তুলা, জাতের নাম: সিবি-১২, ১৪

ফসলের নাম    : তুলা
জাতের নাম     : সিবি-১২

বৈশিষ্ট্য :
বর্তমানে তুলা উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক নতুন উদ্ভাবিত সিবি-১২ জাতটি একটি উচ্চ ফলনশীল তুলার জাত। এ জাতটি সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে চাষ করে সারে ৫ মাস হতে ৬ মাসের মধ্যে বিঘা (৩৩ শতক) প্রতি ১০-১৩ মন ফলন পাওয়া সম্ভব।
১। আগাম ফলন পাওয়া যায়।
২। জীবনকাল ১৭০-১৮০ দিন।
৩। গাছ প্রতি গড়ে ৪০ টি বোল ধরে।
৪। গাছের উচ্চতা ১৩০-১৪৫ সে. মি.
৫। এ জাতে মাজরা পোকার আক্রমণ খুবই কম।
৬। গাছের ডাল শক্ত এবং পাতার সংখ্যা কম থাকায় গাছের ভিতর আলো বাতাস প্রবশে করতে পারে।
উপযোগী এলাকা  : দেশের সর্বত্র চাষ উপযোগী
বপনের সময়  : ১৫ জুন – ১৫ ই আগস্ট (১ আষাঢ়- ৩০শে শ্রাবন)
মাড়াইয়ের সময়:  ফেব্রুয়ারী – মার্চ

 রোগবালাই ও দমন ব্যবস্থা

 রোগবালাই: ১। তুলার ফুল, কৃড়ি ও বোল ঝরা
 দমন ব্যবস্থা: মটিিতে রসের অভাব হলে সেচ ও অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের মাধ্যমে কাংখিত মাত্রায় জমিতে রস সংরক্ষণের মাধ্যমে, গাছের অতিরিক্ত বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রনের জন্য বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রক প্রয়োগ করে, জৈব সারসহ সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ করে, ফলিয়ার স্প্রের মাধ্যমে পটাশ ও রোবন সার প্রয়োগ করে, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার পর গাছের গোড়ায় সার প্রয়োগের পর ভালভাবে গোড়া বেধে দিয়ে এবং হরমোন স্প্রে করা হলে পুনরায় নতুন ফূল কুড়ির সাজ এসে ফলন বৃদ্ধির সহায়ক হবে।

 পোকামাকড় ও দমন ব্যবস্থা

 পোকামাকড়: বোল ওর্য়াম, মাজরা, আঁচপোকা, জাব, জ্যাসিড, সাদামাছি,
 দমন ব্যবস্থা: 
* গাছের বোল ওর্য়াম থেকে রক্ষার জন্য চুড়ান্ত চারা পাতলাকরণ এরা সাথে সাথেই ২০-২৫ দিন বয়সে সাইপারমেথ্রিন কীটনাশক ১বার এবং সাত দিন পর আরেক বার মাত্রানুযায়ী (১০লিটার পানিতে ২০-২৫ মি: লি: কীটনাশক মিশ্রিত করে) স্প্রে করতে হবে।
* বোলওর্য়াম ও আঁচা পোকার মত চর্বনকারী পোকার জন্য স্প্রে করার পূর্বে অবশ্যাই হাত বাছাই করতে হবে।
* বোলওর্য়াম ও আঁচা পোকার আক্রান্ত অংশ (পাতা, কৃড়ি, ফুল ও বোল) পলিথিন প্যাকেটে সংগ্রহ করে ধ্বংস করতে হবে।
* আঁচাপোকা : পাতার নিচে দলবদ্ধ পোকার কীড়া পাতা ঝাঝরা করে ফেলে, তাই কলোনীবদ্ধ থাকা অবস্থায় সংগ্রহ করে ধ্বংস করতে হবে।
* যান্ত্রিক ব্যবস্থা : ডাল পোঁতে পাখি বসার ব্যবস্থা করে এবং কারটাফ মিশ্রিত চিটা গুড়ের ফাঁদ ১৫০ সে: মি: উপরে স্থাপন করে (প্রতি বিঘায় ৭-৮ টি) মথ (পদ্দা) নিয়ন্ত্রন করতে হবে।
* উপকারী ও ক্ষতিকর পোকা-মাকড়ের উপস্থিতি/আক্রমণ বিবেবচা করে তা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
* উপকারী পোকা-মাকড় সংরক্ষণ : অযথা কীটনাশক স্প্র পরিহার করে তুলার উপকারী পোকা-মাকড় যেমন- এসাসিনবাগ, লেডিবিটল, মাকড়শা, ড্রাগন ফ্লাই, ড্যামসেল ফ্লাই, ইয়ার উইগ, পরজীবী বৌলতা ইত্যাদি রক্ষার দিকে নজর দিতে হবে।
* জাব, জ্যাসিড, সাদামাছির জন্য কীটনাশক :থায়োমেথাকসন (একতারা/স্পাইক/রেনোভা ইত্যাদি প্রতি লিটার পানিতে ০.৩ গ্রাম (টিডো/হটশর্ট/ ইমিটাপ/বিডার/ইমপেল/কনফিডর/কারেন্ট ইত্যাদি) অতিরিক্ত জ্যাসিডের আক্রমণ দেখা দিলে প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ মি:লি: হটশর্টের সাথে কারটাপ (সানটাপ) কীটনাশক ১.২ গ্রাম মিশ্রিত করে স্প্রে করলে ভাল ফলন পাওয়া যায়।
* মাজরা, আঁচপোকা, আমেরিকান বোলওর্য়াম এর জন্য এমামেকটিন বেনজয়েট (প্রোকলেম/ওয়ান্ডার/ ম্যাজিক/ প্রোটেক্ট/পাইন ইত্যাদি কীটনাশকের যে কোন একটি প্রতি লিটার পানিতে ১ গ্রাম হারে মিশিয়ে) স্প্রে করতে হবে। কোন কীটনাশকই বার বার স্প্রে করা ঠিক নহে। প্রতিবার নতুন কীটনাশক স্প্রে করা উত্তম, আক্রমন বেশী হলে উপরের তরল কীটনাশকের সাথে কারটাপ গ্রুপের কীটনাশক লিটার প্রতি ১.২ গ্রাম মিশ্রিত করে স্প্রে করতে হবে।
* জ্যাসডি ও বোলওয়ার্ম একই কসাথে আক্রমণ করে ক্ষতি করলে ভলিয়ম ফ্ল্যাক্সি অথবা সমমানের কীটনাশক প্রতি লিটার পানিতে ০.৫০ মি:লি: মিশ্রিত করে স্প্রে করতে হবে।

 সার ব্যবস্থাপনা

সারের নাম (কেজি/৩৩ শতক) মোট পরিমাণ জমি তৈরির সময় প্রয়োগ বপনের ২০-২৫ দিন পর বপনের ৪০-৪৫ দিন পর বপনের ৬০-৭০ দিন পর বপনের ৭০-৮০ দিন পর
ইউরিয়া ২৫-৩০ ৫-৬ ৭.৫-৯ ৭.৫-৯ ৫-৬
টিএসপি/ডিএপি ২৫-৩০ ১০-১২(টিএসপি) ৮-৯ (ডিএপি) ৭-৯ (ডিএপি)
এমওপি ৩০-৩৩ ৯-১০ ৯-১০ ৬-৭
জিপসাম ১৪-১৬ ৪.৫ ৪-৫
সলুবর বোরন ২.৫-৩ ১-১.৫ ০.৫০
জিংক সালফেট ২.৫-৩ ১-১.৫(টিএসপি) ০.৫০
ম্যাগনেষিয়াম সালফেট ২.৫-৩ ১-১.৫ ০.৫০
গোবর/কম্পোস্ট ৬০০-৮০০

বেলে মাটিতে অধিক ফলনের জন্য প্রতিটি সার বেশী সংখ্যক কিস্তিতে প্রয়োগের উপর গুরুত্বরোপ করতে হবে।

সূত্র: লিফলেট এবং বুুকলেট

প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন।

 

জাতের নাম     : সিবি-১৪

বৈশিষ্ট্য :
তুলা উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক গবেষণার মাধ্যমে উদ্ভাবিত ১৪টি আমেরিকান তুুলার জাতের মধ্যে সিবি-১৪ অন্যমত। এ জাতটি ২০১৩ সালে অবমুক্ত করা হয়।
জাতের বৈশিষ্ট্য :
১। বীজ বপনের ৪৮-৫৫ দিনের মধ্যে গাছে ফুল ফোটে,১১৫-১২০ দিনের মধ্যে বোল ফাটে এবং এর জীবনকাল ১৭৫-১৮৫
২। প্রতি গাছে বোল সংখ্যা ৩৫-৪৫ এবং বোলের ওজন ৫.৫-৬ গ্রাম।
৪। গাছে জোড়া ও গুচ্ছবল পরিলক্ষিত হয়।
৫। এটি রোগ প্রতিরোধী এবং পাতা পুরুত্বের কারণে জ্যাসিড ও এফিডের আক্রমণ তুলনামূলক কম।
৬। হেক্টর প্রতি ৪-৫ টন ফলন পাওয়া যায়।

 রোগবালাই ও দমন ব্যবস্থা

 রোগবালাই: ১। তুলার ফুল, কৃড়ি ও বোল ঝরা
 দমন ব্যবস্থা: মটিিতে রসের অভাব হলে সেচ ও অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের মাধ্যমে কাংখিত মাত্রায় জমিতে রস সংরক্ষণের মাধ্যমে, গাছের অতিরিক্ত বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রনের জন্য বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রক প্রয়োগ করে, জৈব সারসহ সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ করে, ফলিয়ার স্প্রের মাধ্যমে পটাশ ও রোবন সার প্রয়োগ করে, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার পর গাছের গোড়ায় সার প্রয়োগের পর ভালভাবে গোড়া বেধে দিয়ে এবং হরমোন স্প্রে করা হলে পুনরায় নতুন ফূল কুড়ির সাজ এসে ফলন বৃদ্ধির সহায়ক হবে।

 পোকামাকড় ও দমন ব্যবস্থা

 পোকামাকড়: বোল ওর্য়াম, মাজরা, আঁচপোকা, জাব, জ্যাসিড, সাদামাছি,
 দমন ব্যবস্থা: 
* গাছের বোল ওর্য়াম থেকে রক্ষার জন্য চুড়ান্ত চারা পাতলাকরণ এরা সাথে সাথেই ২০-২৫ দিন বয়সে সাইপারমেথ্রিন কীটনাশক ১বার এবং সাত দিন পর আরেক বার মাত্রানুযায়ী (১০লিটার পানিতে ২০-২৫ মি: লি: কীটনাশক মিশ্রিত করে) স্প্রে করতে হবে।
* বোলওর্য়াম ও আঁচা পোকার মত চর্বনকারী পোকার জন্য স্প্রে করার পূর্বে অবশ্যাই হাত বাছাই করতে হবে।
* বোলওর্য়াম ও আঁচা পোকার আক্রান্ত অংশ (পাতা, কৃড়ি, ফুল ও বোল) পলিথিন প্যাকেটে সংগ্রহ করে ধ্বংস করতে হবে।
* আঁচাপোকা : পাতার নিচে দলবদ্ধ পোকার কীড়া পাতা ঝাঝরা করে ফেলে, তাই কলোনীবদ্ধ থাকা অবস্থায় সংগ্রহ করে ধ্বংস করতে হবে।
* যান্ত্রিক ব্যবস্থা : ডাল পোঁতে পাখি বসার ব্যবস্থা করে এবং কারটাফ মিশ্রিত চিটা গুড়ের ফাঁদ ১৫০ সে: মি: উপরে স্থাপন করে (প্রতি বিঘায় ৭-৮ টি) মথ (পদ্দা) নিয়ন্ত্রন করতে হবে।
* উপকারী ও ক্ষতিকর পোকা-মাকড়ের উপস্থিতি/আক্রমণ বিবেবচা করে তা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
* উপকারী পোকা-মাকড় সংরক্ষণ : অযথা কীটনাশক স্প্র পরিহার করে তুলার উপকারী পোকা-মাকড় যেমন- এসাসিনবাগ, লেডিবিটল, মাকড়শা, ড্রাগন ফ্লাই, ড্যামসেল ফ্লাই, ইয়ার উইগ, পরজীবী বৌলতা ইত্যাদি রক্ষার দিকে নজর দিতে হবে।
* জাব, জ্যাসিড, সাদামাছির জন্য কীটনাশক :থায়োমেথাকসন (একতারা/স্পাইক/রেনোভা ইত্যাদি প্রতি লিটার পানিতে ০.৩ গ্রাম (টিডো/হটশর্ট/ ইমিটাপ/বিডার/ইমপেল/কনফিডর/কারেন্ট ইত্যাদি) অতিরিক্ত জ্যাসিডের আক্রমণ দেখা দিলে প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ মি:লি: হটশর্টের সাথে কারটাপ (সানটাপ) কীটনাশক ১.২ গ্রাম মিশ্রিত করে স্প্রে করলে ভাল ফলন পাওয়া যায়।
* মাজরা, আঁচপোকা, আমেরিকান বোলওর্য়াম এর জন্য এমামেকটিন বেনজয়েট (প্রোকলেম/ওয়ান্ডার/ ম্যাজিক/ প্রোটেক্ট/পাইন ইত্যাদি কীটনাশকের যে কোন একটি প্রতি লিটার পানিতে ১ গ্রাম হারে মিশিয়ে) স্প্রে করতে হবে। কোন কীটনাশকই বার বার স্প্রে করা ঠিক নহে। প্রতিবার নতুন কীটনাশক স্প্রে করা উত্তম, আক্রমন বেশী হলে উপরের তরল কীটনাশকের সাথে কারটাপ গ্রুপের কীটনাশক লিটার প্রতি ১.২ গ্রাম মিশ্রিত করে স্প্রে করতে হবে।
* জ্যাসডি ও বোলওয়ার্ম একই কসাথে আক্রমণ করে ক্ষতি করলে ভলিয়ম ফ্ল্যাক্সি অথবা সমমানের কীটনাশক প্রতি লিটার পানিতে ০.৫০ মি:লি: মিশ্রিত করে স্প্রে করতে হবে।

 সার ব্যবস্থাপনা

সারের নাম (কেজি/৩৩ শতক) মোট পরিমাণ জমি তৈরির সময় প্রয়োগ বপনের ২০-২৫ দিন পর বপনের ৪০-৪৫ দিন পর বপনের ৬০-৭০ দিন পর বপনের ৭০-৮০ দিন পর
ইউরিয়া ২৫-৩০ ৫-৬ ৭.৫-৯ ৭.৫-৯ ৫-৬
টিএসপি/ডিএপি ২৫-৩০ ১০-১২(টিএসপি) ৮-৯ (ডিএপি) ৭-৯ (ডিএপি)
এমওপি ৩০-৩৩ ৯-১০ ৯-১০ ৬-৭
জিপসাম ১৪-১৬ ৪.৫ ৪-৫
সলুবর বোরন ২.৫-৩ ১-১.৫ ০.৫০
জিংক সালফেট ২.৫-৩ ১-১.৫(টিএসপি) ০.৫০
ম্যাগনেষিয়াম সালফেট ২.৫-৩ ১-১.৫ ০.৫০
গোবর/কম্পোস্ট ৬০০-৮০০

বেলে মাটিতে অধিক ফলনের জন্য প্রতিটি সার বেশী সংখ্যক কিস্তিতে প্রয়োগের উপর গুরুত্বরোপ করতে হবে।

সূত্র: লিফলেট এবং বুুকলেট

প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন।

Tags:

We will be happy to hear your thoughts

Leave a Reply

Logo
Reset Password
Compare items
  • Total (0)
Compare
0