কাউন, কাউনের জাত ও উৎপাদন প্রযুক্তি

বাংলাদেশে দীর্ঘ দিন ধরে চাষাবাদ হয়ে আসছে। ছোট দানা বিশিষ্ট শস্যটি এ দেশে গরীবের খাদ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। বাংলাদেশের সাধারণত চরাঞ্চলে অথবা কম ঊর্বর জমিতে স্বল্প চাষে কাউনের চাষ করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশে প্রায় ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে কাউন চাষ করা হয় এবং এর মোট উৎপাদন প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার মে. টন।

কাউন

কাউনের জাত

তিতাস

কাউনের এ জাতটি শিবনগর নামে ১৯৮০ সালে কুমিল্লা জেলা থেকে সংগ্রহ করা হয় এবং দেশি-বিদেশি জাতের সাথে তুলনামূলক মূল্যায়নের পর ১৯৮৯ সালে তিতাস নামে অনুমোদন করা হয়। তিতাস জাত উচ্চ ফলনশীল, আগাম রোগ ও পোকা প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন। তিতাস জাতের গাছ মাঝারী লম্বা, পাতা সবুজ, কান্ড  শক্ত। গাছ সহজে নুয়ে পড়ে না। শীষ বেশ লম্বা, মোটা এবং রোমশ।

কাউন

বীজ মাঝারী আকারের এবং ঘিয়ে রঙের । হাজার বীজের ওজন ২.৩-২.৫ গ্রাম। স্থানীয় জাতের চেয়ে ফলন প্রায়

৩০-৩৫% বেশি। জাতটি রবি মৌসুমে ১০৫-১১৫ দিনে এবং খরিফ মৌসুমে ৮৫-৯৫ দিনে পাকে। তিতাস জাতটি গোড়া পচা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন । রবি মৌসুমে তিতাসের ফলন হেক্টরপ্রতি ২.০-২.৫ টন।

খরিফ মৌসুমে এর ফলন একটু কম হয়।

বারি কাউন-২

এ জাতটি কুমিল্লা জেলার পরাকান্দি থেকে সংগ্রহ করা হয়। এ জাতটি দেশি- বিদেশি জাতের সাথে তুলনামূলক মূল্যায়নের ভিত্তিতে ২০০১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক বারি কাউন-২ নামে অনুমোদিত হয়। গাছের উচ্চতা ১২০ সেমি। কা- শক্ত ও মজবুত হওয়ায় গাছ সহজে হেলে পড়ে না। পাতা সবুজ, চওড়া এবং লম্বা। শীষ ২০-২৫ সেমি লিমি. লম্বা এবং ছোট শুয়োযুক্ত হয়। বীজ গোলাকার এবং ঘিয়ে রঙের। হাজার বীজের ওজন ২.৫৫ গ্রাম। এ জাতটির ফলন হেক্টরপ্রতি ২.৫-৩.০ টন। তিতাস জাতের চেয়ে গড় ফলন প্রায় ২০% বেশি। এ জাতটির জীবন কাল ১২০-১২৫ দিন। এ জাতটিতে রোগ-বালাই বা পোকা-মাকড়ের আক্রমণ তেমন দেখা যায় না।

কাউন

বারি কাউন-৩

কাউনের এ জাতটি মিউটেশন ব্রিডিং পদ্ধতিতে উদ্ভাবিত দেশি-বিদেশি কাউনের জাতসমূহের সাথে এবং প্যারেন্ট-এর সাথে তুলনামূলক মূল্যায়নের ভিত্তিতে ২০০১ সালে জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক বারি কাউন-৩ নামে অনুমোদিত হয়। এই জাতটি খাটো অর্থাৎ গড়ে ৪৫ সেমি লম্বা হয়। গাছ খর্বাকৃতির হওয়ায় প্রবল বাতাসে নূয়ে পড়ে না। ফলে পাহাড়ের ঢালে চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী। এই জাতটির শীষ মাঝারী (গড়ে ১৭ সেমি) এবং ছোট শুয়াযুক্ত হয়। বীজ আকারে বড়, গোলাকার এবং ঘিয়ে রঙের। হাজার বীজের ওজন ২.৩৬ গ্রাম। স্থানীয় জাতের চেয়ে ফলন প্রায়

৩৫ ভাগ বেশি। রবি মৌসুমে এ জাতটির ফলন হেক্টরপ্রতি ২.৫-২.৮৫ টন। জীবন কাল ১২০-১২৫ দিন। পাতার অগ্রভাগ সূঁচালো হওয়ায় পাখির আক্রমণজনিত ক্ষতি অনেক কম হয়। এ জাতটিতে রোগবালাই বা পোকামাকড়ের আμমণ তেমন একটা দেখা যায় না।

কাউন

কাউনের উৎপাদন প্রযুক্তি

মাটি: প্রায় সব ধরনের মাটিতেই কাউনের চাষ করা যায়। তবে পানি দাঁড়ায় না এমন বেল দোআঁশ মাটিতে এর ফলন

ভালো হয়।

বপনের সময়: দেশের উত্তরাঞ্চলে অগ্রহায়ণ থেকে মাঘ মাস (মধ্য-নভেম্বর থেকে মধ্য- ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বীজ বোনা যায়। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে সাধারণত অগ্রহায়ণ মাসে বীজ বোনা হয়।

বীজের হার: কাউনের বীজ ছিটিয়ে ও সারিতে বোনা যায়। ছিটিয়ে বুনলে হেক্টরপ্রতি ১০ কেজি এবং সারিতে বুনলে ৮ কেজি বীজের প্রয়োজন হয়। বীজ সারিতে বুনলে সারি থেকে সারির দূরত্ব ২৫-৩০ সেমি রাখতে হবে। চারা গজানোর পর ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে সারিতে চারার দূরত্ব ৬-৮ সেমি রেখে বাকি চারা তুলে ফেলতে হবে।

সারের পরিমাণ: কাউন চাষে সচারাচর রাসায়নিক সার প্রয়োগ করা হয় না। তবে অনুর্বর জমিতে হেক্টরপ্রতি নিন্মরূপ

কাউন

সার প্রয়োগ করলে ফলন বেশি হয়। সেচবিহীন চাষে সবটুকু সার শেষ চাষের সময় প্রয়োগ করতে হবে।

সেচের ব্যবস্থা থাকলে শেষ চাষের সময় অর্ধেক ইউরিয়া এবং সবটুকু টিএসপি ও এমপি সার প্রয়োগ করতে হবে। বাকি অর্ধেক ইউরিয়া বীজ বপনের ৩৫-৪০ দিন পর উপরি প্রয়োগ করতে হবে।

পানি সেচ: কাউন একটি খরা সহিষ্ণু ফসল। তবে রবি মৌসুমে খরা

দেখা দিলে ১-২টি হালকা সেচের ব্যবস্থা করলে ফলন ভাল হয়।।

ফসল সংগ্রহ: কাউনের শীষ খড়ের রং ধারণ করলে বীজ দাঁতে কাটার

সময় ‘কট’ করে শব্দ হলে বুঝতে হবে কাটার সময় হয়েছে।

সুত্রঃ কৃষি প্রযুক্তি হাতবই
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট


বার্লি ও বার্লির জাত

We will be happy to hear your thoughts

      Leave a Reply

      Logo
      Reset Password
      Compare items
      • Total (0)
      Compare
      0