ই-ভিলেজ – আধুনিক চাষাবাদে কৃষকের ব্যবহার উপযোগী ডিজিটাল যন্ত্র

কৃষি এবং কৃষকেরা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অপরিহার্য অংশ। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং সকল খাতে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার সুফল বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে অভূতপূর্ণ উন্নয়নের রোল মডেলে রূপান্তর করেছে। আমাদের কৃষকেরা দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ হলেও এখনও গতানুগতিক ধারায় কৃষিকাজ করেন। তবে আমাদের কৃষকেরাও যেনো এই তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নের সুফলটা ভোগ করতে পারেন এবং সেটা তাদের জন্য সহজ ও সাবলীলভাবে উপস্থাপন করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে ই-ভিলেজ।

ই-ভিলেজ প্রযুক্তি

 

চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইসফস্টোন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং সেন্টার ফর রিসার্চ এর উদ্যোগে বাংলাদেশে এই প্রথমবারের মতো ই ভিলেজ নামে বাংলায় অডিও ভয়েসযুক্ত এই অ্যাপস চালু হয়েছে। কৃষি কাজে সঠিক সময় সঠিক তথ্য প্রদানের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব টেকশই কৃষির বিস্তার, এবং একই সাথে কৃষকের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধনের লক্ষ্যে ই-ভিলেজ প্রকল্পের মাধ্যমে উদ্ভাবন করা হয়েছে স্বল্প মুল্যের ই-ভিলেজ সেন্সর ডিভাইস। যা মোবাইল এ্যাপ ও সেন্সরের মাধ্যমে কাজ করে।

e villege ই-ভিলেজ ই ভিলেজ e-villege

e villege ই-ভিলেজ ই ভিলেজ e-villege

ভোরের আলো ফুটে উঠার আগেই শীত গ্রীষ্ম বর্ষা উপেক্ষা করে মাঠে যেয়ে আর জমি ফসলের অবস্থা জানতে হবে না কৃষকদের। ঘরে বসেই মোবাইল ফোনটি চালু করে জেনে নিতে পারবেন তাঁর জমি আর ফসলের সার্বিক অবস্থা। চাষ শুরুর পূর্বেই মাটির গুণাগুণ পরীক্ষা, ফসলের পোকামাকড় শনাক্ত করণে ই-ভিলেজ প্রকল্প সফল পরীক্ষা চালানো হয়েছে। প্রকল্প সহায়ক হিসেবে কার করছে গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও সেন্টার ফর রিসার্চ এন্ড ইনফরমেশন সিআরআই ও ইয়াং বাংলার সদস্যরা।

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে গবেষকদের নিরলস প্রচেষ্টায় উদ্ভাবিত এই প্রযুক্তি খুব শিগ্রই ছড়িয়ে যাবে সমগ্র বাংলাদেশে। প্রথম পর্বের সফলতার পর আগামী মাস থেকে সারা দেশের দশ হাজার কৃষককে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রশীদুল হাসান দীর্ঘদিন যাবত এ নিয়ে গবেষণা করেন এবং কৃষকদের জন্য একটি ডিজিটাল পন্থা আবিষ্কার করেন যার নাম দেন ই-ভিলেজ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিবিদ মিজানুর রহমান রাজিব এই টিমের অন্য একজন গুরুত্বপূর্ন সদস্য যিনি কৃষি ও কৃষকের বিষয়গুলিকে এমন সহজভাবে উপস্থাপন করেছেন যেন তা আইসিটি বা ডিজিটাল কম্পিউটারের সাথে মিলে যায় এবং কৃষকের ব্যবহার উপযোগী হয়। সকল সদস্যদের পরিচয় পাবেন ই-ভিলেজ এর ওয়েবসাইটে

প্রথমে গাজীপুরের পাজুলিয়া গ্রামে পাইলট প্রকল্পের আওতায় চালু হয় ই ভিলেজ প্রকল্প। স্মার্ট ফোনে ইভিলেজ অ্যাপ্লিকেশন ও একটি সেন্সর যন্ত্রের সাহায্যে মাটির গুণাগুণ পরীক্ষা করতে পারেন কৃষকেরা। এছাড়াও জমিতে সার ও বীজের পরিমাণও নির্ধারণ করা হয় এর মাধ্যমে। প্রকল্পের আওতায় চীন সরকার ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন সিআরআই ও ইয়াং বাংলার এর সহায়তায় জমি চাষের আগে-পরে ও ফসল কাটার আগ পর্যন্ত ফসল পরীক্ষার জন্য গ্রামের ১৫ টি পরিবারকে বিনামূল্যে একটি করে স্মার্ট ফোন ও এই বিশেষ যন্ত্রটি দেয়া হয়।

 

এরপর শুরু হয় মাঠেনামা। দেশব্যাপী শুরু হয়েছে ইভিলেজের জনসচেতনতামূলক কর্মশালা। আমাদের প্রথম কর্মশালা সম্পন্ন হয় সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার দক্ষিণ বড়কুপট গ্রামে। কর্মশালায় কৃষকদের ইভিলেজের আধুনিক যন্ত্রটির ব্যাবহার কৌশল, সুবিধা, প্রয়োজনীয়তা সহ বিস্তারিত আলোচনা হয়। তারপর যশোরের মনোহরপুরের এই কর্মশালাটিতে উপস্থিত থাকেন ই-ভিলেজ ডিভাইসের উদ্ভাবক ও বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রশিদুল হাসান। তিনি ডিভাইসটি ব্যবহার বিধি এবং এই ডিভাইস ব্যবহারে কৃষকরা কিভাবে উপকৃত হবেন এ বিষয়ে কৃষকদের সাথে মতবিনিময় করেন।

সম্প্রতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা জনাব সজীব ওয়াজেদ জয়ের উপস্থিতিতে CRI(Centre for Research and Information) আয়োজিত পলিসি ক্যাফেতে ই-ভিলিজের সুফল ও এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান তৈরির বিস্তারিত দিক নিয়ে রশীদুল হাসান আলোচনা করেন।

 

We will be happy to hear your thoughts

Leave a Reply

শখের কৃষি
Logo
Reset Password
Shopping cart