ফল গবেষনায় বাংলাদেশ ও বিভিন্ন জাত

ফল বিভাগ, উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র, বিএআরআই, গাজীপুর উষ্ণ এবং অবউষ্ণ মন্ডলীয় ফলের মৌলিক , কৌশলগত , ফলিত  এবং অভিযোজনমূলক গবেষণা কার্যμম বাস্তবায়ন করে থাকে যা পুষ্টিহীনতা দূরীকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জাতীয় অর্থনৈতিক উনড়বয়নে ব্যাপক সহায়তা প্রদান করে আসছে। যদিও আমাদের দেশের ফলের চাহিদা ও যোগানের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক পার্থক্য। এর অন্যতম কারণ সমূহ হলো স্থানীয় ও কম উৎপাদনশীল জাত সমূহের ব্যবহার যার অধিকাংশই বীজের গাছ, বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে ফলের প্রাপ্যতা বেশি থাকা, যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাব এবং গুণগত মানসম্পনড়ব চারা/কলমের অপ্রতুল উৎপাদন ও বিতরণ। সুতরাং, বিশেষ উদ্দেশ্য সম্বলিত (প্রμিয়াজাতকরণযোগ্য, রপ্তানীযোগ্য ইত্যাদি); বারমাসী, অমৌসুমী, আগাম, মধ্যম, নাবী, বায়োটিক এবং এবায়োটিক স্ট্রেস সহনশীল এবং উচ্চফলনশীল ও গুণগত মানসম্পনড়ব জাত উদ্ভাবন, দেশ ও বিদেশ থেকে জার্মপ্লাজম সংগ্রহ, বৈশিষ্টিকরণ, মূল্যায়ন, সংরক্ষণ এবং ব্যবহার, সহজ বংশবিস্তার পদ্ধতি উদ্ভাবন, শারীরবৃত্তীয় গবেষণা এবং বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রক প্রয়োগ, মৃত্তিকা ও পানি ব্যবস্থাপনা, সমন্বিত রোগ ও পোকামাকড় ব্যবস্থাপনা এবং শস্য সংগ্রহোত্তর প্রযুক্তি এবং জীব প্রযুক্তি (নরড়ঃবপযহড়ষড়মু) বিষয়ক কলাকৌশল উদ্ভাবন করার জন্য গবেষণা কার্যμম জোরদার করা প্রয়োজন। ফল বিভাগ, উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র, বিএআরআই এ পর্যন্ত ৩০ টি বিভিনড়ব ফলের প্রজাতির ৭০ টি উনড়বত জাত উদ্ভাবন করেছে। যা কৃষক পর্যায়ে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়ে আসছে এবং দেশীয় ফলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বাছাই প্রμিয়ার মাধ্যমে বারি কাঁঠাল-১ ও বারি কাঁঠাল-২ নামে কাঁঠালের দু’টি উনড়বত জাত কৃষক পর্যায়ে চাষের জন্য মুক্তায়িত করেছে। উক্ত জাত দুটির মধ্যে বারি কাঁঠাল-২ নিয়মিত ফলদানকারী উচ্চ ফলনশীল অমৌসুমী জাত। গাছ খাড়া প্রকৃতির ও মধ্যম ঝোপালো। জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত ফল আহরণ করা যায়। গাছ প্রতি ৫৪-৭৯ টি ফল ধরে যার ওজন ৩৮০-৫৭৯ কেজি। ফল মাঝারী (৬.৯৫ কেজি), ও দেখতে আকর্ষণীয়। ফলের শাঁস হালকা হলুদ বর্ণের, সুগন্ধযুক্ত ও মধ্যম রসালো এবং খুব মিষ্টি (ব্রিক্রামান ২১%)। খাদ্যেপযোগী অংশ ৬০%। হেক্টর প্রতি ফলন ৩৮-৫৮ টন।

 

বাংলাদেশের সব এলাকায় চাষযোগ্য। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে আমের এগারটি উনড়বত জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। উক্ত জাত সমুহের মধ্যে বারি আম-৩, বারি আম-৪, বারি আম-৮ ও বারি আম-১১ বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য। বারি আম-৩ নিয়মিত ফলদানকারী উচ্চ ফলনশীল নাবী জাত। গাছ তুলনামূলকভাবে খাটো ও খাড়া। ফান্ডুন মাসে গাছে মুকুল আসে এবং মধ্য আষাঢ়ে ফল আহরণ উপযোগী হয়। ফল লম্বাটে, গড় ওজন ১৮০ গ্রাম। ফলের শাঁস গাঢ় হলদে বর্ণের, আঁশহীন, রসালো, খেতে খুব মিষ্টি (ব্রিক্রামান ২৩%), খাদ্যোপযোগী অংশ ৭১%। বাংলাদেশের সব অঞ্চলেই বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা যায়। হেক্টর প্রতি ফলন ২০ টন। বারি আম-৪ নিয়মিত ফলদানকারী উচ্চ ফলনশীল নাবী জাত। জাতটি স্থানীয় অশ্বিনা ও ফ্লোরিডার ৩৮২৬ জাতের মধ্যে সংকরায়নের মাধ্যমে উদ্ভাবন করা হয়েছে। এ জাতের আম গাছ বড় ও খাড়া। ফাল্গুন মাসে গাছে মুকুল আসে এবং আষাঢ় মাসের শেষের দিকে ফল আহরণ উপযোগী হয়। ফল আকারে বেশ বড় (৬০০ গ্রাম), প্রায় গোলাকার ও লাল আভাসহ সবুজ বর্ণের। ফলের শাঁস গাঢ় হলদে বর্ণের, আঁশহীন, রসালো, খেতে খুব মিষ্টি (২৪% ব্রিক্সমান), খাদ্যোপযোগী অংশ ৮০%। বাংলাদেশের সর্বত্র চাষ উপযোগী। হেক্টর প্রতি ফলন ২০ টন। বারি আম-৮ প্রতি বছর ফলদানকারী রঙিন উচ্চ ফলনশীল নাবীজাত জাত। গাছ তুলনামূলকভাবে খাটো ও ছড়ানো। ফান্ডুন মাসে গাছে মুকুল আসে এবং মধ্য আষাঢ়ে ফল আহরণ উপযোগী হয়। ফল লম্বাটে, উজ্জল হলুদ বর্ণের, ফলের গড় ওজন ২৭০ গ্রাম। ফলের শাঁস উজ্জ্বল হলদে, রসালো, আঁশহীন, খুব মিষ্টি (ব্রিক্রামান ২২%), খাদ্যোপযোগী অংশ ৭০%। হেক্টর প্রতি ফলন ২০-২৫ টন। ফলের সংরক্ষণকাল তুলনামূলকভাবে বেশী। দেশের সব এলাকায় এমনকি ঝড় প্রবণ উপকূলীয় অঞ্চলেও চাষোপযোগী। জাতটি রপ্তানিযোগ্য। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে কলার ৪ টি উনড়বত জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। বারি কলা-৩ বাংলা কলার উচ্চ ফলনশীল জাতটি ২০০৫ সালে পার্বত্য অঞ্চলে চাষাবাদের জন্য মুক্তায়ন করা হয়। প্রতি কাঁদিতে ১৪১ টি কলা হয় যার ওজন ২৩.৮ কেজি। ফল মধ্যম আকারের (১৪৪ গ্রাম)। হেক্টর প্রতি ফলন ৪৫-৫০ টন। পাকা ফল হলুদ রংয়ের, স¤পূর্ণ বীজহীন, শাঁস আঠালো, মিষ্টি (ব্রিক্রা মান ২৫.৫%) ও সুস্বাদু। ফল পাকার পরও ৫ দিন পর্যন্ত ঘরে রেখে খাওয়া যায়। জাতটি রোগ ও পোকামাকড় সহনশীল। দেশের সর্বত্র চাষ উপযোগী। বারি কলা-৪পার্বত্য এলাকা থেকে নির্বাচিত চাপা কলার একটি উচ্চ ফলনশীল জাত। প্রতি কাদিতে ফলের সংখ্যা ১৭৮টি যার ওজন প্রায় ১৯ কেজি। ফল মাঝারী আকারের গড় ওজন ৯৭ গ্রাম। ফল পাকা হলদে রংয়ের সম্পূর্ণ বীজ বিহীন এবং টক মিষ্টি (ব্রিক্রামান ২০%) স্বাদের। হেক্টর প্রতি ফলন ৪০-৪৫ টন। রোগ ও পোকামাকড় সহনশীল। দেশের সর্বত্র চাষ উপযোগী। বাংলাদেশে অনেক জাতের লিচুর চাষ হয়। তারমধ্যে বেদানা, বো¤¦াই, মঙ্গলবাড়ী, মোজাফফরপুরী, চায়না-৩, কদমী অন্যতম। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এর ফল বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিন নিরলস প্রচেষ্টায় ৫টি লিচুর জাত উদ্ভাবিত হয়েছে । বারি লিচু-৩মাঝ-মৌসুমী ক্ষুদ্র বীজ সম্পনড়ব লিচুর একটি উনড়বত জাত। মধ্য মাঘে গাছে ফুল আসে এবং মধ্য জ্যৈষ্ঠে ফল আহরণ উপযোগী হয়। ফলের গড় ওজন ১৯ গ্রাম, ফল বেশী মাংসল, রসালো ও মিষ্টি (ব্রিক্সমান ১৯.০%)। খাদ্যোপযোগী অংশ ৭৫%। সমগ্র বাংলাদেশের জন্য উপযোগী। হেক্টর প্রতি ফলন ৫ টন। বারি লিচু-৪মাঝ-মৌসুমী অতি ক্ষুদ্র বীজ সম্পনড়ব লিচুর একটি উচ্চ ফলনশীল এবং উনড়বত গুণগত মানসম্পনড়ব জাত। মধ্য মাঘে গাছে ফুল আসে এবং জ্যৈষ্ঠের শেষ সপ্তাহে ফল আহরণ উপযোগী হয়। পাকা ফলের রং উজ্জল লাল। ফলের গড় ওজন ২৭ গ্রাম, ফল বেশী মাংসল, রসালো ও খুব মিষ্টি (ব্রিক্সমান ২২.০%)। খাদ্যোপযোগী অংশ ৭৮%। বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের (রংপুর, দিনাজপুর) জন্য উপযোগী। হেক্টর প্রতি ফলন ১০-১২ টন। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ‘‘কাজী পেয়ারা’’, ‘‘বারি পেয়ারা-২’’ ও ‘‘বারি পেয়ারা-৩’’ নামে তিনটি উনড়বত জাত মুক্তায়িত করেছে। বারি পেয়ারা-২উচ্চ ফলনশীল জাত। গাছ খর্বাকৃতির, মধ্যম ছড়ানো, ও মধ্যম ঝোপালো। কমবেশী সারা বছর ফল দেয়। প্রধান মৌসুমে মার্চ-এপ্রিল মাসে গাছে ফুল আসে এবং আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে ফল আহরণ উপযোগী হয়। ফল গোলাকার, গড় ওজন ৪০০ গ্রাম। পরিপক্ক ফলের রং হলুদাভ সবুজ। শাঁস সাদা, খেতে মিষ্টি (ব্রিক্সমান ১০%) ও কচকচে । বীজ অল্প ও নরম। গাছ প্রতি বছরে ৬৫ কেজি ফল হয়। হেক্টর প্রতি ফলন ৩০ টন। দেশের সর্বত্র চাষ করা যায়। এ্যানথ্রাকনোজ ও ঢলে পড়া রোগের প্রতি সংবেদনশীল। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট কুলের চারটি উনড়বত জাত উদ্ভাবন করেছে। বারি কুল-১উচ্চ ফলনশীল নিয়মিত ফলদানকারী জাত। গাছ মাঝারী, মধ্যম ছড়ানো। ভাদ্র মাসে গাছে ফুল আসে এবং মাঘের শেষার্ধে ফল আহরণ শুরু হয়। ফল মাঝারী (২৩ গ্রাম), হলুদাভ সবুজ বর্ণের ও দু’প্রান্ত সরু। খেতে কচকচে, খুব মিষ্টি ও সুস¦াদু (ব্রিক্রামান ১৩%) ও কষ্টিভাব বিহীন। বীজ ছোট, খাদ্যোপযোগী অংশ ৯২%। ফলন ১০-১৫ টন/হেঃ। রাজশাহী ও খুলনা এলাকায় চাষ উপযোগী। বারি কুল-৩উচ্চ ফলনশীল মাঝ মৌসুমী জাত। গাছ খাটো, মোটামুটি খাড়া। ভাদ্র মাসে গাছে ফুল আসে এবং মাঘের শুরুতে ফল আহরণ শুরু হয়। ফল আকারে বড় (৭৫ গ্রাম), প্রায় গোলাকার ও হলুদাভ সবুজ বর্ণের। বীজ ছোট, খাদ্যোপযোগী অংশ ৯৬% ও খেতে কচকচে, খুব মিষ্টি ও সুস¦াদু (ব্রিক্রামান ১৪%) ও কষ্টিভাব বিহীন। হেক্টর প্রতি ফলন ২২-২৫ টন। দেশের সর্বত্র চাষাবাদের উপযোগী। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ‘বারি মাল্টা-১’ নামে ২০০৩ সালে মাল্টার একটি উনড়বত জাত উদ্ভাবন করেছে। এ জাতের পাকা ফল দেখতে আকর্ষনীয় সবুজ এবং খেতে সুস্বাদু। এটি নিয়মিত ফলদানকারী উচ্চ ফলনশীল জাত। গাছ খাট, ছড়ানো ও অত্যধিক ঝোপালো। মধ্য ফান্ডুন থেকে মধ্য চৈত্র পর্যন্ত সময়ে গাছে ফুল আসে এবং কার্তিক মাসে ফল আহরণ উপযোগী হয়। ফল গোলাকার, মাঝারী আকৃতির (১৫০ গ্রাম)। ফলের দৈর্ঘ্য ৭ সে.মি. এবং প্রস্থ ৫ সে.মি.। পাক ফলের রং সবুজ। ফলের পুষ্প প্রান্তে পয়সা সাদৃশ সামান্য নিচু বৃত্ত বিদ্যমান। ফলের খোসা মধ্যম পুরো ও শাসের সাথে সংযুক্ত। শাঁস হলুদাভ, রসালো, খেতে মিষ্টি ও সুস¦াদু (ব্রিক্রামান ৭.৮%)। গাছ প্রতি ৩০০-৪০০ টি ফল ধরে। হেক্টর প্রতি ফলন ২০ টন। বৃহত্তর সিলেট, চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও পঞ্চগড়সহ দেশের সব অঞ্চলের জন্য উপযোগী। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ‘বারি লটকন-১’ নামে লটকনের একটি উনড়বত জাত উ দ্ভাবন করেছে। বারি লটকন-১মাঝ মৌসুমী উচ্চ ফলনশীল জাত। গাছ মাঝারী, মধ্যম খাড়া ও ঝোপালো। ফান্ডুন মাসে গাছে ফুল আসে এবং শ্রাবণ মাসে ফল আহরণ করা যায়। নয় বছর বয়স্ক গাছে ৩৩৫০টি ফল ধরে যার ওজন ৫০ কেজি। ফল মাঝারী (১৪ গ্রাম)। এতে ৪-৫ টি কোষ থাকে। শাঁস নরম, রসালো, অম্লমধুর স্বাদযুক্ত, এবং মিষ্টি গন্ধযুক্ত (ব্রিক্রামান ১৫.৬%)। হেক্টর প্রতি ফলন ১৪ টন। বাংলাদেশের সব এলাকায় চাষযোগ্য। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত বারি আমলকি-১ একটি উচ্চ ফলনশীল নিয়মিত ফলদানকারী জাত। গাছ বড়, খাড়া ও অল্প ঝোপালো। পৌষ ও বৈশাখ মাসে গাছে ফুল আসে এবং জ্যৈষ্ঠ ও অগ্রহায়ন মাসে ফল আহরণ উপযোগী হয়। ফল বড় (৩০ গ্রাম), চ্যাপ্টা, ও হালকা সবুজ। শাঁস সাদা, মধ্যম রসালো, কচকচে, অল্প কষ্টিভাব সম্বলিত এবং সুস্বাদু (ব্রিক্রামান ১২.০)। উচ্চ ভিটামিন সি সমৃদ্ধ (৩০০ মি.গ্রা./১০০ গ্রাম)। ভক্ষণযোগ্য অংশ ৯২%। হেক্টর প্রতি ফলন ২৬.৪ টন। সমগ্র দেশে চাষোপযোগী।

 

 

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত বারি আঁশফল-২ উচ্চ ফলনশীল নিয়মিত ফলদানকারী জাত। গাছ খাটো, ছড়ানো ও অত্যধিক ঝোপালো। ফান্ডুন-চৈত্র মাসে গাছে ফুল আসে এবং শ্রাবণ মাসের শেষার্ধে ফল আহরণ উপযোগী হয়। ফল তুলনামূলকভাবে বড় (৯.০ গ্রাম), বাদামী রংয়ের, শাঁস সাদা, কচকচে এবং খুব মিষ্টি (ব্রিক্রামান ২৫%)। বীজ খুব ছোট, খোসা পাতলা, খাদ্যেপযোগী অংশ ৭৩%। বাংলাদেশের সব এলাকায় চাষযোগ্য। হেক্টর প্রতি ফলন ৮-১০ টন। বারি কামরাঙ্গা-২উচ্চ ফলনশীল নিয়মিত ফলদানকারী জাত। গাছ মাঝারী, মধ্যম খাড়া ও মধ্যম ঝোপালো। বছরে তিনবার ফল দেয় (জানুয়ারি, জুলাই, এবং অক্টোবর)। ফল মাঝারী (১০০ গ্রাম), ডিম্বাকৃতির ও হালকা হলুদ। শাঁস সাদা, রসালো, কচকচে এবং মিষ্টি (ব্রিক্রামান ৮.০%)। ভক্ষণযোগ্য অংশ ৯৯%। হেক্টর প্রতি ফলন ৫৩ টন। সমগ্র দেশে চাষোপযোগী। জাতটি রপ্তানিযোগ্য। বারি সাতকরা-১ একটি বিদেশে রপতানীযোগ্য উচ্চ ফলনশীল নিয়মিত ফলদানকারী জাত। গাছ মাঝারী, মধ্যম ছড়ানো ও মধ্যম ঝোপালো। চৈত্র-বৈশাখ মাসে গাছে ফুল আসে এবং শীতের প্রারম্ভে (সপ্টেম্বর-নভেম্বর) ফল পাকতে শুরু করে। ফল মধ্যম আকারের (৩৩০ গ্রাম) কমলালেবুর মত চ্যাপ্টা। পাকা ফল হালকা হলুদ বর্ণের। বৃহত্তর সিলেট, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য জেলাসমূহে চাষ উপযোগী। হেক্টর প্রতি ফলন ১০ টন। বারি রাম্বুতান-১ নিয়মিত ফলদানকারী উচ্চ ফলনশীল জাত। গাছ বড় ও অত্যধিক ঝোপালো। ফান্ডুন-চৈত্র মাসে গাছে ফুল আসে, চৈত্র-বৈশাখ মাসে ফল ধরে। শ্রাবণ মাসে ফল আহরণ উপযোগী হয়। ফল ডিম্বাকৃতির, আকারে বড় (৫০ গ্রাম)। পাকা ফলের রং আকর্ষণীয় লালচে খয়েরি। ফলের গায়ের কাটা বেশ লম্বা ও নরম। শাঁস পুরো, মাংসল, সাদা, নরম, রসালো সুগন্ধযুক্ত এবং মিষ্টি (ব্রিক্রামান ১৯%)। বীজ ছোট ও নরম, খাদ্যেপযোগী অংশ ৫৮%। বাংলাদেশের সর্বত্র চাষযোগ্য। হেক্টর প্রতি ফলন ১০-১২ টন। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট স্ট্রবেরীর μমবর্ধমান জনপ্রিয়তা বিবেচনায় বাছাই প্রμিয়ার মাধ্যমে বারি স্ট্রবেরীর-১, বারি স্ট্রবেরীর-২ ও বারি স্ট্রবেরীর-৩ নামে ৩টি উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন করেছে। বারি স্ট্রবেরী-২ বাংলাদেশে সর্বত্র চাষোপযোগী একটি উচ্চ ফলনশীল জাত। জাতটি আমেরিকার ফ্লোরিডা হতে সংগ্রহ পূর্বক বাংলাদেশের আবহাওয়া অভিযোজন পরীক্ষাপূর্বক বাছাই পদ্ধতিতে মুক্তায়ন করাহয়েছে। গাছের গড় উচ্চতা ৩৫ সে.মি. এবং বিস্তার ৪৭-৫২ সে.মি.। ডিসেম্বরের প্রমে গাছে ফুল আসতে শুরু করে এবং ডিসে¤¦র থেকে মার্চ পর্যন্ত ফল আহরণ করা যায়। গাছ প্রতি গড়ে ৩৭ টি ফল ধরে। গাছ প্রতি গড় ফলন ৭৪০ গ্রাম। হেক্টর প্রতি ফলন ১৪-১৮ টন। হৃৎপিন্ডাকৃতির ফল বেশ বড় আকারের, প্রান্ত ভাগ চ্যাপ্টা। পাকা ফল আকর্ষণীয় টকটকে লাল বর্ণের। ফলের ত্বক মধ্যম নরম ও ঈষৎ খসখসে। ফলের শতভাগ ভক্ষণযোগ্য। স্ট্রবেরীর বৈশিষ্ট্যপূর্ণ সুগন্ধযুক্ত ফলের স¦াদ টক-মিষ্টি (টিএসএস-১০%)। ভিটামিন সি-এর পরিমান ৭৬ মি.গ্রা./১০০ গ্রাম। অপরদিকে বারি স্ট্রবেরী-৩ আমেরিকার ফ্লোরিডা হতে সংগ্রহ পূর্বক বাংলাদেশের আবহাওয়া অভিযোজন পরীক্ষাপূর্বক বাছাই পদ্ধতিতে মুক্তায়ন করাহয়েছে। গাছের গড় উচ্চতা ৪০ সে.মি. এবং বিস্তার ৪৫-৫০ সে.মি.। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে গাছে ফুল আসতে শুরু করে এবং ডিসে¤¦ও শেষ ভাগ থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ফল আহরণ করা যায়। গাছ প্রতি গড়ে ৩৯ টি ফল ধরে। গাছ প্রতি গড় ফলন ৭৭০ গ্রাম। হেক্টর প্রতি ফলন ১৫-২০ টন। হৃৎপিন্ডাকৃতির ফল বেশ বড় আকারের লম্বাটে , প্রান্ত ভাগ চোখা। পাকা ফল আকর্ষণীয় টকটকে লাল বর্ণের। ফলের ত্বক তুলনামুলক শক্ত ও ঈষৎ খসখসে। ফলের শতভাগ ভক্ষণযোগ্য। স্ট্রবেরীর বৈশিষ্ট্যপূর্ণ সুগন্ধযুক্ত ফলের স¦াদ টক-মিষ্টি (টিএসএস-১০.৫ %)। ভিটামিন সি-এর পরিমান ৭২ মি.গ্রা./১০০ গ্রাম। জাতদুটি ফল প্রদান মৌসুমে শিমিত সংখ্যক ৎঁহহবৎ উৎপাদন করে বিধায় ৎঁহহবৎ অপসারণজনিত শ্রমিক কম লাগে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বারি ড্রাগন ফল-১ নিয়মিত ফলদানকারী উচ্চ ফলনশীল জাত। বারি উদ্ভাবিত ড্রাগনফলের জাতটি সুস্বাদু এবং এ থেকে প্রচুরসংখ্যক ফল আহরণ করা যায়। ফলের আকার বড় (৩৭৫.১১ গ্রাম), পাকা ফলের খোসা লাল। শাঁস গাঢ় গোলাপী রঙের, রসালো এবং টিএসএস ১৩.২২%। খাদ্যোপযোগী অংশ ৮১%। বীজ সমুহ খুব ছোট কালো ও নরম। ফলে বেটা কেরোটিন ১২.০৬ মিলিমাইμো গ্রাম/১০০ গ্রাম এবং ভিটামিন সি ৪১.২৭ মি. গ্রাম/১০০ গ্রাম থাকে। তিন থেকে পাঁচ বছর বয়সী গাছপ্রতি ফলের সংখ্যা ৯ থেকে ১৫ টি এবং ফলন ৩.২২ কেজি/গাছ/বছর এবং ২০.৬ টন/হেক্টর/বছর। 

We will be happy to hear your thoughts

Leave a Reply

শখের কৃষি
Logo
Reset Password
Shopping cart