একুয়াপনিক গ্রো মিডিয়াঃ হাইড্রটন, পাথর, সিনথেটিক, ঝামা ইট, লাভা পাথর ইত্যাদি। একুয়াপনিক পাঠ-৪

একুয়াপনিক গ্রো মিডিয়াঃ

একুয়াপনিক গ্রো বেডের প্রধান উপাদান গ্রো মিডিয়া। গাছের জন্য মাটির বিকল্প যে দ্রব্য ব্যবহার করা হয় তাই একুয়াপনিক এর গ্রো মিডিয়া। গ্রো মিডিয়া অনেক প্রকার হতে পারে তবে এদের কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য থাকা জরুরি। একুয়াপনিক গ্রো মিডিয়ায় সবজি উৎপাদন হবে তাই এ ক্ষেত্রে ব্যবহারিত কোন দ্রব্যে কোন প্রকার বিষাক্ততা থাকতে পারবে না। তাছাড়া এটি যেহেতু মাছের পানির সাথে সরাসরি জড়িত তাই পানিতে পোঁচে যায়, দ্রবভূত হয় বা পানির গুনাগুন পরিবর্তন করে এমন কোন দ্রব্য ব্যবহার করা যাবে না। বিশেষ করে পানির তাপমাত্রা ও পিএইস খুবই গুরুত্বপূর্ন। গ্রো মিডিয়ার প্রধান কাজ হচ্ছে গাছকে ধরে রাখা এবং এতেই গাছ লাগাতে হবে। গাছ যেন সহজে তার শিকড় ছাড়তে পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এসব কারনে গ্রো মিডিয়ার আকার ছোট ও হালকা হওয়া উচিৎ। তবে খুব বেশি ছোট হলে তা পানির সাথে চলে যেতে পারে বা মাছের বর্জ্যের সাথে দলা পাকিয়ে যেতে পারে। দলা তৈরী হলে তা একদিকে শিকড়ের স্বাভাবিক বেড়ে ওঠাকে বাঁধা দেয় অন্যদিকে বাতাস ও পানির প্রবাহে বাঁধা তৈরী করে। তাই গ্রো মিডিয়ার আকার পনের থেকে বিশ মিলি ডায়ামিটার এর হলে ভাল হয়। এর উপরিভাগ মসৃণ হলে তা নিয়ে কাজ করাও সহজ হয়। গাছের নরম শিকড়ের জন্যও ভাল।

একুয়াপনিক গ্রো মিডিয়ার একটি বড় কাজ হচ্ছে পানিকে পরিষ্কার ও পরিশোধিত করা। যা একটি ফিল্টার বা ছাকনির কাজ করে। এই ফিল্টার বা ছাকনি দুই প্রকার। একটি হল মেকানিক্যাল ফিল্টার আর অন্যটি হল বাইওলজিক্যাল ফিল্টার। মেকানিক্যাল ফিল্টারের কাজ হচ্ছে পানির সাথে আশা মাছের বৈজ্য বা অন্য কোন কঠিন পদার্থকে ছেকে আলাদা করে পানিকে পরিষ্কার করা। বড় বড় একুয়াপনিক সিস্টেমে মেকানিক্যাল ফিল্টারের জন্য আলাদাভাবে ফিল্টার তৈরী করা হয়। আর বায়োলজিক্যাল ফিল্টারে বায়ো অর্থ জীবন অর্থাৎ কোন জীবন্ত আনুজীবকে ব্যবহার করে পানি ফিল্টার করা। মাছের ব্যবহারিত খাদ্য, বৈজ্য বা মল-মূত্র যা অ্যামোনিয়া হিসাবে পানিতে জমা হয় তা মাছের জন্য খুবই ক্ষতিকর। অতি সামান্য মাত্রায়ও (লিটার প্রতি শূন্য দশমিক শূন্য চার মিলিগ্রাম) ক্ষতিকর। এই অ্যামোনিয়া যখন গ্রো মিডিয়ায় এসে জমে তখন এখানে এক প্রকার ক্ষুদে বন্ধু ব্যক্টেরিয়া বা  আনুজীব বাসা বাধে। এই ব্যক্টেরিয়াদের বলা হয় নাইট্রোসোমোনাস ব্যক্টেরিয়া। এদের কাজ হচ্ছে ঐসব ক্ষতিকর উপাদানকে পরিবর্তন করে গাছের জন্য সার তৈরি করা। অর্থাৎ নাইট্রোসোমোনাস ব্যক্টেরিয়া মাছের জন্য যা বিষ তাকে পরিবর্তন করে গাছের জন্য খাদ্য তৈরী করে। এসবকিছুই প্রকৃতির দান। আমরা শুধু এর সঠিক ব্যবহার করব। এ জন্য আমাদের কাজ হচ্ছে এই ক্ষুদে বন্ধু ব্যক্টেরিয়া বা  আনুজীব এর জন্য ঘর বাধার জায়গা করে দেয়া। এই ব্যক্টেরিয়াগুলো বাসা বাধে আমাদের গ্রো মিডিয়ায়। এ কারনে গ্রো মিডিয়ার উপরিভাগে প্রচুর জায়গা দরকার কিন্তু এত ছোট ছোট গ্রো মিডিয়ায় এত বড় জায়গা কই?  তাই আমাদের এমন কিছু ব্যবহার করতে হবে যা ছোট হলেও এর ভিতর অনেক জায়গা থাকে। আজকের বাজারে এমন মিডিয়া কিনতে পাওয়া যায় তবে আমরা চাইলে আমাদের আশপাশ থেকেও সংগ্রহ করতে পারি। যেমন ইট যখন বেশি পুড়ে যায় তখন একে আমরা ঝামা ইট বলি। এই ঝামা ইটের গায়ে অসংখ ছিদ্র থাকে যা ওজনে হালকা এবং গ্রো মিডিয়া হিসাবে ব্যবহার করলে ব্যক্টেরিয়ার ঘর বাধার পর্যাপ্ত জায়গা পাওয়া যায়। এধরনের আরো আনেক গ্রো মিডিয়া আছে যা নিয়ে আমরা আবার আলোচনা করব। এভাবে গ্রো মিডিয়া একই সাথে মেকানিক্যাল ফিল্টার ও বাইয়োলজিক্যাল ফিল্টার এর কাজ করে। তাইতো একুয়াপনিক শুরু করার কিছুদিনের মধ্যেই তৈরী হয়ে ওঠে একটি জীবন চক্র যা চলতে থাকে অনেকটাই নিজের মত করে।

একুয়াপনিক গ্রো মিডিয়া ঝামা ইট

একুয়াপনিক গ্রো মিডিয়া ঝামা ইট

 

বিভিন্ন্য প্রকার গ্রো মিডিয়াঃ

১। হাইড্রটন

২। পাথর

৩। সিনথেটিক

৪। ঝামা ইট

৫। লাভা পাথর

 

 

একুয়াপনিক  বিষয়ে আরো জানতে আমাদের সাথে সাইটে যোগ দিন। আপনার অভিজ্ঞতা সবার সাথে শেয়ার করুন।

We will be happy to hear your thoughts

Leave a Reply

Logo
Reset Password
Compare items
  • Total (0)
Compare
0