চিভ

বারি চিভ-১

বৈশিষ্ট্য : এ জাতের গাছের উচ্চতা ৩০-৪০ সেন্টিমিটার। পাতার দৈর্ঘ্য ২৩-৩০ সেন্টিমিটার। বাল্ব লম্বাকৃতির, বাল্বের দৈর্ঘ্য ১.০-১.৪৫ সেন্টিমিটার। চারা লাগানো থেকে ফসল উত্তোলন পর্যন্ত ৬৫-৭০ দিন সময় লাগে। ইহা পোকামাকড় ও রোগ সহনশীল।
উপযোগী এলাকা  : তুলনামুলকভাবে সিলেট অঞ্চলে ইহার চাষাবাদ বেশী হয়ে থাকে। তাছাড়া পেঁয়াজ উৎপাদনকারী এলাকা যেমনঃ পাবনা, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, রাজশাহী (দূর্গাপুর, তাহেরপুর) মাগুরা, বগুড়া, লালমনিরহাট ইত্যাদি অঞ্চলে ব্যাপকভাবে চাষে সম্ভবনা রয়েছে।
বপনের সময়  : বাংলাদেশে সারা বৎসর চিভ চাষ করা সম্ভব। তবে চিভ লাগানোর উপযোগী সময় এপ্রিল-মে মাস পর্যন্ত।
মাড়াইয়ের সময়:  চারা লাগানের ৬৫- ৭০ দিন পর থেকে ফসল সংগ্রহ করা যায়। এভাবে বছরে ৫-৬ বার ফসল সংগ্রহ করা যায়।
বীজ/চারার হার: প্রতি হেক্টরে ২০০০০০ থেকে ৩০০০০০ চারা/ক্লাম্প ডিভিশন প্রয়োজন হয়।
বপন/ রোপনের দূরত্ব: সারি থেকে সারির দুরত্ব ২০-২৫ সি.মি এবং গাছ থেকে গাছের দুরত্ব ১৫-২০ সেন্টিমিটার।
ফলন: গাছ ও পাতাসহ প্রতি হেক্টরে ফলন ১২-১৫ টন।


বারি চিভ-১

 রোগবালাই ও দমন ব্যবস্থা

 রোগবালাই: চিভ এ রোগবালাই তুলনা মুলকভাবে কম হয়। তবে জমিতে আদ্রতা বেশি থাকলে স্ক্লেরোসিয়া জাতীয় ছত্রাকের আক্রমন হয়।এছাড়া পার্পল লিফ ব্লচ নামক রোগের আক্রমন হতে পারে।
 দমন ব্যবস্থা: 
১. সুস্থ, নীরোগ বীজ ও চারা ব্যবহার করতে হবে।
২. আক্রান্ত গাছ পুড়িয়ে ফেলতে হবে।
৩. রোভরাল বা ভিটাভেক্স-২০০ নামক ছত্রাক নাশক কেজি প্রতি ২.৫ গ্রাম হারে মিশিয়ে বীজ শোধন করে বপন করতে হবে।
৪. রোগ দেখা দিলে প্রতিলিটার পানিতে ২ গ্রাম রোভরাল ও ২ গ্রাম রিডোমিল গোল্ড মিশিয়ে ১০ – ১২ দিন পর পর ৩-৪ বার গাছে স্প্রে করতে হবে।
৫. এছাড়া প্রতিলিটারর পানিতে ১মিলিলিটার এমিস্টারটপ মিশিয়ে ৭-১০ দিন পর পর গাছে স্প্রে করলে রোগরে প্রোকপ কমে যায়।

 পোকামাকড় ও দমন ব্যবস্থা

 পোকামাকড়: চিভ এ পোকা মাকডের আক্রমন খুব কম হয়। তবে মাঝে মধ্যে থ্রিপস এর আক্রমন লক্ষ্য করা যায়।
 দমন ব্যবস্থা: 
১. সাবান মিশ্রিত পানি ৪ গ্রাম পার লিটার হাবে প্রযোগ করতে হবে।
২. ক্যারাটে / এডমেয়ার/ গ্রেইন প্রতি লিটার পানিতে ১ মিলিলিটার হারে মিশিয়ে স্প্রে করে সহজেই এই পোকা দমন করা যায়।

 সার ব্যবস্থাপনা

ফলন বেশি পেতে হলে সঠিক সময়ে সঠিক পরিমাণে জমিতে জৈব ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ করতে হবে। চিভ চাষের জন্য হেক্টর প্রতি নিম্নে উল্লেখিত পরিমানে জৈব ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ করা প্রয়োজন।

সারের নাম মোট পরিমাণ (কেজি) শেষ চাষের সময় প্রয়োগ (কেজি) পরবর্তী পরিচর্যা হিসেবে প্রয়োগ
১ম কিস্তি ২য় কিস্তি
পঁচা গোবর ৫টন সব
ইউরিয়া ১৪০কেজি ৭০কেজি ৩৫কেজি ৩৫কেজি
টিএসপি ২০০কেজি সব
এমওপি ৯০কেজি ৪৫ কেজি ২২.৫কেজি ২২.৫কেজি
জিপসাম ৫০কেজি সব

শেষ চাষের সময় সর্ম্পূন্ন গোবর, টিএসপি, জিপসাম, এবং অর্ধেক ইউরিয়া ও এমওপি সার জমিতে ছিটিয়ে মাটির সাথে ভালভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। বাকী ইউরিয়া ও এমওপি সার সমান ভাগে ভাগ করে যথাক্রমে চারা রোপনের ২৫ এবং ৫০ দিন পর দুই কিস্তিতে প্রযোগ করতে হবে। প্রতিবার সার প্রয়োগের পূর্বে জমি আগাছামুক্ত করতে হবে।

প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন।

Tags:

We will be happy to hear your thoughts

Leave a Reply

Logo
Reset Password
Compare items
  • Total (0)
Compare
0