রোগ ও পোকার আক্রমনের তেমন সমস্যা নেই।
বর্তমানে এদেশে অধিক আবাদকৃত গম জাতের মধ্যে ‘বারি গম-২৫’, ‘বারি গম-২৬’, ‘বারি গম-২৭’, ‘বারি গম-২৮’ ‘বারি গম-২৯’,‘বারি গম-৩০’,‘বারি গম-৩১’ এবং ‘বারি গম-৩২’ রোগ প্রতিরোধী উচ্চ ফলনশীল জাত।

শখের গল্প।

সুত্রঃ কৃষি প্রযুক্তি হাতবই 
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট

গম
গম
গম
গম
গম
গম

Tags:

We will be happy to hear your thoughts

Leave a Reply

শখের কৃষি
Logo
Reset Password
Shopping cart