জীবননগরের থাই বারোমাসী আম!

নিয়মিত গাছে পানি দেয়ার জন্য ব্যবহার করুন ড্রিপ ইরিগেশন
আমাদের সদস্যদের কৃষি পণ্য ক্রয় করুন অথবা আপনিও বিক্রয় করুন > ফ্রি

স্বাদে গন্ধে অপূর্ব জীবননগরের থাই বারোমাসী আম! এ আম সম্পের্ক জেনে আপনি বিস্মিত হবেনই!!
……কৃষিবিদ ড. মো. আখতারুজ্জামান।

জীবননগরের থাই বারোমাসী আম!

জীবননগরের থাই বারোমাসী আম!

অনেকটা আকস্মিকভাবেই আজকে চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার বাঁকা গ্রামের চাষী আবুল কাসেমের বারোমাসী আম বাগান পরিদর্শন করি। চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় অনুষ্ঠিত ভূট্টা বীজ চাষী ও বীজ ব্যবসায়ীদের সাথে মত বিনিময় শেষে যশোর অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অভিভাবক তথা এই অঞ্চলের কৃষির পুরাধা অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ চন্ডী দাস কুন্ডু স্যারের সাথে জীবনগরের বারোমাসী আম খেত পরিদর্শনের চমৎকার একটা সুযোগ পেয়ে যায়।

আমরা বারোমাসী আমের নাম কম বেশি সবাই শুনেছি; কিন্তু বারোমাসী আম বলতে যে দু’চারটে বারোমাসী আম জাতের সন্ধান আমাদের জানা আছে সেগুলোর কোনটারই গুণগত মান সন্তোষজনক নয়। সাধারণভাবে বারোমাসী আম আকারের ছোট ও টক হয়ে থাকে। ইতোপূর্বে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্রুট ট্রি ইম্প্রুভমেন্ট প্রকল্প হতে যে দু’একটি বারোমাসী আম জাতের প্রবর্তন করা হয়েছিল সেসব আমও সার্বিক গুণগত মানের বিচারে তেমন একটা জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারেনি।

আকস্মিকভাবে হালে এমন একটা বারোমাসী আমের প্রবর্তন ও সম্প্রসারণ করে চলেছেন চুয়াডাঙ্গার আম বাগানী ও নার্সারী মালিক আবুল কাসেম। আবুল কাসেমের বাগানের এই বারোমাসী আম স্বাদে গন্ধে অপূর্ব অতুলনীয়।
আজ ১৮ সেপ্টেম্বর(২০১৮) তারিখে আবুল কাসেমের আম বাগানে যেয়ে পাকা আমের রসনায় তৃপ্ত হয়ে নিজেরাই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না অসময়ে প্রাপ্ত বারোমাসী আমের স্বাদ দেখে। অতিরিক্ত পরিচালক স্যার দুপুরের কাঠফাঁটা রোদে আম বাগানের ছায়ায় দাঁড়িয়ে কৃষক আবুল কাসেমের একটা এক্সক্লুসিভ সাক্ষাতকার গ্রহণ করেন এবং গাছপাকা বারোমাসী আমের স্বাদ গ্রহণ করেন। স্যারের সাথে আমি সহ আরো উপস্থিত ছিলেন জীবননগরের উপজেলা কৃ্ষি অফিসার কৃষিবিদ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও গাংনীর উপজেলা কৃষি অফিসার কে এম শাহাবুদ্দিন প্রমুখ।
আবুল কাসেমের দেয়া তথ্যানুসারে তার প্রবর্তিত এই বারোমাসী আমের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো:

★বছরে তিনবার ধরে এবং প্রতি গাছে আমের সংখ্যাও যথেষ্ট বেশি;
★প্রতিটি মৌসুমেরই প্রতিটি আমের ওজন ২০০-৩০০ গ্রামের মত।
★লম্বাটে জাতের এই আম পাকলে হলুদাভ সুষম রং হয়। পাকা আম দেখলে মনে হবে কেমিক্যালে পাকানো আম;
★আমে কোন আঁশ নেই;
★রোগবালাই নেই বললেই চলে। আম বাগানেও কোন রোগ বালাইয়ের দেখা মেলেনি;
★প্রতিটি মৌসুমের আমের স্বাদই অপূর্ব;
★আমের বর্তমান পাইকারী বাজার মূল্য ২০০-২৫০ টাকা কেজি
★স্বাভাবিক রুমের তাপমাত্রায় এই আম ২০-২৫ দিন পর্যন্ত অনায়াসে সংরক্ষণ করা যায়।

থাই এই বারোমাসী আম কিভাবে চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে সম্প্রসারিত হলো সেটা নিয়ে আছে আরেক মজাদার কাহিনী।

এই আমের প্রবর্তক জীবননগরের সার ব্যবসায়ী নুর ইসলাম, যিনি আবুল কাসেমের খুব বন্ধু মানুষ। বেড়ানোর কাজে নুর ইসলাম ২০১০ সালে থাইল্যান্ড ভ্রমনের প্রক্কালে লুকিয়ে এমন একটা আম চারা সংগ্রহ করে এনে আবুল কাসেমের কাছে হস্তান্তর করেন। আবুল কাসেমের অনুরোধেই নুর ইসলাম এই চারাটি থাইল্যাণ্ড থেকে সংগ্রহ করে অানেন। এমন আমের খবর লোক মারফত আগেই জেনেছিলেন আবুল কাসেম। একটিমাত্র আম চারাকে আবুল কাশেম গোপনে পরম যত্ন ও মমতায় বড় করত: এটার গুণগত মান যাচাই করতে থাকেন। পরে এটার সার্বিক মান নিশ্চিত হওয়ার পরে সেটা সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। শুরুতে তিনি এই আমের ব্যাপারে কঠোর গোপনীয়তা অবলম্বন করেন এজন্যে যেন কেউ এটার পেটেন্ট চুরি করতে না পারে। একটা লাভজনক অবস্থায় আসার পরে আবুল কাসেম এটার গুণপনা জনগনের জন্যে অবমুক্ত করেন। বর্তমানে আবুল কাসেমের ২০ বিঘা জমিতে এখন বারোমাসী জাতের এই আম রয়েছে। তার আম বাগানে কাঁচাপাকা আম ও মুকুলের সমারোহ এবং আমভাঙ্গার মহড়া দেখে মনে হচ্ছিল এটা যেন আমের ভরা মৌসুম। জীবননগর থেকে কালিগঞ্জের দিকে ২ কিমি অগ্রসর হলে রাস্তার ডান পাশে বিজিবি ক্যাম্পের পূর্বপাশে তেতুলিয়া নামক স্থানে “নাজমূল নার্সারী” নামে আবুল কাসেমের একটা বড় নার্সারীতে এখনো ২ লাখ উন্নতমানের থাই বারোমাসী আমের চারা মজুদ রয়েছে, বলে জানান আবুল কাসেম।

নার্সারী স্থলে দাঁড়িয়ে অতিরিক্ত পরিচালক চন্ডী স্যার এই জাত সম্প্রসারণের জন্যে মুঠোফোনে কথা বললেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হর্টিকালচার ইউং ও সরেজমিন ইউং এর পরিচালক মহোদয়দের সাথে।
অতিরিক্ত পরিচালক স্যার বারোমাসী এই জাত দ্রুত সম্প্রসারণের ব্যাপারে আবুল কাসেমকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন।

নার্সারী মালিক আবুল কাসেম জানালেন স্থানীয় উপ সহকারি কৃষি অফিসার শাহ আলম এবং জীবননগরের উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্ নিয়মিত বাগানের পরিচর্যার ব্যাপারে কারিগরী পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

আপনারা কেউ যদি বারোমাসী এই থাই আম সম্পর্কে জানতে চান বা এই আমের চারা সংগ্রহ করতে চান তাহলে নিচের ফোন নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন:
*আবুল কাসেম: ০১৭১৬-৩৩১৯৫৫
*নাজমুল (আবুল কাসেমের বড় ছেলে): ০১৯৩১-২৪৯৭৩৭
*তাজুল (আবুল কাসেমের মেঝ ছেলে): ০১৯৩০-৭৩৪০৪১

প্রতিটি আম কলমের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫০-২০০ টাকা; তবে পাইকারী ভিত্তিতে সংগ্রহ করতে চাইলে সেখানে কিছু মূল্য ছাড় পাওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্ট নার্সারী কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে।
========================
লেখক: উপপরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, মেহেরপুর।

আমাদের ওয়েবসাইটের সদস্য হলে আপনি আপনার কৃষিকে সকলের কাছে পৌছে দিতে পারবেন এবং আপনার বাড়ির পাশের কৃষি প্রতিবেশি ও কৃষি পণ্য খুজে পাবেন সহজেই। আমরা চাই আমদের কৃষি আধুনিক বিশ্বের সাথে এগিয়ে যাক। আনলাইনে শখের কৃষকদের একটি শক্তিশালী ক্লাব তৈরী হোক। তাই একে আপরকে সহযগিতা করতে হলে এখনই আমাদের সাথে যোগ দিন। এছাড়া আমার লেখটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন।

Tags:

Show full profile

শখের কৃষক

আমি পড়ালেখা বা পেশায় একজন কৃষিবিদ তবে জানার বা পারার দিক থেকে তেমন কিছুই ভাল পারিনা। কৃষির সাথে থাকতে থাকতে কৃষিকে ভালবেসে ফেলেছি। এর সাথে আইটি বিষয়ে আগ্রহ থাকায় বাংলার কৃষিকে ইন্টারনেট জগতে আরো শক্তিশালী করতে চাই।সকলের জন্য অনলাইনে ব্যবসার সুযোগ করে দিতে চাই। তাই শখের কৃষি সাইট নিয়ে কাজ করছি। আপনিও আমার সাথে থাকুন। সরকারি দায়িত্বের পাশাপাশি ব্যক্তিগত আগ্রহের তাগিদে কৃষিতে আগামী প্রজন্মের উদীয়মান কৃষকদের একত্রিত করার একটি প্রচেষ্টার নাম আমার এই শখের কৃষি। এখানে ডিজিটাল কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে একজন কৃষক খুব সহজে আরেকজন প্রতিবেশী কৃষক কে একটি ক্লিকেই খুঁজে পাবেন। খুঁজে পাওয়ার সাথে সাথে তার সাথে যোগাযোগ, বন্ধুত্ব, তথ্য আদান প্রদান সহ তার পেশাগত সেবার প্রচার ও প্রসার করতে পারবেন। এখানে ব্যবহার করা হয়েছে জিও লোকেশন নির্ভর এমন একটি প্রযুক্তি যার মাধ্যমে একজন সাধারণ মানুষ জানতে পারবেন তার সবচেয়ে কাছাকাছি কোন লোকটি কৃষি কাজ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। সেই সাথে বিভিন্ন কৃষি পণ্য খুঁজে পাবেন যা তার অবস্থান থেকে সবথেকে কাছের। এছাড়াও রয়েছে বিশাল এক তথ্য ভান্ডার যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ কৃষি কাজে আগ্রহী হয়ে ওঠার পাশাপাশি কৃষি বিষয়ক বিভিন্ন সমস্যার সমাধান নিজেই করতে পারবেন। শখের কৃষির এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে একজন শিক্ষিত যুবক খুব সহজে অনলাইন কৃষি ব্যবসায় তার উজ্জ্বল ক্যারিয়ার গড়তে পারেন। উন্নত বিশ্বে এই প্রযুক্তি খুব নতুন হলেও সফল ভাবে কাজ করছে যা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কৃষকদের জন্য একটি বিশাল সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেয়। এখানে প্রযুক্তিকে এতই সহজ ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যে একজন স্বল্প শিক্ষিত কৃষক তার কৃষি ব্যবসা কে সারাদেশে অথবা সারা পৃথিবীর মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারবেন। এর জন্য একদিনের একটি ছোট্ট প্রশিক্ষণই যথেষ্ট। প্রশিক্ষণটি ঘরে বসে অনলাইনের মাধ্যমে গ্রহণ করা সম্ভব। আমরা খুব শীঘ্রই অনলাইন ভিত্তিক এই প্রশিক্ষণটি সকলের জন্য বিনামূল্যে পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করছি। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় একজন বড় প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী যেমনি তার ব্যবসাকে অনলাইনের মাধ্যমে সারাদেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন ঠিক তেমনি একজন শখের কৃষক ঘরে বসে তার উৎপাদিত নিরাপদ স্বাস্থ্যসম্মত কৃষিপণ্যটি সারাদেশের মানুষের কাছে উপস্থাপনের পাশাপাশি বিক্রয় করে আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারেন। এক্ষেত্রে শখের কৃষির কৃষি প্রতিবেশী প্রযুক্তির মাধ্যমে আরেক প্রতিবেশীর কাছে তার এই সেবাটি মুহূর্তেই পৌঁছে দিতে পারবেন। https://shokherkrishi.com/category/কৃষিতে-ই-কমার্স

1 Comment
  1. আপনার ধারনাটা মারাত্মক এখন দেখা যাক এটার পোরোয়োগটা কেমন হয়?

    Leave a Reply

    Logo
    Register New Account
    নাম (required)
    Clear
    শখের বিষয়
    Reset Password
    Compare items
    • Total (0)
    Compare
    0