আখ চাষে সারের পরিমাণ, প্রয়োগের সময় ও পদ্ধতি

আখের ফলন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সারের প্রভাব সবচেয়ে বেশী। আখ জমিতে এক বছরের অধিক (১২-১৪ মাস) সময়ব্যাপি থাকে। আখের মোট উৎপাদন অন্যান্য ফসলের তুলনায় অনেক বেশী। ইহার খাদ্য চাহিদা অন্যান্য ফসলের তুলনায় বেশী। এক টন আখ উৎপাদন করতে আখ গাছ মাটি থেকে ০.৬৮ কেজি নাইট্রোজেন, ০.৫৬ কেজি ফসফরাস, ২.৫৫ কেজি পটাশিয়াম এবং ০.৩৫ কেজি সালফার গ্রহণ করা ছাড়াও আরো অনেক খাদ্য উপাদান গ্রহণ করে। বাংলাদেশে কৃষক পর্যায়ে সার প্রয়োগ প্রয়োজনের তুলনায় কম। ফলে আখের ফলন উৎপাদন ক্ষমতার চেয়ে অনেক কম। কাজেই আখের উচচ ফলন প্রাপ্তির জন্য জমিতে সঠিক পদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় মাত্রায় সার প্রয়োগ করা জরুরী।

বাংলাদেশের ইক্ষু বা আঁখ

বাংলাদেশের ইক্ষু বা আঁখ

আখের জমিতে সার প্রয়োগের পদ্ধতি ও সময়ঃ

বেলে মাটির জন্যঃ ইক্ষু রোপনের পূর্বে সম্পূর্ণ ফসফেট, জিপসাম, জিংক, ম্যাগনেসিয়াম এবং এক তৃতীয়াংশ ইউরিয়া ও অর্ধেক পটাশ সার নালায় প্রয়োগ করে কোদাল দ্বারা কুপিয়ে মাটির সাথে ভালভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। এক তৃতীয়াংশ ইউরিয়া ও অর্ধেক পটাশ সার ইক্ষুর কুশি উৎপাদন সময়ে (১২০-১৫০ দিনের মধ্যে) উপরি প্রয়োগ করতে হবে। এক তৃতীয়াংশ ইউরিয়া প্রথম উপরি প্রয়োগের এক মাস পরেই দ্বিতীয় দফায় উপরি প্রয়োগ করতে হবে।

আখ চাষে সার এটেল মাটির জন্যঃ

ইক্ষু রোপনের পূর্বে সম্পূর্ণ ফসফেট, জিপসাম, জিংক, ম্যাগনেসিয়াম এবং অর্ধেক ইউরিয়া ও অর্ধেক পটাশ সার নালায় প্রয়োগ করে কোদাল দ্বারা কুপিয়ে মাটির সাথে ভালভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। বাকী অর্ধেক ইউরিয়া ও পটাশ সার ইক্ষুর কুশি উৎপাদন সময়ে (১২০-১৫০ দিনের মধ্যে) উপরি প্রয়োগ করতে হবে।

আখ চাষে সার রোপা ইক্ষু ক্ষেতের জন্যঃ

ইক্ষু রোপনের পূর্বে সম্পূর্ণ ফসফেট, জিপসাম, জিংক, ম্যাগনেসিয়াম সার নালায় প্রয়োগ করে কোদাল দ্বারা হালকাভাবে কুপিয়ে মাটির সাথে ভালভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। ইউরিয়া ও পটাশ সার চারা রোপনের পূর্বে প্রয়োগ না করে রোপনের ২০-৩০ দিন পর অর্ধেক ইউরিয়া ও পটাশ সার চারা গোড়ায় প্রয়োগ করে মাটির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে।

মুড়ি ইক্ষুর জন্যঃ

মুড়ি আখের জন্য প্রতি হেক্টরে ৪০-৫০ কেজি নাইট্রোজেন সার বা ৮৭-১০৫ কেজি ইউরিয়া সার অতিরিক্ত হিসেবে প্রয়োগ করতে হবে এবং অন্যান্য সারের পরিমান অপরিবর্তিত থাকবে। এক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ফসফেট, জিপসাম, জিংক, ম্যাগনেসিয়াম এবং এক তৃতীয়াংশ ইউরিয়া ও অর্ধেক পটাশ সার নালায় প্রয়োগ করে কোদাল দ্বারা কুপিয়ে মাটির সাথে ভালভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। এক তৃতীয়াংশ ইউরিয়া ও অর্ধেক পটাশ সার ইক্ষুর কুশি উৎপাদন সময়ে (১২০-১৫০ দিনের মধ্যে) উপরি প্রয়োগ করতে হবে। এক তৃতীয়াংশ ইউরিয়া প্রথম উপরি প্রয়োগের এক মাস পরেই দ্বিতীয় দফায় উপরি প্রয়োগ করতে হবে।

সার উপরি প্রয়োগ (টপ ডেসিং) করার সময় নি¤েœ বর্নিত বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখতে হবে

১। সার উপরি প্রয়োগের সময় মাটিতে যেন পর্যাপ্ত রস থাকে।
২। ক্ষেতে আগাছা মুক্ত থাকা আবশ্যক এবং মাটি যেন নরম থাকে।
৩। সার প্রয়োগের পর পরই মাটির সাথে ভালভাবে মিশিয়ে দিতে হবে।

কৃষি পরিবেশ অঞ্চল ভিত্তিক আখের জমিতে সার ব্যবহারের পরিমাণঃ

ইক্ষুর উচ্চ ফলন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সারের প্রভাব সবচেয়ে বেশী। সঠিক সময়ে এবং নিয়মে সার প্রয়োগ করার মাধ্যমে একদিকে যেমন আখের ফলন বৃদ্ধি পায় অন্য দিকে তেমনি আখের মধ্যে চিনি ও গুড়ের পরিমাণও বৃদ্ধি পায়। বিএআরসি কর্তৃক প্রকাশিত ’ফার্টিলাইজার রিকমেন্ডশন গাইড-২০১২’ এর ভিত্তিতে বিভিন্ন কৃষি পরিবেশ অঞ্চলের জন্য অনুমোদিত সারের মাত্রা উল্লেখ করা হলোঃ

ম্যাগ.

আখের জমিতে ‣জব সার প্রয়োগ
জমির উর্বরতা ও আখের ফলনশীলতা সংরক্ষণের জন্য হেক্টর প্রতি ১২.৫-১৫.০ টন গোবর/প্রেসমাড, ১০ টন পোলট্রি লিটার অথবা ৫০০ কেজি ঙ্খল ক্সজব সার হিসাবে আখ রোপনের ৫-৭ দিন পুর্বে নালায় প্রয়োগ করে মাটির সাথে ভালভাবে মিশিয়ে দিতে হবে অথবা ক্সজব সার জমিতে শেষ চাষের আগে প্রয়োগ করা যেতে পারে।

আখ ফসলে সুষম সার প্রয়োগে করণীয়ঃ

১. আখের সাথে সবুজ সারের চাষ করে মাটিতে ১২-১৫ টন/ হেক্টর সবুজ ক্সজব বস্তু যোগ করা গেলে সেখানে চাষকৃত পরবর্তী ফসলে নাইট্রোজেনের পরিমান ২৫-৩০ কেজি/হেক্টর কম দেওয়া যেতে পারে।
২. যদি ফসলের জমিতে ২-৪ টন/হেক্টর ফসলের অবশিষ্টাংশ যোগ করা যায় তবে পটাশিয়াম সারের পরিমান ২০-৪০% কম প্রয়োগ করলেও চলবে।

We will be happy to hear your thoughts

Leave a Reply

Logo
Reset Password
Compare items
  • Total (0)
Compare
0